NYC Sightseeing Pass
ঢাকা, রবিবার, আগস্ট ২, ২০২৬ | ১৮ শ্রাবণ ১৪৩৩
ব্রেকিং নিউজ
সরকার-ব্যবসায়ীদের সমন্বিত প্রচেষ্টায় অর্থনীতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন সম্ভব : প্রধানমন্ত্রী অভিবাসী সংকটে স্পেনের সঙ্গে ‘শেনজেন চুক্তি’ স্থগিত করল ইতালি ইরানের ওপর হামলা আপাতত স্থগিত : ট্রাম্প বিশ্বকাপের কষ্ট ভুলে মাঠে ফিরলেন মেসি, কাসেমিরোর আত্মঘাতী গোল ‘এন্ডগেম’কে পেছনে ফেলে প্রিভিউ আয়ে শীর্ষে ‘স্পাইডার-ম্যান: ব্র্যান্ড নিউ ডে’ থ্যালাসেমিয়া শনাক্তে গ্রাম পর্যন্ত স্ক্রিনিং চালুর আহ্বান জুবাইদা রহমানের আজ থেকে সব গণপরিবহনে জিপিএস বাধ্যতামূলক স্পেনের অভিবাসন সংকট নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রকে ট্রাম্পের সতর্কবার্তা গাজার প্রস্তাবিত শান্তিচুক্তিকে স্বাগত জানাল ইউরোপীয় ইউনিয়ন গ্র্যামি থেকে সরে দাঁড়ানো নিয়ে বিতর্ক, কেন এমন সিদ্ধান্ত নিল বিটিএস?
Logo
logo

পুতিনকে খোলা চিঠি, মুখোমুখি বৈঠকের প্রস্তাব জেলেনস্কির


খবর   প্রকাশিত:  ০৫ জুন, ২০২৬, ০৯:০৬ এএম

পুতিনকে খোলা চিঠি, মুখোমুখি বৈঠকের প্রস্তাব জেলেনস্কির

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে সরাসরি মুখোমুখি বৈঠকের প্রস্তাব দিয়েছেন। পুতিনের উদ্দেশে লেখা এক খোলা চিঠিতে তিনি বলেন, ইউক্রেন ও রাশিয়ার মধ্যে সরাসরি আলোচনার মাধ্যমেই শান্তির পথ খুঁজে পাওয়া সম্ভব।

 

চিঠিতে জেলেনস্কি উল্লেখ করেন, ইউরোপের যুদ্ধ আবারও যুক্তরাষ্ট্রের মূল মনোযোগে ফিরে আসার অপেক্ষায় থাকা ঠিক হবে না। তিনি প্রস্তাবিত আলোচনার পুরো সময়জুড়ে পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধবিরতিরও আহ্বান জানান। তবে বৃহস্পতিবারই পুতিন এমন প্রস্তাব নাকচ করে দেন।

 

 

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, দুই নেতার মধ্যে বৈঠক হলে তা ‘চমৎকার’ হবে।

ক্রেমলিন জানিয়েছে, তারা জেলেনস্কির চিঠি পেয়েছে এবং বিষয়টি সম্পর্কে পুতিনকে অবহিত করা হবে।

 

চিঠির ভাষা ছিল দৃঢ় ও কিছু ক্ষেত্রে ব্যঙ্গাত্মক। এতে জেলেনস্কি সাম্প্রতিক সময়ে রুশ ভূখণ্ডে ইউক্রেনের হামলার প্রসঙ্গ টেনে পুতিনকে কটাক্ষ করেন। তিনি লেখেন, ২৬ বছর ক্ষমতায় থাকার পর বয়সের প্রভাব পুতিনের ওপর পড়তে শুরু করেছে।

 

চিঠিতে জেলেনস্কি সরাসরি লিখেছেন, ইউক্রেন আমাদের এবং আপনাদের মধ্যে সরাসরি আলোচনার মাধ্যমে এই যুদ্ধের অবসান চায়। আমি একটি বৈঠকের প্রস্তাব দিচ্ছি। তবে এটি জেলেনস্কির পক্ষ থেকে প্রথম এমন প্রস্তাব নয়। আগের মতো এবারও ক্রেমলিন জানিয়েছে, জেলেনস্কি চাইলে মস্কোতে এসে পুতিনের সঙ্গে দেখা করতে পারেন।

 

 

চিঠিতে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিল যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান অগ্রাধিকারের প্রসঙ্গ।

জেলেনস্কি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র এখন পুরোপুরি ইরান ইস্যুতে মনোযোগী। ইউরোপের যুদ্ধ আবারও তাদের মনোযোগের কেন্দ্রে ফিরে আসা পর্যন্ত অপেক্ষা করা ভুল হবে।

 

অন্যদিকে সেন্ট পিটার্সবার্গে বিদেশি সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপে পুতিন বলেন, তিনি ইউক্রেনের সঙ্গে সমঝোতায় পৌঁছাতে প্রস্তুত। তবে এর জন্য উভয়পক্ষকেই সমঝোতার পথ খুঁজতে হবে।

পুতিনের দীর্ঘদিনের অবস্থান হলো, ইউক্রেনকে রাশিয়ার আংশিক দখলে থাকা দোনেৎস্ক, লুহানস্ক, খেরসন ও জাপোরিঝঝিয়া অঞ্চল থেকে সরে যেতে হবে এবং ন্যাটোতে যোগদানের প্রচেষ্টা ত্যাগ করতে হবে। তবে ইউক্রেন এসব শর্ত প্রত্যাখ্যান করে আসছে।

 

 

কিয়েভের দাবি, ভূখণ্ড ছেড়ে দিলে তা ভবিষ্যতে আরো আগ্রাসনের পথ খুলে দেবে। তারা মনে করিয়ে দেয়, ২০১৪ সালে ক্রিমিয়া দখলের পর ২০২২ সালে রাশিয়া পূর্ণমাত্রার যুদ্ধ শুরু করেছিল।

সাম্প্রতিক মাসগুলোতে যুদ্ধবিরতি নিয়ে আলোচনা কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে। জেনেভা, আবুধাবি ও ইস্তাম্বুলে অনুষ্ঠিত আগের শান্তি আলোচনা থেকেও কোনো উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি আসেনি।

 

 

১ হাজার ৮০০ শব্দের বেশি দীর্ঘ চিঠির শেষাংশে জেলেনস্কি লেখেন, আপনার যুদ্ধ আমাদের দেশের ওপর যে ধ্বংস ডেকে এনেছে, তারপরও আমরা রুশ সেনাদের ভাগ্য নিয়ে উদ্বিগ্ন নই। কিন্তু আমি ইউক্রেনীয়দের নিয়ে উদ্বিগ্ন। আমরা আমাদের মানুষ হারাচ্ছি, আর প্রতিটি মৃত্যু আমাদের জন্য বেদনাদায়ক।

সূত্র : বিবিসি