শিব্বীর আহমেদ, ওয়াশিংটন ডিসি: সৌদি আরবের সঙ্গে বেসামরিক পারমাণবিক সহযোগিতা চুক্তি অনুমোদনের জন্য মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন আনুষ্ঠানিকভাবে চুক্তিটি কংগ্রেসে পাঠিয়েছে। তবে চুক্তিটি কার্যকর হওয়ার ক্ষেত্রে সৌদি আরবকে ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করে আব্রাহাম অ্যাকর্ডসে যোগ দেওয়ার শর্তে অনড় রয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন।

যুক্তরাষ্ট্রের অ্যাটমিক এনার্জি এক্ট (Atomic Energy Act) অনুযায়ী, চুক্তিটি এখন কংগ্রেসের পর্যালোচনার আওতায় পড়েছে। আইন অনুযায়ী কংগ্রেসের হাতে ৯০ দিন সময় রয়েছে চুক্তিটি পর্যালোচনা ও প্রত্যাখ্যানের জন্য। এই সময়ের মধ্যে কংগ্রেস যৌথ প্রস্তাবের মাধ্যমে চুক্তিটি বাতিল না করলে এটি কার্যকর হতে পারে।

গত মাসে ওয়াশিংটনে যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরবের জ্বালানি কর্মকর্তারা চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন। চুক্তির আওতায় সৌদি আরবের বেসামরিক পারমাণবিক কর্মসূচির উন্নয়নে মার্কিন কোম্পানিগুলো অংশ নিতে পারবে। প্রস্তাবিত চুক্তিটির মেয়াদ ৩০ বছর হতে পারে।

তবে ট্রাম্পের ইসরায়েল-সম্পর্কিত শর্তটি চুক্তির ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে। সৌদি আরব দীর্ঘদিন ধরে বলে আসছে, ইসরায়েলের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্বাভাবিক করার আগে ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার দিকে একটি বিশ্বাসযোগ্য অগ্রগতি দেখতে হবে। অন্যদিকে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার ধারণার বিরোধিতা করে আসছেন।

চুক্তিটি নিয়ে মার্কিন কংগ্রেসের কিছু সদস্য ও পারমাণবিক বিস্তার রোধ বিশেষজ্ঞদের উদ্বেগও রয়েছে। বিশেষ করে সৌদি আরবকে ভবিষ্যতে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের সুযোগ দেওয়া হলে মধ্যপ্রাচ্যে পারমাণবিক অস্ত্র প্রতিযোগিতার ঝুঁকি বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

মূল বিষয়: ট্রাম্প প্রশাসন একদিকে সৌদি আরবের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি বেসামরিক পারমাণবিক সহযোগিতা এগিয়ে নিতে চাইছে, অন্যদিকে সেটিকে ইসরায়েলের সঙ্গে সৌদি সম্পর্ক স্বাভাবিক করার কূটনৈতিক লক্ষ্যের সঙ্গে যুক্ত করেছে। ফলে চুক্তিটির পরবর্তী গন্তব্য এখন কংগ্রেস এবং একই সঙ্গে রিয়াদের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে।