মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে তিনি আবারও শীর্ষ বৈঠকে বসতে প্রস্তুত। তবে এর জন্য রাশিয়াকে ইউক্রেনের চলমান যুদ্ধের অবসানে একটি শান্তিচুক্তির দিকে এগিয়ে যেতে হবে।
স্থানীয় সময় বুধবার ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় ট্রাম্প বলেন, পুতিনও আরেকটি বৈঠকে বসতে আগ্রহী হবেন বলে তিনি মনে করেন। তবে সঠিক সময়ে বৈঠকটি আয়োজন করতে চান তিনি।
ট্রাম্প বলেন, ‘তিনি রাজি হবেন। আমিও চাই।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, রাশিয়া ও ইউক্রেন, উভয় দেশের সঙ্গেই যুক্তরাষ্ট্রের ভালো সম্পর্ক থাকা উচিত। তার মতে, দুই দেশের সঙ্গে ভালো সম্পর্ক বজায় রাখা যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবসা-বাণিজ্যের জন্যও লাভজনক হবে। ট্রাম্প আরো বলেন, পুতিনের সঙ্গে বৈঠক দ্রুত আয়োজন করা সম্ভব হলেও তিনি যুদ্ধ শেষের দিকে এগিয়ে যাওয়ার সময় পর্যন্ত অপেক্ষা করতে চান।
তিনি বলেন, ‘আমি এটা তখনই করতে চাই, যখন ওই যুদ্ধ শেষ হবে। আর আমি মনে করি, আমরা তা করতে পারব।’ রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে নিজের আগের অবস্থানও পুনর্ব্যক্ত করেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, এই যুদ্ধ কখনোই হওয়া উচিত ছিল না।
ট্রাম্পের দাবি, ২০২০ সালের মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে তিনি পুনর্নির্বাচিত হলে এই যুদ্ধ শুরু হতো না।
ট্রাম্প বলেন, তিনি মনে করেছিলেন, তার ক্ষমতার মেয়াদ শেষ হওয়ার পর পরিস্থিতি যুদ্ধের দিকে যেতে পারে। তিনি এটিকে পাগলামি বলেও মন্তব্য করেন। পুতিন ও ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির মধ্যে তীব্র বিরোধ রয়েছে উল্লেখ করে ট্রাম্প বলেন, তিনি মনে করেন পরিস্থিতি ধীরে ধীরে এমন পর্যায়ে পৌঁছাবে, যখন একটি সমাধানের জন্য সময় উপযুক্ত হবে।
রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের অবসান নিয়ে আলোচনার জন্য ট্রাম্প ও পুতিনের সর্বশেষ বৈঠক হয় ২০২৫ সালের আগস্টে আলাস্কায়। ২০২২ সালে রাশিয়ার ইউক্রেন আক্রমণের পর এটি ছিল দুই দেশের নেতার প্রথম সরাসরি বৈঠক। তবে ওই বৈঠক কোনো লিখিত চুক্তি বা যুদ্ধবিরতি ছাড়াই শেষ হয়। যদিও উভয় পক্ষই বৈঠকে কিছু অগ্রগতি হয়েছে বলে জানিয়েছিল।
ট্রাম্পের দাবি, দুই দেশ অনেক বিষয়ে একমত হয়েছিল। অন্যদিকে পুতিন বলেছিলেন, প্রধান নিরাপত্তা উদ্বেগগুলো নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে পারস্পরিক বোঝাপড়া তৈরি হয়েছে। এখন ট্রাম্পের বক্তব্য থেকে বোঝা যাচ্ছে, ভবিষ্যতে পুতিনের সঙ্গে আরেকটি শীর্ষ বৈঠক হলে তিনি সেটিকে শুধু আলোচনা বা সৌজন্য বৈঠক হিসেবে দেখতে চান না। বরং যুদ্ধের অবসানে একটি শান্তিচুক্তির বাস্তব সম্ভাবনা তৈরি হলেই তিনি এমন বৈঠকে বসতে চান।


