শিব্বীর আহমেদ, ওয়াশিংটন ডিসি: যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে মেইল ভোটের ওপর প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আরোপ করা বিধিনিষেধ কার্যকরের পথে আংশিক ছাড় দিয়েছে দেশটির সুপ্রিম কোর্ট। সোমবার ৬–৩ ভোটে দেওয়া এক আদেশে আদালত ট্রাম্প প্রশাসনের নির্বাহী আদেশের কয়েকটি অংশের ওপর নিম্ন আদালতের দেওয়া নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়।
তবে সুপ্রিম কোর্ট ট্রাম্পের পুরো নির্বাহী আদেশকে আইনসম্মত বা সাংবিধানিক বলে রায় দেয়নি। আদালত মূলত বলেছে, যেসব অঙ্গরাজ্য এই আদেশের বিরুদ্ধে মামলা করেছে, তারা এ পর্যায়ে এমন সরাসরি ক্ষতির প্রমাণ দেখাতে পারেনি, যার ভিত্তিতে নিম্ন আদালত আদেশটির ওই অংশগুলো কার্যকর বন্ধ রাখতে পারে। ফলে আদেশের কয়েকটি বিষয় আপাতত এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ পেল ট্রাম্প প্রশাসন।
ট্রাম্পের মার্চে জারি করা নির্বাহী আদেশের আওতায় যুক্তরাষ্ট্রের স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা বিভাগকে প্রতিটি অঙ্গরাজ্যের ভোট দেওয়ার যোগ্য মার্কিন নাগরিকদের তালিকা তৈরির নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। একই সঙ্গে ভোট দেওয়ার অযোগ্য ব্যক্তিদের কাছে ব্যালট পাঠানোর অভিযোগে অঙ্গরাজ্য ও স্থানীয় নির্বাচনী কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি ব্যবস্থা নেওয়াকে অগ্রাধিকার দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।
আদেশটির আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অংশে ডাক বিভাগকে মেইলে পাঠানো ব্যালটের জন্য নতুন খাম, চিহ্ন ও বারকোড ব্যবস্থার বিষয়ে বিধিমালা তৈরির নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। সুপ্রিম কোর্টের সোমবারের সিদ্ধান্তে এসব ব্যবস্থার কিছু অংশ এগিয়ে নেওয়ার পথ খুলেছে।
তবে মেইলে ভোট দেওয়ার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বিতর্কিত অংশটি—সরকারি তালিকায় ভোটারের নাম না থাকলে ডাক বিভাগ যেন সেই ভোটারের ব্যালট গ্রহণ বা পৌঁছে না দেয়—এখনো অন্য একটি মামলায় আদালতের নিষেধাজ্ঞার আওতায় রয়েছে। ফলে এই মুহূর্তে ট্রাম্প প্রশাসন মেইল ভোট ব্যবস্থায় তার প্রস্তাবিত সব পরিবর্তন কার্যকর করতে পারছে না।
নভেম্বরে অনুষ্ঠেয় মধ্যবর্তী নির্বাচনের মাত্র কয়েক মাস আগে সুপ্রিম কোর্টের এই সিদ্ধান্তের ফলে যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনী ব্যবস্থায় নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। নির্বাচনী কর্মকর্তারা বলছেন, এত অল্প সময়ে মেইল ভোটের নিয়মে বড় ধরনের পরিবর্তন বাস্তবায়ন করা জটিলতা তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে বিদেশে অবস্থানরত মার্কিন নাগরিক ও সামরিক বাহিনীর সদস্যদের ব্যালট পাঠানোর কার্যক্রম সেপ্টেম্বরের শুরুতেই শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।
ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষে এই সিদ্ধান্ত গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ও আইনি অগ্রগতি হিসেবে বিবেচিত হলেও বিরোধী অঙ্গরাজ্য ও ভোটাধিকার সংগঠনগুলো লড়াই চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। তাদের অভিযোগ, ফেডারেল সরকারের এই উদ্যোগ অঙ্গরাজ্যগুলোর নির্বাচনী ব্যবস্থায় অতিরিক্ত হস্তক্ষেপ তৈরি করতে পারে এবং কিছু ভোটারের ভোটাধিকার প্রয়োগে বাধা সৃষ্টি করতে পারে।
সুপ্রিম কোর্টের সিদ্ধান্তে তাই ট্রাম্প প্রশাসন সাময়িকভাবে এগিয়ে গেলেও মেইল ভোট নিয়ে আইনি লড়াই শেষ হয়নি। আগামী নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে এই বিষয়ে আরও আদালত-লড়াই এবং নতুন সিদ্ধান্ত আসার সম্ভাবনা রয়েছে।


