শিব্বীর আহমেদ, জ্যাকসন হাইটস, নিউইয়র্ক: যথাযোগ্য মর্যাদায় নিউইয়র্কের জ্যাকসন হাইটসে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৫১তম মৃত্যুবার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে শোকসভা, দোয়া মাহফিল, রক্তদান কর্মসূচি এবং তবারক বিতরণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (১৫ আগস্ট) জ্যাকসন হাইটসের ৩৭-২২, ৭৩ স্ট্রিটে নবান্ন রেস্টুরেন্টের সামনে জ্যাকসন হাইটস এলাকাবাসীর উদ্যোগে দিনব্যাপী এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। দুপুর ১টা থেকে রক্তদান কর্মসূচি এবং বিকেল ৩টা থেকে খাবার ও জায়নামাজ বিতরণ শুরু হয়।

অনুষ্ঠানের শুরুতে আগস্ট মাসে নিহতদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করে দোয়া ও মুনাজাত করা হয়। দোয়া পরিচালনা করেন ইমাম কাজী কাইয়ুম। দোয়া-মুনাজাত শেষে উপস্থিত মানুষের মধ্যে খাবার ও জায়নামাজ বিতরণ করা হয়। আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, কর্মসূচিতে পাঁচটি গরু জবাই করা হয় এবং প্রায় দেড় হাজার মানুষের মধ্যে খাবার ও তবারক বিতরণ করা হয়। পাশাপাশি মানুষের মধ্যে জায়নামাজও বিতরণ করা হয়। এছাড়াও তাজা আমের জুস বানিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে বিতরণ করা হয়।  অনুষ্ঠানের প্রধান সমন্বয়ক শাহ জে চৌধুরী জানান, রক্তদান কর্মসূচিতে প্রায় ৪০ জন স্বেচ্ছায় রক্তদান করেন।

অনুষ্ঠানে জ্যাকসন হাইটস এলাকাবাসীর সভাপতি সাকিল মিয়া, সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আলম নমি, আহ্বায়ক মীর নিজামুল হক, সদস্য সচিব মামুন মিয়াজী, চেয়ারম্যান রেদোয়ানুল হক ও প্রধান সমন্বয়ক শাহ জে চৌধুরীসহ সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে বক্তারা ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের হত্যাকাণ্ডের কথা স্মরণ করেন। তাঁরা আগস্ট মাসে নিহত সবার আত্মার মাগফেরাত কামনা করেন এবং বাংলাদেশের ইতিহাসে ১৫ আগস্টের ঘটনাকে গভীর শোক ও বেদনার সঙ্গে স্মরণ করেন।

উল্লেখ্য, ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যা করা হয়। ওই হত্যাকাণ্ডে বঙ্গবন্ধুর পরিবারের সদস্য ও নিকটাত্মীয়সহ অনেকে নিহত হন। বঙ্গবন্ধুর দুই কন্যা শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা সে সময় বিদেশে অবস্থান করায় প্রাণে বেঁচে যান। একই সময় বঙ্গবন্ধুর ভাগনে শেখ ফজলুল হক মনি, তাঁর অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী আরজু মনি এবং আবদুর রব সেরনিয়াবাতের পরিবারের সদস্যদেরও হত্যা করা হয়। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর বাংলাদেশে ১৫ আগস্টের জাতীয় শোক দিবস ও সরকারি ছুটি বাতিল করা হয়। এরপরও নিউইয়র্কের জ্যাকসন হাইটসের প্রবাসী বাংলাদেশিদের উদ্যোগে বঙ্গবন্ধু ও ১৫ আগস্টের শহীদদের স্মরণে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।

জ্যাকসন হাইটস এলাকাবাসীর সভাপতি সাকিল মিয়া বলেন, “প্রবাসে বসবাস করলেও বাংলাদেশের ইতিহাস ও ঐতিহ্যের সঙ্গে প্রবাসীদের গভীর সম্পর্ক রয়েছে। নতুন প্রজন্মের কাছে দেশের ইতিহাস ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনা তুলে ধরার পাশাপাশি সামাজিক ও মানবিক কর্মকাণ্ডে সবাইকে সম্পৃক্ত করার লক্ষ্যেই এ ধরনের আয়োজন করা হয়েছে।”

সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আলম নমি বলেন, “জ্যাকসন হাইটস এলাকাবাসীর উদ্যোগে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে বিপুলসংখ্যক মানুষ অংশ নিয়েছেন। প্রায় দেড় হাজার মানুষের মধ্যে খাবার ও জায়নামাজ বিতরণ এবং পাঁচটি গরু জবাই করে তবারক বিতরণের মাধ্যমে মানুষের সঙ্গে সম্পৃক্ত হওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। ভবিষ্যতেও এ ধরনের সামাজিক ও মানবিক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।”

চেয়ারম্যান রেদোয়ানুল হক বলেন, “১৫ আগস্টের মতো একটি ঐতিহাসিক ও শোকাবহ দিনে প্রবাসে থেকেও জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং ওই দিনের শহীদদের স্মরণ করা আমাদের দায়িত্ব। একই সঙ্গে কমিউনিটির মানুষের কল্যাণে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।”

প্রধান সমন্বয়ক শাহ জে চৌধুরী বলেন, “এবারের কর্মসূচিতে শোকসভা, দোয়া মাহফিল ও খাবার-জায়নামাজ বিতরণের পাশাপাশি রক্তদান কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে। এতে প্রায় ৪০ জন স্বেচ্ছায় রক্তদান করেছেন। মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং সামাজিক দায়িত্ব পালনের অংশ হিসেবে ভবিষ্যতেও এ ধরনের কর্মসূচি আয়োজন করা হবে।”

