NYC Sightseeing Pass
ঢাকা, শুক্রবার, আগস্ট ২৮, ২০২৬ | ১৩ ভাদ্র ১৪৩৩
ব্রেকিং নিউজ
নেপালে ভয়াবহ বন্যা-ভূমিধসে নিহত ৫৩৮, নিখোঁজ প্রায় ১,০০০ ট্রাম্পের নির্বাহী আদেশে লেক অন্টারিওর নতুন নাম ‘লেক আমেরিকা’ হাসিনাকে ঘিরে টানাপোড়েন, তবুও কেন তারেক রহমানকে দিল্লিতে নিতে আগ্রহী ভারত হরমুজকে ‘মার্কিন ভূখণ্ড’ দাবি ট্রাম্পের মানসিক অসুস্থতার লক্ষণ ‘যত্নের তানপুরা’ নিয়ে ফিরলেন নাজু আখন্দ ফাইনালে আর্জেন্টিনার লজ্জাজনক কাণ্ডে খেলোয়াড়দের নিষেধাজ্ঞায় বড় ছাড় ফিফার রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালনে সম্পূর্ণ দলনিরপেক্ষভাবে কাজ করব : রাষ্ট্রপতি ট্রাম্পের সৌদি আরবের সঙ্গে পারমাণবিক চুক্তি কংগ্রেসে, ইসরায়েল স্বীকৃতির শর্ত নেপালে বন্যা ও ধসে নিহতদের প্রতি প্রধানমন্ত্রীর শোক আরএসএসের অনুষ্ঠান নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে বিতর্ক
Logo
logo

নেপালে ভয়াবহ বন্যা-ভূমিধসে নিহত ৫৩৮, নিখোঁজ প্রায় ১,০০০


Shibbir Ahmed   প্রকাশিত:  ২৮ আগস্ট, ২০২৬, ০৮:০৮ পিএম

নেপালে ভয়াবহ বন্যা-ভূমিধসে নিহত ৫৩৮, নিখোঁজ প্রায় ১,০০০
শিব্বীর আহমেদ, জাতিসংঘ, নিউইয়র্ক: নেপালে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৫৩৮ জনে দাঁড়িয়েছে। এখনো প্রায় ১,০০০ মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। তাদের মধ্যে অনেকেই পর্যটক বলে ধারণা করা হচ্ছে। দুর্গত এলাকায় উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। শুক্রবার নেপাল সরকারের তথ্যের বরাত দিয়ে জাতিসংঘের মানবিক সহায়তা সমন্বয় দপ্তর (OCHA) জানায়, দুর্যোগের পর প্রায় ৩ হাজার ৭৫০ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে। নেপালের রসুয়া, নুওয়াকোট ও ধাদিং জেলার বিভিন্ন এলাকায় উদ্ধারকারীরা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়া মানুষের কাছে পৌঁছানোর চেষ্টা করছেন।

