শোকাবহ ১৫ আগস্ট আজ। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৫১তম শাহাদতবার্ষিকী। এবারও ভিন্ন প্রেক্ষাপটে এসেছে ১৫ আগস্টের দিনটি। ২০২৪ সালের জুলাই অভ্যুত্থানে সরকার পরিবর্তনের পর দিবসটি রাষ্ট্রীয়ভাবে জাতীয় শোক দিবস হিসেবে পালন হয় না। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে ক্ষমতা ছেড়ে ভারতে চলে যান শেখ হাসিনা। এরপর অন্তর্বর্তী সরকার ১৫ আগস্টের সরকারি ছুটি বাতিল করে দেয়।

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট রাতে ঢাকায় বঙ্গবন্ধু ও তার পরিবার এবং নিকটাত্মীয়সহ ২৬ জনকে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়। দুই মেয়ে শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা সে সময় জার্মানিতে অবস্থান করায় প্রাণে বেঁচে যান। ১৫ আগস্ট রাতে ধানমন্ডির বাড়িতে বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে হত্যা করা হয় তার সহধর্মিণী শেখ ফজিলাতুন নেছা মুজিব, ছেলে শেখ কামাল, শেখ জামাল ও শিশুপুত্র শেখ রাসেল, পুত্রবধূ সুলতানা কামাল ও রোজী জামাল, বঙ্গবন্ধুর একমাত্র ভাই শেখ আবু নাসের, বঙ্গবন্ধুর ফোন পেয়ে তার জীবন বাঁচাতে ছুটে আসা নিরাপত্তা কর্মকর্তা কর্নেল জামিল, এসবির কর্মকর্তা সিদ্দিকুর রহমান ও সেনাসদস্য সৈয়দ মাহবুবুল হককে।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাগ্নে যুবলীগ নেতা শেখ ফজলুল হক মনির বাসায় হামলা চালিয়ে তাকে, তার অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী আরজু মনি, বঙ্গবন্ধুর ভগ্নিপতি আবদুর রব সেরনিয়াবাতের বাসায় হামলা করে তাকে ও তার কন্যা বেবী, ছেলে আরিফ সেরনিয়াবাত, নাতি সুকান্ত বাবু, সেরনিয়াবাতের বড় ভাইয়ের ছেলে সজীব সেরনিয়াবাত এবং এক আত্মীয় রেন্টু খানকে হত্যা করা হয়। ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর রাষ্ট্রীয়ভাবে প্রথম শোক দিবস পালনের সিদ্ধান্ত হয়। ২০০১ সালে বিএনপির নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোট ক্ষমতায় এলে সে সিদ্ধান্ত বাতিল করা হয়। তবে ২০০৭ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ক্ষমতায় এসে আবার রাষ্ট্রীয়ভাবে ১৫ আগস্ট জাতীয় শোক দিবস পালনের সিদ্ধান্ত নেয়। ড. ইউনূসের শাসনামলে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে জাতীয় শোক দিবসের সাধারণ ছুটি বাতিল করা হয়। তা এখনো বহাল আছে।