ওয়াশিংটন — ইরানের সঙ্গে চলমান মার্কিন সামরিক সংঘাতকে ‘ছোটখাটো ব্যাপার’ (small potatoes) বলে মন্তব্য করেছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে কয়েক মাস ধরে চলা এই সংঘাতে এখন পর্যন্ত ১৮ জন মার্কিন সেনাসদস্য নিহত হয়েছেন এবং যুক্তরাষ্ট্রের ব্যয় ৩৭.৫ বিলিয়ন ডলারের বেশি হয়েছে।
শুক্রবার ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় ট্রাম্প বলেন, ইরানের সঙ্গে বর্তমান পরিস্থিতিকে তিনি প্রচলিত অর্থে ‘যুদ্ধ’ বলতে চান না। বরং এটিকে একটি ‘সামরিক সংঘাত’ হিসেবে বর্ণনা করেন তিনি।
ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সও এর আগে একই ধরনের অবস্থান নিয়ে বলেছিলেন, বর্তমান পরিস্থিতিকে যুদ্ধ হিসেবে অভিহিত করা উচিত নয়। ট্রাম্প বলেন, মার্কিন অভিযান মূলত বিচ্ছিন্ন বিমান হামলার মধ্যে সীমিত রয়েছে এবং সেখানে দীর্ঘমেয়াদি স্থলযুদ্ধ চলছে না।
ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় হামলার হুমকি
এদিকে ইরানের গভীর ভূগর্ভস্থ পারমাণবিক স্থাপনা পিকঅ্যাক্স মাউন্টেন (Pickaxe Mountain)-এ যুক্তরাষ্ট্র শিগগির হামলা চালাতে পারে বলেও সতর্ক করেছেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, ওই স্থাপনায় কোনো ধরনের তৎপরতা বা সরঞ্জাম সরানোর বিষয়টি যুক্তরাষ্ট্রের নজরে এলে সেখানে হামলা চালানো হতে পারে। ট্রাম্পের এই বক্তব্য সংঘাত আরও বাড়ার আশঙ্কা তৈরি করেছে।
নিহত ১৮ মার্কিন সেনা
ইরানের সঙ্গে সংঘাত শুরু হয় ২৮ ফেব্রুয়ারি। এরপর থেকে ইরানের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে মার্কিন সামরিক হামলা হয়েছে। পাল্টা জবাবে ইরানও যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের অবস্থান লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের প্রতিবেদনের উদ্ধৃতি অনুযায়ী, সংঘাতে এখন পর্যন্ত ১৮ জন মার্কিন সেনাসদস্য নিহত হয়েছেন। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ব্যয় ৩৭.৫ বিলিয়ন ডলারের বেশি হয়েছে।
ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র পেতে দেবেন না ট্রাম্প
ট্রাম্প আবারও বলেছেন, তার প্রশাসনের সময় ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে দেওয়া হবে না। ইরানের পারমাণবিক অবকাঠামো নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের উদ্বেগ রয়েছে। বর্তমান সংঘাতের মধ্যে পারমাণবিক স্থাপনায় নতুন হামলা হলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে।
অন্যদিকে ভ্যান্সও প্রশাসনের অবস্থান সমর্থন করে বলেছেন, মার্কিন বাহিনীর দীর্ঘমেয়াদি স্থলযুদ্ধ না থাকায় এটিকে প্রচলিত যুদ্ধ হিসেবে দেখার প্রয়োজন নেই। তবে মার্কিন সেনা নিহত হওয়া, সামরিক ব্যয় বৃদ্ধি এবং মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতের প্রভাবের কারণে ট্রাম্প প্রশাসনের ইরান নীতি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে রাজনৈতিক বিতর্ক ক্রমেই তীব্র হচ্ছে। ২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ইরান ইস্যু ট্রাম্প প্রশাসনের পররাষ্ট্র ও নিরাপত্তা নীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ইস্যু হয়ে উঠতে পারে।


