মেয়েদের এশিয়া কাপ ফাইনালে শ্রীলঙ্কাকে ৭২ রানে হারিয়ে রেকর্ড অষ্টমবারের মতো শিরোপা জিতেছে ভারত। কিন্তু দুবাইয়ে কাল আনন্দঘন রাতে অদ্ভুত এক পরিস্থিতি তৈরি করেছে হারমানপ্রীত কৌরের দল।

এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিলের (এসিসি) সভাপতি ও পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) চেয়ারম্যান মহসিন নাকভির কাছ থেকে ট্রফি না নিয়েই মাঠ ছেড়েছে তারা।

 

দুবাই আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে ভারতের ১৮৩ রানের জবাবে শ্রীলঙ্কা ১১১ রানে গুটিয়ে যায়। শেফালি ভার্মার ৬৮ ও স্মৃতি মান্ধানার ৫৯ রানের দুর্দান্ত ইনিংসের পর বল হাতে ৪ উইকেট নিয়ে ভারতকে বড় জয় এনে দেন শ্রী চরণী।

তবে ম্যাচ শেষ হওয়ার পর শুরু হয় নাটক।

প্রায় ৪০ মিনিট দেরিতে পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান শুরু হয়। শ্রীলঙ্কার অধিনায়ক চামারি আতাপাত্তু নাকভির কাছ থেকে রানার্সআপের চেক নিলেও ভারতীয় খেলোয়াড়েরা বিজয়ী দলের পদক ও ট্রফি নিতে অস্বীকৃতি জানান। অনুষ্ঠান শেষ হয় চ্যাম্পিয়ন দলের অনুপস্থিতিতেই।

 

অথচ ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিসিআই) সহসভাপতি রাজীব শুক্লা ও সচিব দেবজিৎ সাইকিয়া ভিআইপি গ্যালারিতে মহসিন নাকভির কাছাকাছি বসে খেলা দেখেন।

এমনকি নাকভির সঙ্গে সাইকিয়াকে কথা বলতে এবং কোনো এক বিষয় নিয়ে হাসতে দেখা যায়। কিন্তু পুরস্কার বিতরণীতে শুরু হয় নাটক। ট্রফি নিতে মঞ্চে ওঠেনি ভারতীয় দল। 

 

বিষয়টি নিয়ে ভারত নারী দলের প্রধান কোচ অমল মজুমদার বলেন, ‘এই অবস্থান বিসিসিআই নিয়েছে এবং আমরা এর পাশে আছি। আমাদের জন্য এই টুর্নামেন্ট শেষ।

আমরাই চ্যাম্পিয়ন।’ তিনি আরো বলেন, ‘বড় পর্দায় লেখা ছিল ভারত এশিয়া কাপ ২০২৬-এর চ্যাম্পিয়ন। এখন আমরা এশিয়ান গেমসের দিকে তাকিয়ে আছি।’

 

এর আগে গত বছর ছেলেদের এশিয়া কাপের ফাইনালেও একই অবস্থান নিয়েছিল ভারত। চ্যাম্পিয়ন হয়েও নাকভির কাছ থেকে ট্রফি নেননি সূর্যকুমার-বুমরাহ-তিলক-অভিষেকরা। সেবারও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান দীর্ঘ সময় আটকে ছিল। এবার নারী দলও সেই পথেই হাঁটল।

গত বছর কাশ্মীরের পেহেলগামে হামলার জেরে ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে নতুন করে সামরিক সংঘাত শুধু হয়। পরে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও দুই দেশের রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক দূরত্ব এখনো ঘোচেনি। 

মহসিন নাকভি শুধু এসিসির সভাপতি ও পিসিবির চেয়ারম্যানই নন; পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীও। তাই নরেন্দ্র মোদির সরকার পাকিস্তানের কোনো শীর্ষ রাজনৈতিক নেতার হাত থেকে ভারতীয় দলকে ট্রফি গ্রহণ না করার নির্দেশ দিয়েছে।

গত বছরের ঘটনার পর ছেলেদের এশিয়া কাপের ট্রফিটি এখনো ভারতের কাছে পৌঁছায়নি। সেটি দুবাইয়ে এসিসির কার্যালয়েই রয়েছে। এবার মেয়েদের ট্রফিও সেখানে ফিরিয়ে নেওয়া হয়েছে।