ব্রিটিশ বেস্টসেলার লেখক ও সাবেক রাজনীতিবিদ জেফরি আর্চার মারা গেছেন। সোমবার তার প্রকাশক হার্পারকলিন্স এ তথ্য জানিয়েছে।

তার বয়স হয়েছিল ৮৬ বছর।

 

রয়টার্স জানায়, বিশ্বজুড়ে আর্চারের বই ৩০ কোটিরও বেশি কপি বিক্রি হয়েছে। দ্রুতগতির ও রোমাঞ্চকর গল্পের জন্য তিনি পরিচিত ছিলেন। ১৯৭৬ সালে প্রকাশিত তার প্রথম উপন্যাস ‘নট আ পেনি মোর, নট আ পেনি লেস’ এবং ১৯৭৯ সালের ‘কেন অ্যান্ড অ্যাবেল’ তার জনপ্রিয় বইগুলোর মধ্যে রয়েছে।

আর্চারের শেষ উপন্যাস ‘অ্যাডাম অ্যান্ড ইভ’ মঙ্গলবার প্রকাশিত হওয়ার কথা ছিল।

 
 

হার্পারকলিন্সের যুক্তরাজ্য শাখার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও আর্চারের সম্পাদক কেট এলটন এক বিবৃতিতে বলেন, আর্চারের মৃত্যুতে তারা গভীরভাবে মর্মাহত। তিনি প্রজন্মের পর প্রজন্ম পাঠককে আনন্দ দিয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি তাদের একজন সত্যিকারের বন্ধুও ছিলেন।

 

আর্চার শুধু লেখকই ছিলেন না, তিনি ব্রিটেনের রক্ষণশীল দলের একজন প্রভাবশালী রাজনীতিবিদও ছিলেন। ১৯৮০-এর দশকের মাঝামাঝি সময়ে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী মার্গারেট থ্যাচারের অধীনে দলের গুরুত্বপূর্ণ পদে যাওয়ার আগে তিনি কিছু সময় আইনপ্রণেতা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

তবে একটি মানহানি মামলায় মিথ্যা বলার কারণে কারাগারে যাওয়ার ঘটনাও তাকে ব্যাপকভাবে আলোচিত করে তোলে। 

১৯৮৭ সালে ডেইলি স্টার পত্রিকা আর্চারের বিরুদ্ধে এক নারীর সঙ্গে যৌন সম্পর্কের জন্য অর্থ দেওয়ার অভিযোগে প্রতিবেদন প্রকাশ করে। এরপর তিনি পত্রিকাটির বিরুদ্ধে মানহানির মামলা করেন।

মামলায় তিনি জয়ী হন এবং সে সময় রেকর্ড ৫ লাখ পাউন্ড ক্ষতিপূরণ পান।

 
 

১৯৯৯ সালে লন্ডনের মেয়র নির্বাচনে রক্ষণশীল দলের প্রার্থী হিসেবে তার নাম আলোচনায় আসার পর মামলাটি আবার সামনে আসে। তার এক সাবেক বন্ধু অভিযোগ করেন, ওই মামলায় আর্চার মিথ্যা বলেছিলেন।

পরে আর্চারের বিরুদ্ধে মিথ্যা সাক্ষ্য দেওয়া এবং বিচারপ্রক্রিয়ায় বাধা দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়। তিনি দোষী সাব্যস্ত হন এবং চার বছরের কারাদণ্ড পান। এর মধ্যে প্রায় দুই বছর কারাগারে ছিলেন তিনি। কারাগারে থাকার সময় তিনি ‘এ প্রিজন ডায়েরি’ বইটি লেখেন।

আর্চারের মানহানি মামলার বিচার হয়েছিল জুরিদের সামনে। মামলাটি বিচারকের কিছু মন্তব্যের কারণে ব্যাপকভাবে আলোচিত হয়। আর্চারের স্ত্রী মেরির দেওয়া সাক্ষ্য নিয়ে বিচারক বার্নার্ড কলফিল্ড জুরিদের সামনে বিশেষ মন্তব্য করেন। তিনি মেরির সাক্ষ্য এবং তার আচরণ নিয়ে জুরিদের নিজেদের মতো করে মূল্যায়ন করতে বলেন।

আর্চারের ব্যক্তিগত জীবন ও আদালতের এই মামলার কারণে ব্রিটিশ জনজীবনে তিনি আলোচিত ও বিতর্কিত চরিত্রে পরিণত হন। তবে এসব ঘটনা তার লেখকজীবনে বড় ধরনের প্রভাব ফেলেনি। হার্পারকলিন্স জানিয়েছে, বিশ্বের ১১৯টি দেশে আর্চারের বই বিক্রি হয়েছে। নিউইয়র্ক টাইমসের বেস্টসেলার তালিকায় তার বইগুলো মোট সাড়ে পাঁচ বছর ছিল।
 

চলতি সপ্তাহান্তে চেলটেনহাম সাহিত্য উৎসবে তার শেষ উপন্যাস নিয়ে কথা বলার কথা ছিল। বইটির প্রচারে সম্প্রতি তিনি বিভিন্ন বেতার অনুষ্ঠানেও অংশ নিয়েছিলেন। হার্পারকলিন্স জানিয়েছে, লেখালেখির দুই পর্বের মাঝখানে হঠাৎ ও শান্তিপূর্ণভাবে আর্চারের মৃত্যু হয়েছে।