লন্ডন: রাশিয়ার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কিছু তেলবাহী জাহাজের ওপর নিষেধাজ্ঞা শিথিলের বিষয়টি বিবেচনা করছে যুক্তরাষ্ট্র। এ খবরে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি পরিবহনের ব্যয় কমার সম্ভাবনা তৈরি হওয়ায় বৃহস্পতিবার বিশ্ববাজারে তেলের দাম কমেছে।
রয়টার্সের বাজারতথ্য অনুযায়ী, গ্রিনিচ মান সময় সকাল ৭টা ২৯ মিনিটে ব্রেন্ট ক্রুডের ফিউচার মূল্য ব্যারেলপ্রতি ২.২৮ ডলার বা ২.২ শতাংশ কমে ১০৩.৭৮ ডলারে নেমে আসে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) অপরিশোধিত তেলের দাম ১.৩৪ ডলার বা ১.৪ শতাংশ কমে ব্যারেলপ্রতি ৯৩.৭৫ ডলারে দাঁড়ায়।
রাশিয়ার তথাকথিত ‘শ্যাডো ফ্লিট’-এর কিছু জাহাজের ওপর নিষেধাজ্ঞা শিথিলের সম্ভাবনা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রশাসনের আলোচনার পর তেলের বাজারে এ দরপতন দেখা যায়। এসব জাহাজ প্রচলিত আন্তর্জাতিক শিপিং ব্যবস্থার বাইরে তেল ও জ্বালানি পরিবহনে ব্যবহৃত হয় এবং এর কিছু জাহাজ আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে পণ্য পরিবহনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট।
একজন মার্কিন কর্মকর্তার বরাত দিয়ে রয়টার্স জানিয়েছে, প্রস্তাবিত পদক্ষেপ কার্যকর হলে জাহাজ ভাড়া কমতে পারে এবং ডিজেলসহ বিভিন্ন পেট্রোলিয়াম পণ্য পরিবহনে নমনীয়তা বাড়তে পারে।
বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম কমানোর প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি রাশিয়ার ডিজেল জ্বালানির ওপর কিছু নিষেধাজ্ঞা সাময়িকভাবে তুলে নিয়েছেন। নতুন করে জাহাজ চলাচলসংক্রান্ত বিধিনিষেধ শিথিলের বিষয়টিও সেই প্রচেষ্টার সঙ্গে সম্পর্কিত।
তবে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত বিশ্ববাজারে জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। হরমুজ প্রণালির কাছে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা এবং ইরান ও ইয়েমেনের হুথিদের ঘিরে আঞ্চলিক উত্তেজনা গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথের নিরাপত্তাকে ঝুঁকির মুখে ফেলেছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, সামুদ্রিক কর্মকর্তাদের উদ্ধৃত করে জানানো হয়েছে, ক্ষেপণাস্ত্র বা অন্য ধরনের প্রক্ষেপণের আঘাতে কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথের কাছে দুটি বাণিজ্যিক জাহাজ ডুবে গেছে।
এদিকে, ইউক্রেন রাশিয়ার জ্বালানি অবকাঠামোতে হামলা পুনরায় শুরু করেছে। রাশিয়ার রিয়াজান অঞ্চলের একটি তেল শোধনাগারেও হামলার খবর পাওয়া গেছে। এতে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারের অনিশ্চয়তা আরও বেড়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের আমেরিকান পেট্রোলিয়াম ইনস্টিটিউটের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, ৯ অক্টোবর শেষ হওয়া সপ্তাহে দেশটির অপরিশোধিত তেলের মজুত ১ কোটি ১১ লাখ ব্যারেল কমেছে। যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি তথ্য প্রশাসনের আনুষ্ঠানিক মজুত প্রতিবেদন প্রকাশের অপেক্ষা ছিল।
বিশ্লেষকদের কাছে তেলের বাজার এখন দুটি বিপরীত পরিস্থিতির মুখোমুখি—একদিকে জ্বালানি পরিবহনে ব্যয় কমার সম্ভাবনা, অন্যদিকে সংঘাতের কারণে সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার ঝুঁকি। যুক্তরাষ্ট্র শেষ পর্যন্ত জাহাজের ওপর নিষেধাজ্ঞা শিথিল করলে জ্বালানি পরিবহন ও বাজারদরে প্রভাব পড়তে পারে। তবে এর প্রকৃত প্রভাব নির্ভর করবে পদক্ষেপটির পরিধি ও বাস্তবায়নের ওপর।


