শিব্বীর আহমেদ, ওয়াশিংটন ডিসি: যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় ঋণ প্রথমবারের মতো ৪০ ট্রিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে। ইতিহাসের এই নজিরবিহীন ঋণের বোঝা কমাতে দ্রুত অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির ওপর জোর দিচ্ছে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। তবে অর্থনীতিবিদ ও আর্থিক বাজারের বিশ্লেষকেরা প্রশ্ন তুলছেন—শুধু অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির ওপর নির্ভর করে এত বিশাল ঋণের বোঝা কমানো আদৌ সম্ভব কি না।
ট্রেজারি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় ঋণ এখন ৪০ ট্রিলিয়ন ডলারের বেশি। এর মধ্যে প্রায় ৩২.৩ ট্রিলিয়ন ডলার জনগণের হাতে থাকা সরকারি ঋণপত্র এবং আরও প্রায় ৭.৮ ট্রিলিয়ন ডলার সরকারি বিভিন্ন তহবিলের মধ্যে থাকা ঋণ।
ট্রেজারি Secretary স্কট বেসেন্টের বক্তব্য, যুক্তরাষ্ট্রকে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির মাধ্যমে ঋণের বোঝা সামাল দিতে হবে। প্রশাসনের যুক্তি হলো, অর্থনীতির আকার দ্রুত বাড়াতে পারলে জাতীয় আয়ের তুলনায় ঋণের অনুপাত কমানো সম্ভব হবে এবং সরকারের রাজস্বও বাড়বে।
কিন্তু এই পরিকল্পনা নিয়ে অর্থনীতিবিদদের মধ্যে যথেষ্ট সংশয় রয়েছে। তাঁদের মতে, বর্তমান বাজেট ঘাটতি, ঋণের সুদ পরিশোধের ক্রমবর্ধমান ব্যয় এবং সরকারি ব্যয়ের কাঠামোগত চাপ বিবেচনায় শুধু প্রবৃদ্ধি দিয়ে ঋণের সমস্যার সমাধান করা কঠিন।
যুক্তরাষ্ট্রের ঋণ বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে সরকারের সুদ পরিশোধের ব্যয়ও দ্রুত বাড়ছে। ঋণের সুদ এখন কেন্দ্রীয় সরকারের সবচেয়ে বড় ব্যয়গুলোর অন্যতম হয়ে উঠেছে। এর ফলে ভবিষ্যতে শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, অবকাঠামো ও অন্যান্য সরকারি কর্মসূচিতে অর্থ বরাদ্দের ওপরও চাপ বাড়তে পারে।
ঋণের চাপ ইতোমধ্যে মার্কিন বন্ড বাজারেও প্রভাব ফেলছে। দীর্ঘমেয়াদি মার্কিন ট্রেজারি বন্ডের সুদের হার বেড়েছে, যা সরকারের নতুন ঋণ নেওয়ার খরচ আরও বাড়িয়ে দিতে পারে। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, শুধু সুদের হার কমানোর কৌশল দিয়ে সমস্যার সমাধান হবে না; দীর্ঘমেয়াদি বাজেট ঘাটতি কমানোর বিশ্বাসযোগ্য পরিকল্পনাও প্রয়োজন।
এদিকে ট্রাম্প প্রশাসনের প্রবৃদ্ধিনির্ভর পরিকল্পনা নিয়ে সমালোচকেরা বলছেন, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ঋণের তুলনায় দ্রুত না বাড়লে ঋণের বোঝা কমার পরিবর্তে আরও বাড়তে পারে। একটি সাম্প্রতিক বিশ্লেষণে অর্থনীতিবিদেরা সতর্ক করেছেন, বর্তমান ঘাটতি ও সুদের ব্যয় বিবেচনায় শুধু প্রবৃদ্ধির ওপর নির্ভর করে ৪০ ট্রিলিয়ন ডলারের ঋণ সংকট কাটিয়ে ওঠা অত্যন্ত কঠিন।
জাতীয় ঋণ ৪০ ট্রিলিয়ন ডলার ছাড়ানোর ঘটনা এমন এক সময়ে ঘটল, যখন যুক্তরাষ্ট্রের সরকার একই সঙ্গে বাণিজ্যনীতি, প্রতিরক্ষা ব্যয়, করনীতি এবং সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি নিয়ে বড় ধরনের সিদ্ধান্তের মুখোমুখি। ফলে আগামী বছরগুলোতে ওয়াশিংটনের জন্য ঋণ নিয়ন্ত্রণ অন্যতম বড় অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, প্রবৃদ্ধি বাড়ানোর পাশাপাশি সরকারি ব্যয় নিয়ন্ত্রণ, রাজস্ব বৃদ্ধি এবং দীর্ঘমেয়াদি বাজেট ঘাটতি কমানোর উদ্যোগ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের ঋণের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা থামানো কঠিন হবে।


