Shibbir Ahmed প্রকাশিত: ৩০ আগস্ট, ২০২৬, ০৯:০৮ পিএম

শিব্বীর আহমেদ, ওয়াশিংটন ডিসি: ভেনেজুয়েলার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের একটি ঐতিহাসিক জ্বালানি চুক্তির ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। চুক্তিটিকে তিনি ‘বিশ্ব ইতিহাসের সবচেয়ে বড় তেল চুক্তি’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। তাঁর দাবি, এর মাধ্যমে ভেনেজুয়েলার প্রমাণিত ৬৫ বিলিয়নেরও বেশি ব্যারেল তেল মজুতে সংখ্যাগরিষ্ঠ নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করেছে যুক্তরাষ্ট্র। চুক্তিটির আওতায় ভেনেজুয়েলার ১৭টি কৌশলগত তেলক্ষেত্র উন্নয়নের পরিকল্পনা রয়েছে। একই সঙ্গে আরও আটটি নতুন তেল ব্লকে কার্যক্রম সম্প্রসারণের কথা বলা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ভেনেজুয়েলার মধ্যে এই জ্বালানি অংশীদারিত্বের মেয়াদ হবে ২৫ বছর।
ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ বলেছেন, চুক্তির আওতায় দেশটির দৈনিক অপরিশোধিত তেল উৎপাদন প্রাথমিকভাবে ১৫ লাখ ব্যারেলের বেশি করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। বর্তমানে দেশটির উৎপাদন প্রায় ১২ লাখ ৫০ হাজার ব্যারেল প্রতিদিন।
ভেনেজুয়েলার সার্বভৌমত্ব থাকবে, দাবি রদ্রিগেজের
চুক্তি নিয়ে ভেনেজুয়েলার সার্বভৌমত্ব প্রশ্নে বিতর্ক তৈরি হলেও রদ্রিগেজ বলেছেন, দেশের প্রাকৃতিক সম্পদের ওপর ভেনেজুয়েলার সার্বভৌমত্ব বহাল থাকবে। রদ্রিগেজের ভাষ্য অনুযায়ী, চুক্তির মাধ্যমে ভেনেজুয়েলার অর্থনীতিতে বড় ধরনের বিনিয়োগ আসবে এবং সরকারের রাজস্বও উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে। তিনি চুক্তি থেকে ভেনেজুয়েলা প্রায় ২০৯ বিলিয়ন ডলার রাজস্ব পেতে পারে বলে উল্লেখ করেছেন। প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে বিক্রি হওয়া প্রতি ব্যারেল তেলের মধ্যে প্রায় ১৯ ডলার ভেনেজুয়েলার সরকারের আয় হিসেবে যাওয়ার কথা বলা হয়েছে।
৬৫ বিলিয়ন ব্যারেল কি যুক্তরাষ্ট্রের মালিকানায় যাচ্ছে?
চুক্তির সবচেয়ে আলোচিত বিষয় হলো ৬৫ বিলিয়ন ব্যারেল তেল। ট্রাম্পের বক্তব্যে যুক্তরাষ্ট্র ওই পরিমাণ তেল মজুতে সংখ্যাগরিষ্ঠ নিয়ন্ত্রণ পাবে বলা হলেও, এর অর্থ এই নয় যে ভেনেজুয়েলার ৬৫ বিলিয়ন ব্যারেল তেল যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি কিনে নিয়েছে বা যুক্তরাষ্ট্রের মালিকানায় চলে গেছে। প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, চুক্তিটি সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বের মাধ্যমে তেলক্ষেত্রগুলোর উন্নয়ন ও উৎপাদন নিয়ন্ত্রণের সঙ্গে সম্পর্কিত। ভেনেজুয়েলা তার প্রাকৃতিক সম্পদের ওপর সার্বভৌমত্ব বজায় রাখার কথা বলেছে।
বিপুল বিনিয়োগের পরিকল্পনা
বছরের পর বছর অব্যবস্থাপনা, অবকাঠামোগত দুর্বলতা ও নিষেধাজ্ঞার কারণে ভেনেজুয়েলার তেল শিল্প ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। নতুন চুক্তির অন্যতম লক্ষ্য হলো দেশটির পুরনো তেল অবকাঠামো পুনর্গঠন করে উৎপাদন বাড়ানো। মার্কিন জ্বালানি কোম্পানিগুলো, বিশেষ করে Chevron, নতুন কাঠামোর আওতায় যৌথ উদ্যোগ গঠনে যুক্ত হতে পারে বলে জানা গেছে।
ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য এই চুক্তি বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ তেল মজুতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রবেশাধিকার আরও বাড়াবে। অন্যদিকে ভেনেজুয়েলার জন্য এটি দীর্ঘদিনের সংকটে থাকা তেল শিল্প পুনর্গঠন এবং অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের বড় সুযোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে চুক্তির বিস্তারিত আইনি ও আর্থিক কাঠামো নিয়ে এখনো বেশ কিছু প্রশ্ন রয়েছে। ভেনেজুয়েলায় মার্কিন সম্পৃক্ততা নিয়ে এরই মধ্যে সমালোচনা ও বিক্ষোভও দেখা দিয়েছে।