শিশু সাহিত্যিক ও মুক্তিযুদ্ধের বলিষ্ঠ কণ্ঠস্বর হুমায়ুন কবির ঢালী বলেন, প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং ১৫ আগস্টের শহীদদের স্মরণ করা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। নতুন প্রজন্মের কাছে মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস ও আত্মত্যাগের কথা তুলে ধরতে হবে। তিনি বলেন, দেশ ও জাতির ইতিহাসকে ধারণ করে প্রবাসী বাংলাদেশিদের ঐক্যবদ্ধভাবে সামাজিক ও মানবিক কর্মকাণ্ডে এগিয়ে আসতে হবে।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন যুগ্ম আহ্বায়ক মিয়া মো. দুলাল, আলমগীর হোসেন, আব্দুল মালেক ও আব্দুল হামিদ। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন শাহ নেওয়াজ। যুগ্ম সদস্য সচিবের দায়িত্বে ছিলেন ডিউক খান ও মো. মাহবুব রহমান। তত্ত্বাবধানে ছিলেন বিপ্লব সাহা ও ময়নুজ্জামান চৌধুরী। প্রধান পৃষ্ঠপোষক ছিলেন এম এ আজিজ ও আসেফ বারী টুটুল। কো-চেয়ারম্যান হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাখাওয়াত বিশ্বাস, জেড আর চৌধুরী (লিটু) ও মফিজুর রহমান। পৃষ্ঠপোষকদের মধ্যে ছিলেন মইনুল ইসলাম, অ্যাটর্নি মঈন চৌধুরী, আশরাফ চৌধুরী খোকন, সোহেল গাজী, ফাহাদ সোলায়মান, নুরুল আজিম ও তারেক হাসান খান।

অনুষ্ঠানের প্রধান উপদেষ্টা ছিলেন শাহ নেওয়াজ। অন্যান্য উপদেষ্টাদের মধ্যে ছিলেন হারুন ভূঁইয়া, মো. মহিউদ্দিন দেওয়ান, রাশেদ আহমেদ, ইশতিয়াক রুমী, সিরাজুল হক কামাল, কামরুজ্জামান কামরুল, মনসুর চৌধুরী, মো. পিয়ার, রফিক আহমেদ, ইকতারুজ্জামান রতন, মো. কবির রতন, শফিউদ্দিন মিয়া ও শাহাদাৎ হোসেন।

অনুষ্ঠানের সার্বিক সহযোগিতায় ছিল গোল্ডেন এইজ হোম কেয়ার, এন ওয়াই হোম কেয়ার, অল কাউন্টি হোম কেয়ার, বারী হোম কেয়ার, এন ওয়াই সিনিয়র এডাল্ট ডে কেয়ার, কেয়ারিং ফ্রেন্ড ডিরেক্ট, এটারনাল কেয়ার সার্ভিস, ডেরা রেস্টুরেন্ট, রূপসী চাঁদপুর ফাউন্ডেশন, প্রিমিয়াম সুইটস, রিলায়েবল হোম কেয়ার, ফার্স্ট হোম কেয়ার, এস এস ব্রোকারেজ, জেবিবিএ, পাটেল ব্রাদার্সসহ বিভিন্ন ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান ও ব্যবসায়ী।

সার্বিক সহযোগিতায় আরও ছিলেন মো. মানিক বাবু, জাহিদ আলম, কামরুজ্জামান বকুল, হুমায়ূন কবীর ঢালী, আনোয়ার মিলন, আবু নসর, শামস জনি, শাহীন চৌধুরী, আফতাব জনি, আকরাম হোসেন বিপ্লব, মো. সায়েম উল্লাহ, মুক্তা মিয়া, গোপাল সান্যাল, জেড এ জয়, জাহাঙ্গীর এইচ মিয়া, নুরুজ্জামান সরদার, গোলাম কিবরিয়া, কামাল হোসেন রাকিব, এইচ এম ইকবাল, জাফর আহমেদ, ওয়াসীম, গনেশ কীর্তণীয়া, মো. রাদবি, শাহরিয়ার হোসেন, শোভন, আনোয়ার উদ্দিন, মহিউদ্দিন রাহুল, রেদওয়ানুর রহমান জুয়েল, জাহানারা আক্তার (লাকী), ফারহানা চৌধুরী, মনির হোসেন, শ্যামল নাথ, মতিউর রহমান, মতিন, মঞ্জুর চৌধুরী, মো. জাহিদ মিয়া, আনিসুজ্জামান সবুজ, আব্দুল হাদী রানা, বিদ্যুৎ হোসেন ও হাসানুজ্জামান সাবুসহ অনেকে। এ ছাড়া অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন রাশেদ আহমেদ, ফারুক হোসেন, গোলাম মোস্তফা খান মেরাজ, মুকিত চৌধুরী, লাভলু আনসার, আবুল বাসার চুন্নু, খুরশেদ আলম বাবলু, মিজানুর রহমান, মো. ছানা উল্লাহ এবং সৈকত আকবর (রিচি)।

আয়োজকরা জানান, প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশের ইতিহাস, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা এবং বঙ্গবন্ধু ও ১৫ আগস্টের শহীদদের স্মরণে জ্যাকসন হাইটসের প্রবাসী বাংলাদেশিরা এ ধরনের কর্মসূচি অব্যাহত রাখতে চান। একই সঙ্গে সামাজিক ও মানবিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে নিউইয়র্কের বাংলাদেশি কমিউনিটির মানুষের পাশে থাকার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তাঁরা।