ভারতের ক্ষমতাসীন বিজেপির আদর্শিক পিতৃসংগঠন রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ-আরএসএসের একটি অনুষ্ঠানকে ঘিরে বিতর্ক শুরু হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রে।
আগামী শনিবার নিউইয়র্কের আইকনিক ম্যাডিসন স্কয়ার গার্ডেন-এমএসজির একটি অনুষ্ঠানে আরএসএস প্রধান মোহন ভাগবতের বক্তব্য দেওয়ার কথা রয়েছে।
এদিকে আরএসএসের আয়োজনের বিরোধিতাকারী, বিশেষ করে জোহরান মাসদানির তীব্র সমালোচনা করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের গায়িকা ও অভিনেত্রী ম্যারি মিলবেন। আফ্রিকান-আমেরিকান গায়িকা মিলবেন এক্স-এর (সাবেক টুইটার) একটি পোস্টে লিখেছেন, ‘মামদাদি ও সমাজতান্ত্রিক পাগলরা মোহন ভাগবতের ম্যাডিসন স্কয়ার গার্ডেনের অনুষ্ঠানের বিরোধিতা করছে, কারণ তারা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং বিজেপির বিরোধিতা করে।’
ভাগবতের বিরোধিতাকারীদের রাজনৈতিক মতাদর্শের বিরোধিতা করে তিনি লেখেন, ‘যেহেতু এই পাগলরা সমাজতন্ত্রের আদর্শে বিশ্বাসী, তাই তারা পুঁজিবাদ বোঝে না।
তিনি আরো যোগ করেন, ‘এমএসজি সমাজতান্ত্রিক বাগাড়ম্বরের জবাব দেয় না। তারা পুঁজিবাদের জবাব দেয়। আর তাই এ অনুষ্ঠানটি যথারীতি চলবে।’
৪১ বছর বয়সী গায়িকা মিলবেন ২০২৩ সালে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির যুক্তরাষ্ট্র সফরের সময় ওয়াশিংটনের রোনাল্ড রেগান বিল্ডিংয়ে তার ভাষণের আগে ভারতের জাতীয় সংগীত গেয়েছিলেন।
তিনি আরো যোগ করেন, “আমার সমাবেশের নাম ‘একত্ব’ পছন্দ হয়েছে। আমরা সবাই এক পরিবার। আমি আশা করি, এই সমাবেশে ভারতের ধর্মীয় স্বাধীনতা নিয়ে অর্থপূর্ণ আলোচনা অন্তর্ভুক্ত থাকবে।’
হলিউডের গায়িকা ও অভিনেত্রী মিলবেন ভারতের জাতীয় সংগীত ‘জন গণ মন’ এবং ‘ওম জয় জগদীশ হরে’ গাওয়ার জন্য ভারতে অত্যন্ত জনপ্রিয়।
আরএসএস অনুষ্ঠানের ওয়েবসাইট অনুযায়ী আগামী শনিবারের সমাবেশটিকে ‘সর্বজনীন একত্ব উদযাপন’ হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে, যা হিন্দু আমেরিকান সম্প্রদায়কে একত্রিত করবে।
আয়োজক সংস্থা ‘আমেরিকান হিন্দুস ফর এনগেজমেন্ট অ্যান্ড ডায়ালগ’ জানিয়েছে, অনুষ্ঠানটি বেশ কয়েকটি হিন্দু আমেরিকান গোষ্ঠীর সমর্থনপুষ্ট এবং এটি যৌথ ঐতিহ্য ও আন্তঃধর্মীয় সম্প্রীতিকে উৎসাহিত করে। নিউইয়র্কের মেয়র মামদানী স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, তিনি এই অনুষ্ঠানটিকে সমর্থন করেন না। অনুষ্ঠানটি বাতিল করা উচিত কি না জানতে চাওয়া হলে নিউইয়র্ক সিটির প্রথম মুসলিম ও ভারতীয়-আমেরিকান মেয়র মামদানী বলেন, ‘আমি এই সমাবেশকে সমর্থন করি না, তবে একটি ব্যক্তিগত অনুষ্ঠান বাতিল করার ব্যাপারে শহরের কোনো এখতিয়ার বা আইনি অধিকার আছে কিনা তা আমার জানা নেই।’
তিনি আরো বলেন, ‘আমার পরিবার আমাকে ভারতের যে রূপটি শিখিয়েছে এবং যেটির সঙ্গে আমি বড় হতে হতে পরিচিত হয়েছি, তা ছিল একটি ধর্মনিরপেক্ষ প্রজাতন্ত্রের বহুত্ববাদী সমাজ, যা ভারত থেকে আসা প্রতিটি মানুষের আপন করে নেওয়ায় বিশ্বাসী ছিল। আর বর্তমানের এমন একটি আন্দোলনের উত্থান দেখা অত্যন্ত উদ্বেগজনক, যা একটি বর্জনীয় বা একচেটিয়া ভাবধারার ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে।’
ভাগবতের উপস্থিতি এবং আরএসএসের ইতিহাসের কারণে অনেক স্থানীয় সংগঠন অনুষ্ঠানটির আয়োজকদের সমালোচনা করেছে।


