NYC Sightseeing Pass
ঢাকা, শুক্রবার, আগস্ট ২৮, ২০২৬ | ১৩ ভাদ্র ১৪৩৩
ব্রেকিং নিউজ
নেপালে ভয়াবহ বন্যা-ভূমিধসে নিহত ৫৩৮, নিখোঁজ প্রায় ১,০০০ ট্রাম্পের নির্বাহী আদেশে লেক অন্টারিওর নতুন নাম ‘লেক আমেরিকা’ হাসিনাকে ঘিরে টানাপোড়েন, তবুও কেন তারেক রহমানকে দিল্লিতে নিতে আগ্রহী ভারত হরমুজকে ‘মার্কিন ভূখণ্ড’ দাবি ট্রাম্পের মানসিক অসুস্থতার লক্ষণ ‘যত্নের তানপুরা’ নিয়ে ফিরলেন নাজু আখন্দ ফাইনালে আর্জেন্টিনার লজ্জাজনক কাণ্ডে খেলোয়াড়দের নিষেধাজ্ঞায় বড় ছাড় ফিফার রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালনে সম্পূর্ণ দলনিরপেক্ষভাবে কাজ করব : রাষ্ট্রপতি ট্রাম্পের সৌদি আরবের সঙ্গে পারমাণবিক চুক্তি কংগ্রেসে, ইসরায়েল স্বীকৃতির শর্ত নেপালে বন্যা ও ধসে নিহতদের প্রতি প্রধানমন্ত্রীর শোক আরএসএসের অনুষ্ঠান নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে বিতর্ক
Logo
logo

ট্রাম্পকে ভোট দেওয়া জেন জি ভোটারদের একাংশের অনুশোচনা, ২০২৬ মধ্যবর্তী নির্বাচনে প্রভাবের আশঙ্কা


