NYC Sightseeing Pass
ঢাকা, মঙ্গলবার, আগস্ট ২৫, ২০২৬ | ৯ ভাদ্র ১৪৩৩
ব্রেকিং নিউজ
নিউইয়র্কের টাইমস স্কয়ারে বিশ্বমঞ্চে শাড়ির প্রচার: ‘শাড়ি গোজ গ্লোবাল’ ট্রাম্প প্রশাসন ছাড়ছেন প্রেস সেক্রেটারি কারোলিন লেভিট জাতিসংঘের মহাসচিব পদের দৌড়ে দ্বিতীয় দফায় এগিয়ে রদ্রিগেস-বিরকেট প্রধানমন্ত্রীর হাতে যোগদানপত্র তুলে দিলেন জহির উদ্দিন স্বপন গ্রেপ্তার ২ তরুণের পরিবারেরও প্রশ্ন—‘দুজন মিলে কি এত বড় ঘটনা ঘটাতে পারে?’ নতুন আন্দোলনের হুঁশিয়ারি সিজেপির, আজ বৈঠক প্রিন্সেস ডায়ানার জীবন নিয়ে বই লিখছেন ভাই চার্লস স্পেন্সার বক্স অফিসে দারুণ আয় দিয়ে শুরু হলো নতুন ‘ইনসিডিয়াস’ রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শনে যাচ্ছে মার্কিন প্রতিনিধিদল ই-হেলথ প্ল্যাটফর্মের পাইলট প্রকল্প শুরুর নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর
Logo
logo

কেনিয়ায় ১৫ হাতির রহস্যজনক মৃত্যু, সন্দেহের মুখে কীটনাশকের ব্যবহার


খবর   প্রকাশিত:  ০৫ আগস্ট, ২০২৬, ১১:০৮ এএম

কেনিয়ায় ১৫ হাতির রহস্যজনক মৃত্যু, সন্দেহের মুখে কীটনাশকের ব্যবহার

কেনিয়ার বিখ্যাত অ্যাম্বোসেলি জাতীয় উদ্যানের পার্শ্ববর্তী এলাকায় রহস্যজনকভাবে ১৫টি হাতির মৃত্যুর ঘটনায় দেশটিতে চরম উদ্বেগ ও নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে টমেটো খামারে ব্যবহৃত কীটনাশকের বিষক্রিয়াকে দায়ী করা হলেও, সরকারি এই দাবি মানতে নারাজ স্থানীয় কৃষক ও পরিবেশ সংরক্ষণবিদরা।

ফলে ঘটনাটি ঘিরে তৈরি হয়েছে গভীর ধোঁয়াশা।

 

কেনিয়া ওয়াইল্ডলাইফ সার্ভিস (কেডব্লিউএস) জানিয়েছে, গত ২৪ জুন থেকে ২৪ জুলাইয়ের মধ্যে মারা যাওয়া কয়েকটি হাতির শরীরে পক্ষাঘাতের লক্ষণ দেখা গেছে। সংস্থাটির প্রধান পশুচিকিৎসক ডক্টর আইজ্যাক লেকোলুল জানান, মৃত হাতিগুলোর পাকস্থলী থেকে নেওয়া নমুনায় মারাত্মক রাসায়নিক সায়ানাইডের উপস্থিতি পাওয়া গেছে। তাদের ধারণা, কিমানা এলাকার টমেটো ক্ষেতে পোকা দমনে ব্যবহৃত রাসায়নিক থেকে অনিচ্ছাকৃতভাবে এই বিষক্রিয়া ঘটে থাকতে পারে।

তবে ইচ্ছাকৃতভাবে বিষ প্রয়োগের আশঙ্কাও তারা পুরোপুরি উড়িয়ে দিচ্ছেন না। তবে কেডব্লিউএস-এর এই ব্যাখ্যা মেনে নিতে পারছেন না আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন বন্যপ্রাণী সংরক্ষণবিদরা। বিশ্বখ্যাত হাতি সংরক্ষণবিদ পাওলা কাহুম্বু বলেন, কীটনাশকের কারণেই মৃত্যু হয়েছে—এমন দাবিতে বিশ্বাস করার মতো পর্যাপ্ত ও সুনির্দিষ্ট তথ্য সরকারের কাছে নেই।

 

গবেষণা সংস্থা ‘রুট টু ফুড’-এর ২০২৪ সালের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কেনিয়ায় নিষিদ্ধ হওয়া সত্ত্বেও প্রতিবেশী তানজানিয়া সীমান্ত দিয়ে অবাধে বিপজ্জনক কৃষি রাসায়নিক পাচার হয়ে আসছে।

শিথিল নজরদারির সুযোগে কৃষকরা না জেনেই ফসলে মারাত্মক ক্ষতিকর রাসায়নিক ব্যবহার করছেন, যা পরিবেশ ও বন্যপ্রাণীর জন্য চরম হুমকিস্বরূপ।

 

বিশেষজ্ঞরা সরকারি তদন্তের ওপর মূলত দুইটি কারণে প্রশ্ন তুলছেন—প্রথমত, লোকালয়ের খামারে হানা দেওয়ার ঝুঁকি সাধারণত পূর্ণবয়স্ক পুরুষ হাতিরা নিলেও মৃত ১৫টি হাতির মধ্যে মাত্র একটি পুরুষ এবং বাকিগুলো ছিল স্ত্রী ও ছোট হাতি, যা হাতির স্বাভাবিক আচরণের সঙ্গে মেলে না। দ্বিতীয়ত, স্থানীয় প্রতিনিধি ড্যানিয়েল নিনার প্রশ্ন অনুযায়ী, ফসল খেয়ে যদি হাতিই মারা যাবে, তবে একই এলাকায় পাশাপাশি বিচরণ করা ও ঘাস খাওয়া জেব্রা বা হরিণ জাতীয় অন্য প্রাণীদের কোনো ক্ষতি হলো না কেন?

সংরক্ষণ সংস্থা ‘সেভ দ্য এলিফ্যান্টস’-এর প্রধান নির্বাহী ফ্র্যাঙ্ক পোপ জানান, আসল সংকট তৈরি হয়েছে অপরিকল্পিত ‘ভূমি ব্যবহার’ নিয়ে। অ্যাম্বোসেলি ও সাভো জাতীয় উদ্যানের সংযোগস্থলে হাতি চলাচলের করিডরগুলোতে মানুষ উর্বর জমি ও পানির খোঁজে খামার ও রিসোর্ট গড়ে তুলছে। এর ফলে গৃহহীন হাতিরা প্রায়ই ফসলি জমিতে হানা দিচ্ছে এবং কৃষকদের বিপুল আর্থিক ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে।

 

এখন পর্যন্ত হাতিগুলোর মৃত্যুর আসল কারণ আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে এই বিষাক্ত পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে না এলে অবশিষ্ট হাতি ও স্থানীয় বাসিন্দারা আরো বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে পড়তে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।