শিব্বীর আহমেদ, হিউস্টন, টেক্সাস: চাঁদ প্রদক্ষিণ করে ঐতিহাসিক মহাকাশ অভিযান সম্পন্ন করা নাসার আর্টেমিস-২ মিশনের চার মহাকাশচারীকে যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম সর্বোচ্চ মহাকাশ সম্মাননা কংগ্রেশনাল স্পেস মেডেল অব অনার প্রদান করেছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
শুক্রবার টেক্সাসের হিউস্টনে নাসার জনসন স্পেস সেন্টারে এক অনুষ্ঠানে ট্রাম্প আর্টেমিস-২ মিশনের কমান্ডার রিড ওয়াইজম্যান, ভিক্টর গ্লোভার, ক্রিস্টিনা কোচ এবং কানাডিয়ান মহাকাশচারী জেরেমি হ্যানসেনের হাতে এই সম্মাননা তুলে দেন। হোয়াইট হাউসের প্রকাশিত ভিডিও ও বক্তব্য অনুযায়ী, অনুষ্ঠানটি প্রেসিডেন্টের উপস্থিতিতেই অনুষ্ঠিত হয়।
আর্টেমিস-২ মিশন মানব মহাকাশ অভিযানের ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। ২০২৬ সালের এপ্রিলে সম্পন্ন হওয়া এই মিশনের মাধ্যমে চার মহাকাশচারী চাঁদের চারপাশে ভ্রমণ করেন। এটি ছিল পাঁচ দশকেরও বেশি সময় পর মানুষের চাঁদের এত কাছাকাছি যাওয়ার ঘটনা এবং নাসার ওরিয়ন মহাকাশযানের প্রথম মানববাহী চন্দ্র অভিযান। মিশন চলাকালে তারা পৃথিবী থেকে মানুষের সর্বোচ্চ দূরত্বে পৌঁছানোর নতুন রেকর্ডও তৈরি করেন।
আর্টেমিস-২ মিশনে ওয়াইজম্যান, গ্লোভার ও কোচ নাসার মহাকাশচারী হিসেবে এবং হ্যানসেন কানাডিয়ান স্পেস এজেন্সির প্রতিনিধি হিসেবে অংশ নেন। এই মিশনকে নাসার দীর্ঘমেয়াদি চন্দ্র অভিযানের গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তুতি হিসেবে দেখা হচ্ছে।
অনুষ্ঠানে ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ কর্মসূচির ভবিষ্যৎ নিয়েও কথা বলেন। একই সফরে তিনি একটি নতুন ইউএস স্পেস একাডেমি প্রতিষ্ঠার জন্য নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করেন। প্রতিষ্ঠানটি মহাকাশ খাতের জন্য নতুন প্রজন্মের পেশাজীবী তৈরিতে কাজ করবে এবং নাসা, ইউএস স্পেস ফোর্স ও বেসরকারি মহাকাশ খাতের সঙ্গে সমন্বয়ের লক্ষ্য থাকবে।
কংগ্রেশনাল স্পেস মেডেল অব অনার যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ কর্মসূচির সঙ্গে যুক্ত অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ বেসামরিক সম্মাননা। অসাধারণ সাফল্য ও জাতির মহাকাশ কর্মসূচিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে এটি প্রদান করা হয়।
আর্টেমিস কর্মসূচির পরবর্তী ধাপে যুক্তরাষ্ট্র আবারও চাঁদে মানুষ পাঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে। নাসার পরিকল্পনায় ভবিষ্যৎ মিশনের মাধ্যমে চন্দ্রপৃষ্ঠে দীর্ঘমেয়াদি মানব উপস্থিতির ভিত্তি গড়ে তোলার পাশাপাশি পরবর্তী পর্যায়ে মঙ্গল অভিযানের প্রস্তুতিও এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।


