NYC Sightseeing Pass
ঢাকা, বৃহস্পতিবার, সেপ্টেম্বর ১৭, ২০২৬ | ১ আশ্বিন ১৪৩৩
ব্রেকিং নিউজ
মক্কার কাছে হুথি ড্রোন ভূপাতিতের দাবি সৌদি আরবের আগস্টে যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি বেড়েছে ২৫.৬৫ শতাংশ এআই, ড্রোন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করছে সন্ত্রাসীরা, সতর্ক জাতিসংঘ রাশিয়ায় সামরিক ড্রোন তৈরিতে উত্তর কোরীয় শ্রমিক: এমএসএমটি বিমানমন্ত্রীর সঙ্গে ব্রিটিশ হাইকমিশনারের সৌজন্য সাক্ষাৎ আসিফের বিরুদ্ধে নতুন পদক্ষেপ দুদকের হাসিনা, কামাল ও কাদেরসহ এখন পর্যন্ত যে ২২ জনের মৃত্যুদণ্ড ডাকযোগে ভোটে ট্রাম্পের বিধি-নিষেধ আটকে দিলেন সুপ্রিম কোর্ট কলম্বিয়ার সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বিরুদ্ধে গৃহকর্মীকে মিথ্যা শনাক্তকরণ পরীক্ষায় বসানোর অভিযোগ কাদের-নাছিমসহ আওয়ামী লীগের ৭ নেতার মৃত্যুদণ্ডের প্রতিবাদে নিউইয়র্কে বিক্ষোভ
Logo
logo
সম্পাদকীয়

কিশোর গ্যাং নয়, অপরাধের শিকড় উপড়ে ফেলতে হবে


Shibbir Ahmed   প্রকাশিত:  ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ০৯:০৯ পিএম

কিশোর গ্যাং নয়, অপরাধের শিকড় উপড়ে ফেলতে হবে

ছিনতাই, চাঁদাবাজি, মাদক ব্যবসা, জমি দখল, আধিপত্য বিস্তার কিংবা হত্যাকাণ্ড—দেশের বিভিন্ন প্রান্তে এসব অপরাধের সঙ্গে এখন প্রায়ই শোনা যায় ‘কিশোর গ্যাং’ শব্দটি। একসময় পাড়া-মহল্লার সন্ত্রাসী বাহিনী যে জায়গা দখল করেছিল, অনেক ক্ষেত্রে সেই জায়গাতেই এখন দেখা যাচ্ছে কিশোর ও তরুণদের ছোট ছোট গ্রুপ। তবে সমস্যাটিকে শুধু ‘কিশোরদের অপরাধ’ হিসেবে দেখলে এর প্রকৃত চিত্র আড়ালেই থেকে যাবে। কারণ এসব গ্রুপের পেছনে প্রাপ্তবয়স্ক অপরাধী, স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তি, মাদক ব্যবসায়ী কিংবা অন্য কোনো স্বার্থগোষ্ঠীর পৃষ্ঠপোষকতার অভিযোগও বারবার সামনে আসে।

উত্তরায় আদনান কবীর হত্যাকাণ্ডের পর রাজধানীতে কিশোর গ্যাং নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছিল। এরপর সময় যত গড়িয়েছে, ততই দেশের বিভিন্ন এলাকায় একই ধরনের অপরাধী গ্রুপের অস্তিত্বের খবর পাওয়া গেছে। স্কুল-কলেজপড়ুয়া তরুণদের বন্ধুত্ব, আড্ডা কিংবা দলবদ্ধ চলাফেরা থেকে শুরু হওয়া একটি গ্রুপ কীভাবে ধীরে ধীরে অপরাধী চক্রে পরিণত হয়, তার ভয়াবহ উদাহরণও কম নয়। একপর্যায়ে ছিনতাই বা ছোটখাটো মারামারি পেরিয়ে কেউ কেউ মাদক, অস্ত্র এবং হত্যার মতো গুরুতর অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে।

