শিব্বীর আহমেদ, ওয়াশিংটন ডিসি: ইরানের আর্থিক নেটওয়ার্কের ওপর চাপ আরও বাড়িয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির ব্যাংকিং খাতের কর্মকর্তা ও ইরানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কয়েকটি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে মার্কিন সরকার। শুক্রবার ঘোষিত এই পদক্ষেপের আওতায় ইরানের ব্যাংক মেল্লির দুবাই শাখার ব্যবস্থাপক রেজা মোহাম্মদ তাইদীকে নিষেধাজ্ঞার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। মার্কিন সরকারের অভিযোগ, ব্যাংক মেল্লি ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি আর্থিক কেন্দ্র হিসেবে কাজ করে আসছে। এর মাধ্যমে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর কুদস ফোর্স এবং প্রতিরক্ষা ও সশস্ত্র বাহিনী রসদ মন্ত্রণালয়ের মতো মার্কিন নিষেধাজ্ঞার আওতাভুক্ত সংস্থাগুলোর সঙ্গে আর্থিক কার্যক্রম পরিচালিত হয়েছে।

এ ছাড়া হংকংভিত্তিক একটি কোম্পানির বিরুদ্ধেও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন কর্তৃপক্ষের দাবি, ওই কোম্পানি নিষেধাজ্ঞার আওতাভুক্ত ইরানি ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানগুলোকে আন্তর্জাতিক আর্থিক ব্যবস্থায় প্রবেশাধিকার পেতে সহায়তা করেছে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের আর্থিক অপরাধ দমন নেটওয়ার্ক সংযুক্ত আরব আমিরাতভিত্তিক ব্যাংক মিসর আমিরাতের সঙ্গে মার্কিন আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর পারস্পরিক ব্যাংকিং সুবিধা বাতিলের একটি প্রস্তাব দিয়েছে। মার্কিন ট্রেজারি বিভাগের মূল্যায়ন অনুযায়ী, ব্যাংক মিসর আমিরাত ইরানি সরকারের মার্কিন ডলার ব্যবস্থায় প্রবেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ আর্থিক সংযোগ হিসেবে কাজ করছে।

মার্কিন সরকার জানিয়েছে, ইরানের বিরুদ্ধে চলমান চাপ প্রয়োগের অংশ হিসেবেই সর্বশেষ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। ওয়াশিংটনের অভিযোগ, ইরানি সরকার জনগণের প্রয়োজনের চেয়ে নিজেদের ক্ষতিকর কর্মকাণ্ডকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। মার্কিন বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ইরানি সরকারের পক্ষে অবৈধ আর্থিক কর্মকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে ভবিষ্যতেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এর মধ্যে ইরানের বাইরে কার্যক্রম পরিচালনাকারী ইরানি ব্যাংকের কর্মকর্তারাও থাকবেন। নতুন নিষেধাজ্ঞাগুলো সন্ত্রাসবিরোধী মার্কিন নির্বাহী আদেশ এবং ইরানের আর্থিক খাতে কার্যরত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে লক্ষ্য করে জারি করা আরেকটি নির্বাহী আদেশের আওতায় নেওয়া হয়েছে।

অন্যদিকে ব্যাংক মিসর আমিরাতের বিরুদ্ধে আর্থিক অপরাধ দমন নেটওয়ার্কের প্রস্তাবিত পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে মার্কিন দেশপ্রেমিক আইনের ৩১১ ধারার অধীনে। এই ধারার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র বিদেশি আর্থিক প্রতিষ্ঠান বা নির্দিষ্ট অঞ্চলকে অর্থপাচার ও সংশ্লিষ্ট আর্থিক ঝুঁকির ক্ষেত্রে বিশেষ বিধিনিষেধের আওতায় আনতে পারে। ইরানের আর্থিক ব্যবস্থার বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সর্বশেষ পদক্ষেপ দেশটির আন্তর্জাতিক ব্যাংকিং ও মার্কিন ডলারভিত্তিক লেনদেনের সুযোগ আরও সীমিত করার প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।