নেপাল সরকারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের শুক্রবারের সর্বশেষ আপডেট অনুযায়ী, ভয়াবহ বন্যায় এখন পর্যন্ত ৫৩৮টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। একই সঙ্গে ৩৩ দেশের ৬৩২ জন বিদেশি নাগরিকের মধ্যে ১২১ জনকে শনাক্ত করা হয়েছে বা পাওয়া গেছে, আর ৫১১ জন এখনো নিখোঁজ রয়েছেন। এসব সংখ্যা অনুসন্ধান ও উদ্ধার কার্যক্রমের অগ্রগতির সঙ্গে পরিবর্তিত হতে পারে।
হিমবাহ ধস থেকেই বিপর্যয়ের সূত্রপাত
২৬ আগস্ট নেপালের ভোতে কোশি নদী এলাকায় ভয়াবহ আকস্মিক বন্যার সৃষ্টি হয়। ধারণা করা হচ্ছে, হিমবাহ ধস ও ভূমিধসের ফলে বিপুল পরিমাণ পানি, পাথর, কাদা ও ধ্বংসাবশেষ পাহাড়ি নদীগুলো দিয়ে দ্রুত নেমে এসে এই বিপর্যয় সৃষ্টি করে। বন্যার পানির স্রোতে পুরো জনবসতি ধ্বংস হয়ে গেছে। সড়ক, সেতু, জলবিদ্যুৎকেন্দ্রসহ গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। নেপালের সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোর মধ্যে রসুয়া অন্যতম। দুর্গম পাহাড়ি ভূখণ্ড, ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক ও যোগাযোগব্যবস্থার কারণে উদ্ধারকাজ অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়েছে।
তিব্বতেও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি
নেপাল-চীন সীমান্তের অপর পাশের চীনের তিব্বত স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চলও এই দুর্যোগে ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সেখানকার কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ৫৬০ জন এখনো নিখোঁজ রয়েছেন। নেপাল ও তিব্বত মিলিয়ে নিহত ও নিখোঁজের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
নতুন করে বন্যার আশঙ্কা
প্রাথমিক বন্যার পর পাহাড়ি এলাকায় নতুন একটি জলাধার বা হ্রদ তৈরি হওয়ায় পরিস্থিতি আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে। শুক্রবার ওই জলাধারের পানি বেড়ে যাওয়ায় নতুন করে বন্যার আশঙ্কা দেখা দেয় এবং কিছু সময়ের জন্য উদ্ধার অভিযানও বাধাগ্রস্ত হয়। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে থাকায় উদ্ধার তৎপরতা আবার শুরু হয়। নেপালের কর্তৃপক্ষ নদীর পানির স্তর ও নিচের দিকে বন্যার ঝুঁকি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করছে।
জাতিসংঘের ত্রাণ সহায়তা
জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থা দুর্গত এলাকায় জরুরি খাদ্য, চিকিৎসা সরঞ্জাম, তাঁবু এবং অন্যান্য সহায়তা পৌঁছে দিচ্ছে। জাতিসংঘ জানিয়েছে, প্রায় ১০ হাজার মানুষের জন্য তিন মাসের চিকিৎসা সরঞ্জাম সরবরাহ করা হচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ ও ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণে উপগ্রহচিত্রও ব্যবহার করা হচ্ছে। নেপালে জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়কারী (UN Resident Coordinator) লিলা পিটার্স ইয়াহিয়া দুর্যোগকবলিত এলাকা পরিদর্শন করেছেন। তিনি উদ্ধার হওয়া মানুষের একটি পরিবারের দৃশ্যকে অত্যন্ত আবেগঘন হিসেবে বর্ণনা করেন। তবে নতুন করে বন্যার সতর্কতা জারি হওয়ায় তার পরিদর্শন সংক্ষিপ্ত করতে হয়।
রোগ ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি
দুর্যোগের পর সংক্রামক রোগ ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি নিয়ে সতর্ক করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO)। সংস্থাটির মুখপাত্র তারিক জাসারেভিচ বলেন, বড় ধরনের দুর্যোগে মানুষ বাস্তুচ্যুত হলে, অতিরিক্ত ভিড় তৈরি হলে এবং পানি, পয়ঃনিষ্কাশন ও স্বাস্থ্যসেবা ব্যাহত হলে সংক্রামক রোগের ঝুঁকি বেড়ে যায়।
ধ্বংস হয়েছে বহু স্কুল
জাতিসংঘের শিশু তহবিল (UNICEF) জানিয়েছে, বন্যায় ১৮টি স্কুল সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়েছে এবং আরও ২০টি স্কুল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। নদীর তীরবর্তী আরও কয়েক ডজন স্কুল এখনো উচ্চ ঝুঁকিতে রয়েছে। এর ফলে ওই অঞ্চলের আনুমানিক ১০ হাজার স্কুলপড়ুয়া শিশুর শিক্ষা চালিয়ে যেতে সহায়তা প্রয়োজন।
‘দুর্যোগের প্রভাব অত্যন্ত ব্যাপক’
জাতিসংঘের দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাসবিষয়ক দপ্তরের (UNDRR) প্রধান কমল কিশোর এই দুর্যোগের ব্যাপকতা তুলে ধরে বলেন, মানুষের স্মৃতিতে এত দীর্ঘ সময়ের মধ্যে এমন পাহাড়ি দুর্যোগ দেখা যায়নি। তিনি বলেন, মানুষের জীবন ও জীবিকা থেকে শুরু করে ভবন, সেতু, অবকাঠামো, জলবিদ্যুৎ প্রকল্প ও বিদ্যুৎ উৎপাদন—সব ক্ষেত্রেই এর প্রভাব অত্যন্ত ব্যাপক। ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত মাত্রা এখনো পুরোপুরি বোঝা সম্ভব হয়নি। তার মতে, পরিস্থিতিতে একই সঙ্গে অত্যন্ত উচ্চ ঝুঁকি এবং ব্যাপক অনিশ্চয়তা রয়েছে। কারণ জরুরি উদ্ধার কার্যক্রম চললেও দুর্যোগের ঝুঁকি এখনো পুরোপুরি শেষ হয়নি।জাতিসংঘ বলছে, এই দুর্যোগ আবারও দেখিয়ে দিয়েছে পাহাড়ি প্রতিবেশব্যবস্থা কতটা ভঙ্গুর এবং পাহাড়ি এলাকায় আগাম সতর্কতা ব্যবস্থা গড়ে তোলা কতটা কঠিন।
৯৩ হাজারের বেশি মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত
আন্তর্জাতিক রেডক্রস ও রেড ক্রিসেন্ট ফেডারেশন (IFRC) জানিয়েছে, তারা সম্ভাব্য দ্বিতীয় দফা বন্যা নিয়ে অত্যন্ত উদ্বিগ্ন। সংস্থাটির হিসাবে, অন্তত ৯৩ হাজার মানুষ এই দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন এবং তাদের জরুরি সহায়তা প্রয়োজন। নেপালের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় উদ্ধার, চিকিৎসা, সরিয়ে নেওয়া এবং ত্রাণ কার্যক্রমে দেশটির নিরাপত্তা ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থাগুলো পূর্ণ শক্তিতে কাজ করছে।
আগেও বড় দুর্যোগের শিকার এই অঞ্চল
দুর্যোগকবলিত অঞ্চলটি এর আগেও বড় ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগের মুখোমুখি হয়েছে। ২০১৫ সালের এপ্রিলে ৭ দশমিক ৮ মাত্রার ভূমিকম্পে নেপালে ৮ হাজার ৮০০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছিলেন। এছাড়া গত বছরের অক্টোবরে প্রবল বৃষ্টিতে পূর্ব ও মধ্য নেপালের বিভিন্ন এলাকায় আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধস হয়। ওই দুর্যোগে ৩০ হাজারের বেশি মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিলেন। বর্তমান বিপর্যয়কে নেপালের সাম্প্রতিক ইতিহাসের অন্যতম ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে। উদ্ধার অভিযান চলতে থাকায় মৃত ও নিখোঁজের সংখ্যা আরও পরিবর্তিত হতে পারে।