এখানেই রাষ্ট্র ও সমাজের জন্য সবচেয়ে বড় সতর্কবার্তা। একটি কিশোর যখন অপরাধে জড়িয়ে পড়ে, তখন শুধু তাকে গ্রেপ্তার করলেই সমস্যার সমাধান হয় না। প্রশ্ন করতে হবে—সে অস্ত্র পেল কোথা থেকে, মাদক পেল কার কাছ থেকে, অপরাধের প্রশিক্ষণ বা সাহস পেল কীভাবে, আর তার পেছনে কে ছিল? একজন কিশোর অপরাধীকে আইনের আওতায় আনা জরুরি; কিন্তু তার চেয়েও জরুরি হলো সেই প্রাপ্তবয়স্ক অপরাধী চক্রকে চিহ্নিত করা, যারা কিশোরদের ব্যবহার করে নিজেদের অপরাধের পরিধি বাড়ায়।

কিশোর গ্যাংয়ের বিস্তারের আরেকটি বড় কারণ মাদকের সহজলভ্যতা। মাদক যখন একটি এলাকার সামাজিক বাস্তবতার অংশ হয়ে যায়, তখন সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে কিশোর-কিশোরীরা। এর সঙ্গে যুক্ত হয় পারিবারিক নজরদারির অভাব, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মূল্যবোধের চর্চার ঘাটতি, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপরাধীসুলভ ‘হিরোইজম’ প্রদর্শনের প্রবণতা এবং সুস্থ বিনোদন ও খেলাধুলার সুযোগের সংকট। ফলে একটি স্বাভাবিক বন্ধুত্বের দলও কখনো কখনো অপরাধের প্ল্যাটফর্মে পরিণত হতে পারে।

তবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযান অবশ্যই অব্যাহত রাখতে হবে। অপরাধ সংঘটিত হলে দ্রুত ব্যবস্থা, অস্ত্র ও মাদক উদ্ধারে কার্যকর অভিযান এবং পৃষ্ঠপোষকদের আইনের আওতায় আনা—সবই জরুরি। একই সঙ্গে কিশোরদের অপরাধী হিসেবে চিহ্নিত করে তাদের ভবিষ্যৎ পুরোপুরি ধ্বংস করে দেওয়ার পথও গ্রহণযোগ্য নয়। যারা সংশোধনের সুযোগ পাওয়ার উপযুক্ত, তাদের জন্য কাউন্সেলিং, পরিবারভিত্তিক পুনর্বাসন, শিক্ষা ও দক্ষতা উন্নয়নের ব্যবস্থা থাকতে হবে।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো, কিশোর গ্যাংকে বিচ্ছিন্ন কোনো সামাজিক সমস্যা হিসেবে না দেখে এর সঙ্গে যুক্ত পুরো অপরাধ-অর্থনীতি ও পৃষ্ঠপোষকতার কাঠামোকে মোকাবিলা করা। পুলিশ একা এই সমস্যার সমাধান করতে পারবে না। পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, স্থানীয় সমাজ, জনপ্রতিনিধি, ধর্মীয় ও সামাজিক নেতৃত্ব—সব পক্ষকেই দায়িত্ব নিতে হবে।

একটি কিশোরের হাতে অস্ত্র ওঠার পর তাকে গ্রেপ্তার করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব; কিন্তু সেই অস্ত্র তার হাতে ওঠার আগেই তাকে থামানো পরিবার ও সমাজের দায়িত্ব। আর যে ব্যক্তি বা চক্র তাকে অস্ত্র তুলে দেয়, তাকে বিচারের মুখোমুখি করা আইনের দায়িত্ব।

তাই ‘কিশোর গ্যাং’ শব্দটি নিয়ে শুধু আতঙ্ক বা আলোচনা নয়—প্রয়োজন দীর্ঘমেয়াদি ও সমন্বিত পদক্ষেপ। কিশোরদের অপরাধ থেকে দূরে রাখতে হলে তাদের জন্য নিরাপদ পরিবেশ তৈরি করতে হবে, আর অপরাধীদের কিশোরদের ব্যবহার করার সুযোগ বন্ধ করতে হবে। কিশোরদের ভবিষ্যৎ রক্ষা এবং সমাজের নিরাপত্তা—দুটিকেই একসঙ্গে গুরুত্ব দিয়েই এই সমস্যার সমাধান খুঁজতে হবে।