২০২৬ বিশ্বকাপের ফাইনালের পর মাঠে বিশৃঙ্খল আচরণে আর্জেন্টিনার খেলোয়াড়দের মূল শাস্তির মেয়াদ না কমালেও, আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের (এএফএ) অনুরোধে শাস্তির নিয়মে বড় পরিবর্তন এনেছে ফিফা। ফিফার শৃঙ্খলা কমিটি সিদ্ধান্ত নিয়েছে, পারেদেসসহ নিষিদ্ধ হওয়া খেলোয়াড় ও স্টাফরা নিষেধাজ্ঞাগুলো অফিসিয়াল ম্যাচের পাশাপাশি ক্যাটাগরি ‘এ’ প্রীতিম্যাচ দিয়েও কাটাতে পারবেন।
দ্য সানের প্রতিবেদনে বলা হয়, ফাইনালের ম্যাচ শেষে জঘন্য আচরণের জন্য লিয়ান্দ্রো পারেদেসকে দশ ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা এবং ৬৬ হাজার ৫০০ পাউন্ড জরিমানা করা হয়েছে। এ ছাড়া নাহুয়েল মলিনা, থিয়াগো আলমাদা এবং কোচ রবার্তো আয়ালাকে নিষেধাজ্ঞা ও জরিমানা গুনতে হয়েছে। এতে মলিনা ৭ ম্যাচ, আলমাদা ১ ম্যাচ এবং আয়ালা ৩ ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা পেয়েছেন।
মেটলাইফে খেলা শেষ হওয়ার পর হওয়া ভয়াবহ মারামারিতে চারজনই জড়িত ছিলেন, যেখানে স্প্যানিশ খেলোয়াড় গাভিকে ঘুষি মেরে মাটিতে ফেলে দেওয়ার দায়ে পারেদেসকে ‘হামলার’ তিনটি অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করা হয়।
পারেদেসের ১০ ম্যাচের নিষেধাজ্ঞায় এক বছরেরও বেশি সময়ের জন্য আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে বাইরে থাকতে হতো। তবে, ফিফা নিষেধাজ্ঞার নিয়মে বড় ছাড় দেওয়ায় ২০২৬ সালের শেষ নাগাদ মাঠে ফিরতে পারবেন এই ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার।
২০৩০ বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনা সহআয়োজক হিসেবে মূল পর্ব ইতিমধ্যেই নিশ্চিত। আয়োজক হিসেবে তাই তাদের বাছাইপর্বে অংশ নিতে হবে না।
অন্যদিকে, পরবর্তী কোপা আমেরিকা ২০২৮ সালের আগে অনুষ্ঠিত হবে না—কিন্তু দক্ষিণ আমেরিকার দলগুলোর জন্য এতে খেলার কোনো বাছাইপর্ব নেই।
তাই বাকি তিন খেলোয়াড় ও কোচের নিষেধাজ্ঞা দ্রুত শেষে প্রীতিম্যাচ আয়োজনের সিদ্ধান্ত নিতে পারে এএফএ।
শরতের আন্তর্জাতিক সূচিতে দুটি বিরতি থাকবে—একটি দীর্ঘ বিরতি, যেখানে দলগুলো সেপ্টেম্বর এবং অক্টোবর মাসজুড়ে ঠাসাঠাসি করে ৪টি ম্যাচ খেলতে পারবে; এরপর নভেম্বর মাসে থাকবে যথারীতি দুটি ম্যাচের বিরতি।
আর্জেন্টিনা যদি এই সময়ের মধ্যে ৬টি ক্যাটাগরি ‘এ’ প্রীতি ম্যাচের আয়োজন করতে পারে। তবে ২০২৭ সালে পা রাখার আগে পারেদেসের আর মাত্র ৪টি ম্যাচ এবং মলিনার মাত্র একটি ম্যাচ নিষেধাজ্ঞা বাকি থাকবে।
অন্যদিকে, আলমাদা সেপ্টেম্বরের শেষ দিক থেকেই আবার মাঠে নামতে পারবেন।
এরপরও আর্জেন্টিনার ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন এখনো নিষেধাজ্ঞা কমানোর আশা করছে, না কমানো হলো সংস্থাটি শেষতক আপিল করবেন এই সাজার বিরুদ্ধে।