শিব্বীর আহমেদ, ওয়াশিংটন ডিসি — যুক্তরাষ্ট্রে মেইল-ইন ভোটের ওপর নতুন বিধিনিষেধ কার্যকরের প্রচেষ্টা ফের আইনি বাধার মুখে পড়েছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের নতুন নিয়ম বাস্তবায়ন স্থগিত করে দিয়েছেন আরেক ফেডারেল বিচারক। নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচন সামনে রেখে এটি প্রশাসনের জন্য দ্বিতীয় বড় আইনি ধাক্কা।

ওয়াশিংটন ডিসির ফেডারেল জেলা আদালতের বিচারক কার্ল জে. নিকোলস রোববার এক প্রাথমিক নিষেধাজ্ঞার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের ডাক বিভাগের (USPS) নতুন নিয়ম কার্যকর করা আটকে দেন। এর আগে ৪ সেপ্টেম্বর বোস্টনের ফেডারেল বিচারক ইন্দিরা তালওয়ানিও একই নিয়মের বাস্তবায়ন বন্ধ করেছিলেন।

নতুন বিধিনিষেধ অনুযায়ী, মেইল-ইন ব্যালট ব্যবহারের ক্ষেত্রে অঙ্গরাজ্যগুলোকে ভোটারদের যোগ্যতা-সংক্রান্ত তথ্য ডাক বিভাগের কাছে জমা দিতে হতো। পাশাপাশি ব্যালটের খামে নির্দিষ্ট নকশা ও স্বতন্ত্র বারকোড ব্যবহারের মতো নতুন শর্ত আরোপের কথা ছিল।

ট্রাম্প প্রশাসনের যুক্তি, এসব ব্যবস্থা মেইল-ইন ভোটের নিরাপত্তা বাড়াবে এবং ভোটার ও ব্যালট যাচাইয়ের প্রক্রিয়া আরও কঠোর করবে। তবে এর বিরোধীরা বলছেন, নির্বাচন পরিচালনার ক্ষেত্রে ফেডারেল সরকারের এমন নিয়ন্ত্রণ আরোপের সাংবিধানিক ক্ষমতা নেই। নতুন নিয়ম বাস্তবায়ন করলে বৈধ ভোটও বাতিল হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে বলে তারা সতর্ক করেছেন।

বিচারক নিকোলস, যিনি ট্রাম্পের নিয়োগপ্রাপ্ত, তার আদেশে বলেছেন—ডাক বিভাগ তার আইনগত ক্ষমতার সীমা অতিক্রম করেছে এবং নতুন নিয়ম কার্যকর হলে কিছু ভোটারের জন্য মেইল-ইন ভোট দেওয়া আরও কঠিন হয়ে যেতে পারে।

এদিকে ট্রাম্প প্রশাসন ইতোমধ্যে সুপ্রিম কোর্টের হস্তক্ষেপ চেয়েছে। বোস্টনের বিচারকের আগের আদেশ বাতিল করে নতুন নিয়ম কার্যকর করার অনুমতি দেওয়ার জন্য প্রশাসন সর্বোচ্চ আদালতের কাছে আবেদন করেছে। ফলে মেইল-ইন ভোট নিয়ে চলমান আইনি লড়াইয়ে সুপ্রিম কোর্টের সিদ্ধান্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

যুক্তরাষ্ট্রের ৫০টি অঙ্গরাজ্যেই কোনো না কোনোভাবে মেইল-ইন ভোটের ব্যবস্থা রয়েছে, যদিও রাজ্যভেদে নিয়ম ও সুযোগ ভিন্ন। নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচন যত এগিয়ে আসছে, নতুন বিধিনিষেধ কার্যকর হবে কি না—তা নিয়ে আইনি ও রাজনৈতিক লড়াইও তত তীব্র হচ্ছে।