Shibbir Ahmed   প্রকাশিত:  ২৮ আগস্ট, ২০২৬, ০৮:০৮ পিএম

ট্রাম্পকে ভোট দেওয়া জেন জি ভোটারদের একাংশের অনুশোচনা, ২০২৬ মধ্যবর্তী নির্বাচনে প্রভাবের আশঙ্কা
শিব্বীর আহমেদ, ওয়াশিংটন ডিসি: ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ভোট দেওয়া তরুণ আমেরিকানদের একটি অংশ এখন নিজেদের সিদ্ধান্ত নিয়ে অনুশোচনা করছেন। আগামী নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচন (Midterm Election) সামনে রেখে তরুণ ভোটারদের এই মনোভাব রিপাবলিকানদের জন্য নতুন রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে।
সাম্প্রতিক বিভিন্ন জরিপ ও গবেষণায় দেখা যাচ্ছে, ট্রাম্পের ২০২৪ সালের ভোটারদের মধ্যে অনুশোচনা বাড়ছে, বিশেষ করে তরুণদের মধ্যে। ন্যাভিগেটর রিসার্চের (Navigator Research) এক গবেষণায় দেখা গেছে, ট্রাম্পকে ভোট দেওয়া প্রতি পাঁচজনের একজন এখন বলছেন, তারা সেই ভোট নিয়ে অনুতপ্ত। অনুশোচনাকারীদের ৫৯ শতাংশের বয়স ৪৫ বছরের নিচে এবং ২৩ শতাংশের বয়স ৩০ বছরের নিচে।
তবে এই পরিবর্তনকে ট্রাম্পের সমর্থকদের ব্যাপকভাবে ডেমোক্র্যাটদের দিকে ঝুঁকে পড়া হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। গবেষণায় দেখা গেছে, ট্রাম্পের ভোট নিয়ে অনুশোচনাকারীদের মধ্যেও ডেমোক্র্যাটিক পার্টির প্রতি নেতিবাচক মনোভাব যথেষ্ট শক্তিশালী রয়েছে।
তরুণ ভোটারদের মধ্যে ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা কমেছে
২০২৪ সালের নির্বাচনে ট্রাম্প তরুণ ভোটারদের মধ্যে আগের তুলনায় উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি করেছিলেন। বিশেষ করে তরুণ পুরুষদের মধ্যে তার সমর্থন বেড়েছিল। কিন্তু নির্বাচনের পর বিভিন্ন জরিপে তরুণদের মধ্যে ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা কমতে দেখা গেছে। ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে প্রকাশিত এক জরিপে ১৮ থেকে ২৯ বছর বয়সী ভোটারদের মাত্র ২৫ শতাংশ ট্রাম্পের কাজের অনুমোদন দিয়েছিলেন, যেখানে ৬৭ শতাংশ তার কর্মকাণ্ডের প্রতি অসন্তোষ প্রকাশ করেছিলেন। তরুণ ভোটারদের মধ্যে জীবনযাত্রার ব্যয়, মূল্যস্ফীতি, চাকরি এবং অর্থনৈতিক নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ এই পরিবর্তনের অন্যতম কারণ বলে বিভিন্ন গবেষণায় উঠে এসেছে।
‘ভোটের সিদ্ধান্ত নিয়ে অনুশোচনা’
মোর ইন কমন (More in Common)-এর গবেষণায় দেখা গেছে, ট্রাম্পের সমর্থকদের একটি অংশ এখন নিজেদের ভোট নিয়ে দ্বিতীয়বার ভাবছেন। বিশেষ করে ‘রিলাকট্যান্ট রাইট’ (Reluctant Right) নামে চিহ্নিত ট্রাম্প সমর্থকদের মধ্যে ৩৫ শতাংশ বলেছেন, ট্রাম্পকে ভোট দেওয়ার বিষয়ে তাদের অন্তত কিছুটা অনুশোচনা রয়েছে। এই হার আগের বছরের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি।
এই ভোটারদের কাছে জীবনযাত্রার ব্যয় একটি বড় উদ্বেগ। গবেষণায় দেখা গেছে, এই গোষ্ঠীর ৭০ শতাংশ জীবনযাত্রার ব্যয়কে সরকারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ অগ্রাধিকার হিসেবে দেখছেন। কিন্তু মাত্র ১১ শতাংশ মনে করেন, ট্রাম্প প্রশাসন একই মাত্রায় এই বিষয়টিকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে।
মধ্যবর্তী নির্বাচনে কী হবে?
তরুণ ভোটারদের মধ্যে অসন্তোষ বাড়লেও এর অর্থ এই নয় যে তারা স্বয়ংক্রিয়ভাবে ডেমোক্র্যাটিক প্রার্থীদের ভোট দেবেন। বরং বর্তমান তথ্য বলছে, অনেক তরুণ ট্রাম্প ভোটার এখনো রিপাবলিকান পার্টির সঙ্গে রয়েছেন। ফলে ২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনে তাদের ভোট কোন দিকে যাবে, তা নির্ভর করতে পারে অর্থনীতি, মূল্যস্ফীতি, জীবনযাত্রার ব্যয় এবং ট্রাম্প প্রশাসনের নীতির ওপর।
২০২৪ সালে ট্রাম্পের প্রতি ঝুঁকে পড়া তরুণ পুরুষ ভোটারদের ধরে রাখা রিপাবলিকানদের জন্য বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। কারণ এই ভোটারদের একটি অংশ যদি ভোট না দেয়, তৃতীয় কোনো প্রার্থীকে সমর্থন করে অথবা ডেমোক্র্যাটদের দিকে যায়, তাহলে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ আসনগুলোতে ফলাফলে তার প্রভাব পড়তে পারে।
ডেমোক্র্যাটদের জন্যও সহজ সুযোগ নয়
তরুণ ভোটারদের মধ্যে ট্রাম্পের প্রতি হতাশা বাড়লেও ডেমোক্র্যাটিক পার্টির জন্য এই ভোটারদের পুরোপুরি ফিরে পাওয়া সহজ হবে না। ট্রাম্পের ভোট নিয়ে অনুশোচনাকারীদের একটি বড় অংশ এখনো ডেমোক্র্যাটদের প্রতি নেতিবাচক মনোভাব পোষণ করে। ফলে ২০২৬ সালের নির্বাচনে তরুণ ভোটারদের একটি অংশ হয়তো ট্রাম্পকে প্রত্যাখ্যান করবে, কিন্তু একই সঙ্গে ডেমোক্র্যাটদেরও সমর্থন নাও করতে পারে।
রিপাবলিকানদের জন্য সতর্ক সংকেত
২০২৪ সালের নির্বাচনে তরুণ ভোটারদের মধ্যে যে অগ্রগতি ট্রাম্প করেছিলেন, তা রিপাবলিকানদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ছিল। এখন সেই ভোটারদের একটি অংশের মধ্যে অনুশোচনা ও অসন্তোষের লক্ষণ দেখা দেওয়া দলের জন্য সতর্ক সংকেত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। বিশেষ করে অর্থনীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে তরুণদের উদ্বেগ যদি আরও বাড়ে, তাহলে নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনে তাদের ভোটের আচরণ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
তবে বর্তমান তথ্য থেকে এখনই বলা যাচ্ছে না যে জেন জি ভোটাররা ব্যাপকভাবে ট্রাম্প বা রিপাবলিকান পার্টি থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন। বরং তরুণ ভোটারদের একটি অংশের মধ্যে সমর্থন থেকে সংশয় এবং সংশয় থেকে অনুশোচনার দিকে একটি পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে—যা ২০২৬ সালের নির্বাচনে গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক পরীক্ষা হয়ে উঠতে পারে।