NYC Sightseeing Pass
ঢাকা, বুধবার, অক্টোবর ৭, ২০২৬ | ২২ আশ্বিন ১৪৩৩
Logo
logo
সংগীত ও সামাজিক অবদানের স্বীকৃতিতে যুক্ত হলো নতুন অর্জন

নিউইয়র্কে ড্রামিংয়ে সম্মাননা পেলেন ডিকিউ মিথুন


মশিউর রহমান মজুমদার   প্রকাশিত:  ০৭ অক্টোবর, ২০২৬, ০৭:১০ এএম

নিউইয়র্কে ড্রামিংয়ে সম্মাননা পেলেন ডিকিউ মিথুন

সংগীতচর্চা, সৃজনশীলতা ও ড্রামিংয়ের প্রতি নিষ্ঠার স্বীকৃতি হিসেবে ‘নর্থ আমেরিকা’স বেস্ট ড্রামার অ্যাওয়ার্ড’ পেয়েছেন Mohd Shahadad Osman (DQ Mithun)। দ্য বিউটিফুল লেডিস অব ইউএসএ প্রদত্ত এই সম্মাননা ডিকিউ মিথুনের বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রে অর্জিত বিভিন্ন স্বীকৃতির তালিকায় নতুন সংযোজন।

গত ৩ অক্টোবর নিউইয়র্কের কুইন্সের লং আইল্যান্ড সিটিতে অবস্থিত ইভানজেল ক্রিশ্চিয়ান সেন্টারে আয়োজিত এক সংগীত অনুষ্ঠানে ডিকিউ মিথুনের হাতে সম্মাননা তুলে দেওয়া হয়। বাংলাদেশের সংগীতশিল্পী ইমরান মাহমুদুল ও দিলশাদ নাহার কনা আয়োজকদের সঙ্গে পুরস্কার প্রদান করেন। অনুষ্ঠানে শিল্পী ও নিউইয়র্কের বাংলাদেশি কমিউনিটির সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

সম্মাননাপত্রে ডিকিউ মিথুনের ছন্দের ওপর দক্ষতা, সৃজনশীলতা এবং সংগীতের প্রতি অঙ্গীকারের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। শ্রোতাদের মধ্যে আনন্দ, উৎসাহ ও অনুপ্রেরণা ছড়িয়ে দেওয়ার বিষয়টিও স্থান পেয়েছে পুরস্কারের বক্তব্যে। এর মধ্য দিয়ে একটি সরাসরি সংগীত পরিবেশনায় ড্রামারের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা সামনে এসেছে।

ডিকিউ মিথুনের এই অর্জনের সঙ্গে যুক্ত রয়েছে আরও কয়েক ধরনের স্বীকৃতি। এই প্রতিবেদনের জন্য সরবরাহ করা সনদ ও সম্মাননার ছবিতে প্রতিযোগিতামূলক সংগীতে সাফল্য, সাংস্কৃতিক উৎসবে অংশগ্রহণ এবং বাংলাদেশি কমিউনিটির পাশে থাকার স্বীকৃতি পাওয়া যায়। এসব নথি ডিকিউ মিথুনের কাজের বিভিন্ন দিক তুলে ধরে।

এর মধ্যে রয়েছে ২০২৪ সালের ২৮ জুলাই তারিখের ক্যালিফোর্নিয়া স্টেট অ্যাসেম্বলির একটি সার্টিফিকেট অব রিকগনিশন। অ্যাসেম্বলির ৬০তম ডিস্ট্রিক্টের সদস্য ড. কোরি এ. জ্যাকসনের নামে দেওয়া সনদে বাংলাদেশি কমিউনিটিকে সহায়তায় ডিকিউ মিথুনের অবদানকে সম্মান জানানো হয়েছে। ডিকিউ মিথুনকে কমিউনিটি চ্যাম্পিয়ন হিসেবেও স্বীকৃতি দেওয়া হয়।

সনদে সিটি অব পেরিসের সঙ্গে এই স্বীকৃতির সম্পর্ক উল্লেখ রয়েছে। সংগীতের পাশাপাশি কমিউনিটির জন্য কাজ করার বিষয়টি গুরুত্ব পাওয়ায় ডিকিউ মিথুনের পরিচয়ে যুক্ত হয়েছে সামাজিক অবদানের একটি দিক। এটি শিল্পচর্চার বাইরেও মানুষের সঙ্গে সম্পৃক্ততার স্বীকৃতি বহন করে।

ডিকিউ মিথুনের নামে সিটি অব পেরিসের আরেকটি সার্টিফিকেট অব রিকগনিশন রয়েছে। ২০২৪ সালের ২১ জুলাই তারিখের এই সনদে আনন্দমেলা ২০২৪-এর পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানে ডিকিউ মিথুনের অংশগ্রহণের প্রশংসা করা হয়েছে। মেয়র মাইকেল এম. ভার্গাসের স্বাক্ষরসংবলিত সনদে নিজস্ব সংস্কৃতি তুলে ধরার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা হয়।

এই দুই সনদ ডিকিউ মিথুনের সাংস্কৃতিক অংশগ্রহণ ও কমিউনিটির প্রতি অবদানকে সামনে আনে। সংগীতবিষয়ক সম্মাননার পাশাপাশি এগুলো একজন শিল্পীর সঙ্গে সামাজিক ও সাংস্কৃতিক পরিসরের সম্পর্কের পরিচয় দেয়। মঞ্চের পরিবেশনা এবং কমিউনিটির আয়োজনে অংশগ্রহণ—দুই ক্ষেত্রেই স্বীকৃতির উপস্থিতি দেখা যায়।

