শিব্বীর আহমেদ, ওয়াশিংটন ডিসি: হরমুজ প্রণালীর আন্তর্জাতিক জলসীমা থেকে সব জলমাইন সরিয়ে ফেলা হয়েছে অথবা বিস্ফোরণ ঘটিয়ে নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে বলে ঘোষণা দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একই সঙ্গে প্রণালীতে নতুন করে কোনো জলমাইন স্থাপনের চেষ্টা করা হলে সংশ্লিষ্ট নৌযান ধ্বংস করার কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।
মঙ্গলবার দেওয়া এক বার্তায় ট্রাম্প জানান, যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনী তাকে নিশ্চিত করেছে যে হরমুজ প্রণালীর আন্তর্জাতিক জলসীমায় থাকা সব জলমাইন সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। কিছু জলমাইন বিস্ফোরণ ঘটিয়ে নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে বলেও তিনি জানান। ট্রাম্প বলেন, কোনো নৌযান হরমুজ প্রণালীর আন্তর্জাতিক জলসীমায় নতুন করে জলমাইন স্থাপনের চেষ্টা করলে সেটিকে তাৎক্ষণিকভাবে এবং কঠোরভাবে ধ্বংস করা হবে। তিনি এ বিষয়ে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না বলেও সতর্ক করেন।
গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে যুক্তরাষ্ট্রের অভিযান
হরমুজ প্রণালী পারস্য উপসাগর ও ওমান উপসাগরকে যুক্ত করেছে। বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথ দিয়ে বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল পরিবহন করা হয়। যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনী কয়েক মাস ধরে প্রণালীর প্রধান জাহাজ চলাচলের পথ থেকে জলমাইন অপসারণের কাজ চালিয়ে আসছিল। অভিযান চলাকালে তেলবাহী জাহাজগুলোকে ওমানের কাছাকাছি দক্ষিণের একটি নৌপথ দিয়ে চলাচলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। যুক্তরাষ্ট্রের দুই কর্মকর্তা প্রধান নৌপথ থেকে জলমাইন সরিয়ে ফেলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। ট্রাম্প আরও বলেছেন, পুরো প্রণালীর ওপর নজরদারি অব্যাহত রয়েছে। নতুন করে কোনো হুমকি তৈরি হলে তা শনাক্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতিও রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের।
তেল পরিবহনে বড় প্রভাব
হরমুজ প্রণালীর নিরাপত্তা নিয়ে চলমান সংকটের কারণে এই পথে তেল পরিবহন উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। যুদ্ধের আগে প্রতিদিন এই প্রণালী দিয়ে ২ কোটি ব্যারেলের বেশি তেল পরিবহন হলেও বর্তমানে তা প্রায় ৫০ লাখ ব্যারেলে নেমে এসেছে বলে রয়টার্স জানিয়েছে। ফলে প্রণালীতে আবার জলমাইন স্থাপন বা নৌযান চলাচলে বাধা সৃষ্টি হলে আন্তর্জাতিক তেলবাজারে নতুন করে অস্থিরতা তৈরি হতে পারে। একই সঙ্গে জ্বালানি ও পণ্য পরিবহনের ব্যয়ও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
ইরান-ওমানের আলোচনাও চলছে
এর মধ্যেই হরমুজ প্রণালী দিয়ে বাণিজ্যিক নৌযান চলাচল নিয়ন্ত্রণে ইরান ও ওমানের মধ্যে আলোচনা শুরু হয়েছে। দুই দেশ ধাপে ধাপে নৌযান চলাচলের ব্যবস্থা, একটি অস্থায়ী নৌপথ এবং জলমাইন অপসারণের বিষয় নিয়ে আলোচনা করছে। তবে এখনো কোনো চূড়ান্ত সমঝোতা হয়নি। ইরান ও ওমানের এই আলোচনা এমন সময়ে হচ্ছে, যখন হরমুজ প্রণালীকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সামরিক ও কূটনৈতিক উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ হিসেবে হরমুজ প্রণালীর নিরাপত্তা এখন আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি বাজারের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ট্রাম্পের সর্বশেষ হুঁশিয়ারি থেকে স্পষ্ট, প্রণালীতে নতুন করে কোনো সামরিক বাধা সৃষ্টি হলে যুক্তরাষ্ট্র কঠোরভাবে তা মোকাবিলা করতে প্রস্তুত।