NYC Sightseeing Pass
ঢাকা, রবিবার, আগস্ট ২, ২০২৬ | ১৮ শ্রাবণ ১৪৩৩
ব্রেকিং নিউজ
সরকার-ব্যবসায়ীদের সমন্বিত প্রচেষ্টায় অর্থনীতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন সম্ভব : প্রধানমন্ত্রী অভিবাসী সংকটে স্পেনের সঙ্গে ‘শেনজেন চুক্তি’ স্থগিত করল ইতালি ইরানের ওপর হামলা আপাতত স্থগিত : ট্রাম্প বিশ্বকাপের কষ্ট ভুলে মাঠে ফিরলেন মেসি, কাসেমিরোর আত্মঘাতী গোল ‘এন্ডগেম’কে পেছনে ফেলে প্রিভিউ আয়ে শীর্ষে ‘স্পাইডার-ম্যান: ব্র্যান্ড নিউ ডে’ থ্যালাসেমিয়া শনাক্তে গ্রাম পর্যন্ত স্ক্রিনিং চালুর আহ্বান জুবাইদা রহমানের আজ থেকে সব গণপরিবহনে জিপিএস বাধ্যতামূলক স্পেনের অভিবাসন সংকট নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রকে ট্রাম্পের সতর্কবার্তা গাজার প্রস্তাবিত শান্তিচুক্তিকে স্বাগত জানাল ইউরোপীয় ইউনিয়ন গ্র্যামি থেকে সরে দাঁড়ানো নিয়ে বিতর্ক, কেন এমন সিদ্ধান্ত নিল বিটিএস?
Logo
logo

সিউতা সংকট জরুরি বৈঠকে ইইউ, স্পেনের বিরুদ্ধে ২২ দেশ


খবর   প্রকাশিত:  ০২ আগস্ট, ২০২৬, ১০:০৮ এএম

সিউতা সংকট জরুরি বৈঠকে ইইউ, স্পেনের বিরুদ্ধে ২২ দেশ

মরক্কো সীমান্তবর্তী স্পেনের স্বায়ত্তশাসিত শহর সেউতায় নজিরবিহীন অভিবাসনসংকট তৈরি হওয়ার পর ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে চরম উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। স্পেনের সঙ্গে অন্যান্য সদস্য রাষ্ট্রগুলোর তীব্র তর্ক-বিতর্কের পরিপ্রেক্ষিতে উদ্ভূত এই সংকট নিরসনে আগামী মঙ্গলবার জরুরি বৈঠকে বসতে যাচ্ছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন।

খবর বিবিসি

 

মরক্কো হয়ে সমুদ্রপথে এই বিপুল সংখ্যক অভিবাসী প্রবেশকে কেন্দ্র করে ইইউ-এর সদস্য দেশগুলোর মধ্যে শুরু হয়েছে কাদা ছোড়াছুড়ি। এরই মধ্যে ইতালি স্পেনের সঙ্গে মুক্তভাবে চলাচলের ‘শেনজেন’ চুক্তি সাময়িকভাবে স্থগিত ঘোষণা করেছে। ডেনমার্ক ও ফিনল্যান্ডও ইতালির এই পদক্ষেপকে সমর্থন জানিয়ে সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ পুনরায় চালুর দাবি তুলেছে।

 

 

২২ দেশের চিঠি ও স্পেনের তীব্র প্রতিক্রিয়া
ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লিয়েন এবং ইইউ নেতৃত্বের কাছে পাঠানো ২২টি সদস্য দেশের যৌথ চিঠিতে বলা হয়েছে, এই ধরনের অবৈধ অনুপ্রবেশের চেষ্টা ইউরোপীয় ইউনিয়নের সার্বিক অভিবাসন নীতি ও সীমান্ত সুরক্ষাকে মারাত্মক ঝুঁকিতে ফেলবে।

চিঠিতে নেদারল্যান্ডস, ফিনল্যান্ড, বেলজিয়ামসহ ২২টি দেশের প্রধানরা স্বাক্ষর করেছেন।

 

অপরদিকে ইতালির শেনজেন বাতিল ও অন্যান্য দেশের সমালোচনার মুখে কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ। ইউরোপীয় কমিশনের কাছে লেখা পৃথক চিঠিতে তিনি মিত্র দেশগুলোর এই মনোভাবকে ‘স্বার্থপর, মেরুকরণ সৃষ্টিকারী, অবৈধ এবং কুসংস্কারাচ্ছন্ন’ বলে মন্তব্য করেছেন।

 

 

সানচেজ স্পষ্ট জানিয়ে দেন, সেউতা মূলত শেনজেন এলাকার অন্তর্ভুক্ত নয় এবং মাত্র ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে স্পেন সীমান্তে পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ পুনঃপ্রতিষ্ঠা করে মূল ইউরোপে অবৈধ অনুপ্রবেশ বন্ধ করতে সক্ষম হয়েছে।

 

মৃত্যু বেড়ে ৬৭, স্বাভাবিক হচ্ছে সেউতা 
স্পেন সরকার জানিয়েছে, গত ৩০ জুলাই অনুপ্রবেশের চেষ্টা চালানো অধিকাংশ অভিবাসীকে এরই মধ্যে ফেরত পাঠানো হয়েছে। তবে সাঁতরে সীমান্ত অতিক্রমের চেষ্টাকালে মর্মান্তিকভাবে প্রাণ হারানো মানুষের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে অন্তত ৬৭ জনে।

স্পেনের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ফার্নান্দো গ্রান্দে-মারলাস্কা শনিবার জানিয়েছেন, সেউতার ব্যবসা-বাণিজ্য ও জনজীবন আবার স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে এবং জলপথে অবৈধ প্রবেশ ঠেকাতে ভাসমান প্রতিবন্ধক তৈরির কাজ চলছে।

 

 

চাপে স্পেন সরকার ও বিশ্বনেতাদের প্রতিক্রিয়া 
জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিশ মার্জ দাবি করেছেন যে, মরক্কোকে অবিলম্বে এই অবৈধ অভিবাসীদের ফেরত নিতে হবে। অপরদিকে ইউরোপীয় কমিশনের প্রধান উরসুলা ভন ডার লিয়েন একে ‘অগ্রহণযোগ্য’ উল্লেখ করে নিয়ম মেনে চলার তাগিদ দিয়েছেন।

ইউকে প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহামও স্পেনের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলে সহায়তার আশ্বাস দিয়েছেন।

 

 

 

ইউরোপ মহাদেশে প্রবেশের একমাত্র আফ্রিকান ভূখণ্ডের স্থলসীমানা হওয়ায় মরক্কোর তরুণ সমাজ, যারা কাজের দাবিতে দীর্ঘদিন ধরে নিজ দেশে বিক্ষোভ করছে, সেউতাকে ইউরোপে পৌঁছানোর প্রধান রুট হিসেবে ব্যবহার করে থাকে। তবে এই সাম্প্রতিক ঘটনা ইউরোপীয় ইউনিয়নের অভ্যন্তরীণ মুক্ত চলাচল ব্যবস্থা এবং অভিবাসন নীতিকে এক নজিরবিহীন চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলে দিল।