প্রতিযোগিতামূলক সংগীতে ডিকিউ মিথুনের অর্জনের প্রমাণ হিসেবে রয়েছে নেসক্যাফে গেট সেট রক-এর সার্টিফিকেট অব অ্যাপ্রিসিয়েশন। সনদে বলা হয়েছে, হাজারো প্রতিযোগীর মধ্য থেকে ৪২ জন সংগীতশিল্পী চূড়ান্ত পর্বে উত্তীর্ণ হন। ডিকিউ মিথুন ছিলেন সেই নির্বাচিত অংশগ্রহণকারীদের একজন।

এই নির্বাচন ডিকিউ মিথুনের সংগীতজীবনের একটি নির্দিষ্ট প্রতিযোগিতামূলক অর্জন। সংগীত প্রতিযোগিতার চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছানোর তথ্য ডিকিউ মিথুনের দক্ষতার স্বীকৃতিকে একটি স্পষ্ট ভিত্তি দেয়। সরবরাহ করা নথিতে এই অর্জন সরাসরি উল্লেখ থাকায় সংগীতচর্চার ধারাবাহিকতা বোঝার ক্ষেত্রেও এর গুরুত্ব রয়েছে।

ডিকিউ মিথুনের সম্মাননার মধ্যে আরও রয়েছে লালন মেলা ইউএসএ ২০২৪-এর একটি ট্রফি। এতে ডিকিউ মিথুনের পূর্ণ নাম খোদাই করা রয়েছে। পৃথক আরেকটি ট্রফিতে ২০২৫ সালের অরেঞ্জ কাউন্টির সামার ফেস্টিভ্যাল ‘গ্রীষ্ম বরণ উৎসব’-এ ডিকিউ মিথুনের সম্মাননা পাওয়ার তথ্য উল্লেখ আছে।

 

যুক্তরাষ্ট্রের সাংস্কৃতিক উৎসবগুলোতে ডিকিউ মিথুনের সম্পৃক্ততার আরও একটি নিদর্শন আনন্দমেলা লস অ্যাঞ্জেলেসের পরিচয়পত্র। সেখানে ডিকিউ মিথুনকে সংগীতশিল্পী হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। উৎসবের সম্মাননা ও পরিচয়পত্র মিলিয়ে সাংস্কৃতিক আয়োজনের সঙ্গে ডিকিউ মিথুনের অংশগ্রহণের পরিচয় পাওয়া যায়।

প্রতিটি স্বীকৃতির উদ্দেশ্য ও ধরন আলাদা। কোনোটি সংগীত প্রতিযোগিতায় নির্বাচনের প্রমাণ, কোনোটি উৎসবের সম্মাননা, আবার কোনোটি সামাজিক অবদানের প্রশংসাপত্র। একসঙ্গে দেখলে এসব নথিতে সংগীত ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে ডিকিউ মিথুনের সম্পৃক্ততার একটি বিস্তৃত চিত্র ফুটে ওঠে।

দলগত সংগীত পরিবেশনায় একজন ড্রামারের কাজ বিশেষ মনোযোগ দাবি করে। তাল ধরে রাখা, গানের গতি অনুযায়ী বাজনার তীব্রতা নিয়ন্ত্রণ এবং অন্য শিল্পীদের সঙ্গে সমন্বয়—সবই পরিবেশনার মান নির্ধারণে ভূমিকা রাখে। ড্রামারকে দেওয়া সম্মাননা তাই মঞ্চের সম্মিলিত সংগীত নির্মাণে যন্ত্রশিল্পীর অবদানকেও আলোচনায় আনে।

ডিকিউ মিথুনের সর্বশেষ পুরস্কারের বক্তব্যে এই শিল্পীসত্তাই গুরুত্ব পেয়েছে। ছন্দের দক্ষতার সঙ্গে সৃজনশীলতা ও নিষ্ঠার উল্লেখ ড্রামিংকে একটি প্রকাশক্ষম শিল্পমাধ্যম হিসেবে তুলে ধরে। একই সঙ্গে শ্রোতার সঙ্গে সংগীতের সংযোগ তৈরিতে ডিকিউ মিথুনের ভূমিকার প্রশংসা করা হয়েছে।

নিউইয়র্কের অনুষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনায় ছিলেন নাদিয়া চৌধুরী ও সিলভি আকন্দ। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নিউইয়র্ক সিনিয়র অ্যাডাল্ট ডে কেয়ারের প্রধান নির্বাহী মোহাম্মদ জাহিদ আলম।

অক্টোবরের এই সম্মাননার মধ্য দিয়ে ডিকিউ মিথুনের অর্জনের তালিকায় যুক্ত হলো ড্রামিংকে কেন্দ্র করে আরেকটি স্বীকৃতি। প্রতিযোগিতামূলক সংগীত থেকে সাংস্কৃতিক উৎসব এবং কমিউনিটির অবদানের প্রশংসাপত্র—এসব মাইলফলকের সঙ্গে সর্বশেষ পুরস্কারটি ডিকিউ মিথুনের সংগীতচর্চাকে নতুন করে সামনে এনেছে।