NYC Sightseeing Pass
ঢাকা, মঙ্গলবার, আগস্ট ২৫, ২০২৬ | ৯ ভাদ্র ১৪৩৩
ব্রেকিং নিউজ
নিউইয়র্কের টাইমস স্কয়ারে বিশ্বমঞ্চে শাড়ির প্রচার: ‘শাড়ি গোজ গ্লোবাল’ ট্রাম্প প্রশাসন ছাড়ছেন প্রেস সেক্রেটারি কারোলিন লেভিট জাতিসংঘের মহাসচিব পদের দৌড়ে দ্বিতীয় দফায় এগিয়ে রদ্রিগেস-বিরকেট প্রধানমন্ত্রীর হাতে যোগদানপত্র তুলে দিলেন জহির উদ্দিন স্বপন গ্রেপ্তার ২ তরুণের পরিবারেরও প্রশ্ন—‘দুজন মিলে কি এত বড় ঘটনা ঘটাতে পারে?’ নতুন আন্দোলনের হুঁশিয়ারি সিজেপির, আজ বৈঠক প্রিন্সেস ডায়ানার জীবন নিয়ে বই লিখছেন ভাই চার্লস স্পেন্সার বক্স অফিসে দারুণ আয় দিয়ে শুরু হলো নতুন ‘ইনসিডিয়াস’ রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শনে যাচ্ছে মার্কিন প্রতিনিধিদল ই-হেলথ প্ল্যাটফর্মের পাইলট প্রকল্প শুরুর নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর
Logo
logo

যুক্তরাষ্ট্রকে চ্যালেঞ্জ করতে চীনের নতুন ‘এআই জোট’


খবর   প্রকাশিত:  ১৮ জুলাই, ২০২৬, ১০:০৭ এএম

যুক্তরাষ্ট্রকে চ্যালেঞ্জ করতে চীনের নতুন ‘এআই জোট’

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই খাতে যুক্তরাষ্ট্রকে চ্যালেঞ্জ করে বৈশ্বিক প্রভাব বিস্তারে নতুন কৌশল নিয়ে মাঠে নেমেছে চীন। বিশ্বের ২৯টি দেশ নিয়ে গঠিত ‘ওয়ার্ল্ড আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স কোঅপারেশন অর্গানাইজেশন (ওয়াইকো)’ নামের এই জোটের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নিজেদের প্রভাব বাড়ানোর চেষ্টা করছে বেইজিং ।

 

সাংহাইয়ে অনুষ্ঠিত বিশ্ব কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সম্মেলনে (ডব্লিউএআইসি) চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং বলেছেন, এআই কোনো একক দেশের নিয়ন্ত্রণে থাকা উচিত নয়। এটি আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ও যৌথ উন্নয়নের ক্ষেত্র হওয়া প্রয়োজন।

শুক্রবার দেওয়া বক্তব্যে পরোক্ষভাবে যুক্তরাষ্ট্রের সমালোচনা করে তিনি বলেন, জাতীয় নিরাপত্তার অজুহাতে প্রযুক্তি খাতে অন্য দেশকে সীমাবদ্ধ করা উচিত নয়। তার মতে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার উন্নয়ন ও ব্যবহার আন্তর্জাতিক অংশীদারত্বের ভিত্তিতে পরিচালিত হওয়া দরকার।

 

এর আগে স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার সাংহাইয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করে ওয়াইকো। ২৯টি দেশ নিয়ে গঠিত এই জোটের সদর দপ্তর সাংহাইয়ে স্থাপন করা হয়েছে। জোটটিতে ইন্দোনেশিয়া, ব্রাজিল, মালয়েশিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকা, সেনেগাল, রাশিয়া ও পাকিস্তানসহ গ্লোবাল সাউথভুক্ত বিভিন্ন দেশ অংশ নিয়েছে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস উপস্থিত ছিলেন।

 

বিশ্লেষকদের ধারণা, এই জোটের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে এআই-সংক্রান্ত নীতিমালা ও আইন প্রণয়নে নিজেদের প্রভাব বাড়ানোর চেষ্টা করবে চীন। প্রযুক্তি খাতে নেতৃত্ব নিয়ে বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে তীব্র প্রতিযোগিতা চলছে। বিশেষ করে উন্নতমানের সেমিকন্ডাক্টর বা চিপ প্রযুক্তিকে কেন্দ্র করে দুই দেশের মধ্যে যে দ্বন্দ্ব তৈরি হয়েছে, তা ‘চিপ যুদ্ধ’ নামে পরিচিত।

জাতীয় নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে চীনের কাছে উন্নত চিপ রপ্তানিতে বিধিনিষেধ আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে চীনও চিপ উৎপাদনে ব্যবহৃত গুরুত্বপূর্ণ বিরল খনিজ রপ্তানিতে সীমাবদ্ধতা আরোপ করেছে।

 

উন্নত চিপ উৎপাদনে চীন এখনো কিছুটা পিছিয়ে থাকলেও বৃহৎ ডাটা সেন্টার, বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা এবং খনিজ সম্পদের ক্ষেত্রে দেশটি উল্লেখযোগ্য সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। ফলে এআই খাতের দীর্ঘমেয়াদি প্রতিযোগিতায় চীনের অবস্থান শক্তিশালী হতে পারে।

কার্নেগি এনডাউমেন্ট ফর ইন্টারন্যাশনাল পিসের গভর্ন্যান্স বিশেষজ্ঞ অরিন্দ্রজিৎ বসু আলজাজিরাকে বলেন, বৈশ্বিক সাইবার ও এআই নীতি নির্ধারণে যুক্তরাষ্ট্র যখন তুলনামূলকভাবে পিছিয়ে যাচ্ছে, তখন চীন সেই শূন্যস্থান কাজে লাগিয়ে নিজেদের নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছে।

উন্নয়নশীল দেশগুলোর সমর্থন নিয়ে এআই শাসনব্যবস্থায় নতুন প্রভাব বলয় তৈরি করতে চায় বেইজিং। বিশ্লেষকদের মতে, এই উদ্যোগ ভবিষ্যতে প্রযুক্তি বিশ্বে যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের প্রভাবের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে।