পাচার হওয়া সম্পদ উদ্ধারে দেশে-বিদেশে থাকা প্রায় ৭৬ হাজার ৯৮৪ কোটি টাকা মূল্যের সম্পদ জব্দ, ক্রোক বা অবরুদ্ধ করার আদেশ দিয়েছেন আদালত। এই সম্পদের মধ্যে আছে জমি, বাড়ি, ফ্ল্যাট, ব্যাংক হিসাব, কোম্পানির শেয়ার, বেনিফিশিয়ারি ওনার্স (বিও) এবং বিভিন্ন দেশের বিনিয়োগ তহবিল।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের অনুমিত হিসাব সম্পর্কিত কমিটির প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে ‘বাংলাদেশের চুরি হওয়া সম্পদ পুনরুদ্ধার উদ্যোগসমূহের সারসংক্ষেপ’ শীর্ষক প্রতিবেদন কমিটির সামনে উপস্থাপন করা হয়। অনুমিত হিসাব-সম্পর্কিত কমিটিতে বাংলাদেশের চুরি হওয়া সম্পদ পুনরুদ্ধার সম্পর্কে আলোচনা এবং পরবর্তী পরিকল্পনা সম্পর্কে অবহিত করা হয়।
কমিটির কাছে আগস্ট মাস পর্যন্ত হালনাগাদ তথ্য উপস্থাপন করা হয়।
অনুমিত হিসাব-সম্পর্কিত কমিটিতে উপস্থাপিত তথ্য অনুসারে, আদালতের আদেশের আওতায় থাকা মোট সম্পদের মধ্যে দেশে রয়েছে ৫৭ হাজার ৩২৫ কোটি ৯৩ লাখ টাকার সম্পদ। এর মধ্যে স্থাবর সম্পদের মূল্য ১০ হাজার ৭৬ কোটি ৬৯ লাখ টাকা। অস্থাবর সম্পদের মূল্য ৪৭ হাজার ২৪৯ কোটি ২৪ লাখ টাকা।
বৈঠকে আরো জানানো হয়, অপরাধীদের অবৈধ সম্পদের উৎস, অর্থপাচারের পদ্ধতি, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ভূমিকা এবং অপরাধের সঙ্গে সম্পদের সম্পর্ক নির্ণয়ের জন্য তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত আছে। জমি, বাড়ি, ফ্ল্যাট, প্লট, ব্যাংক হিসাব, কোম্পানির শেয়ার, বিও হিসাব, ব্যবসায়িক স্বার্থ, ট্রাস্ট এবং বিভিন্ন দেশে বিনিয়োগ তহবিল ইত্যাদি নিয়ে জয়েন্ট ইনভেস্টিগেশন টিম পাচার ও অবৈধ সম্পদ স্থানান্তর মামলার কাজ করছে।
বিদেশে পলায়ন বা তাদের সম্পদ স্থানান্তর প্রতিরোধে ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা আরোপ, অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত মামলায় ইন্টারপোলে রেড নোটিশ অনুরোধ পাঠানোর পাশাপাশি পাচার করা অর্থ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনা এবং তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম গ্রহণের জন্য কমিটি সুপারিশ করে।
সংসদ সচিবালয়ের তথ্য অনুসারে, এই বৈঠকে কমিটির সভাপতির অনুপস্থিতিতে কমিটির সদস্য ইকরামুল বারী টিপুর সভাপতিত্ব করেন। এতে উপস্থিত ছিলেন কমিটির সদস্য মো. সেলিম রেজা, মো. আব্দুল আজিজ, মো. মুজিবুর রহমান চৌধুরী, মোহাম্মদ জাকির হোসেন, মোসাম্মৎ সাম্মী আক্তার, মো. রফিকুল ইসলাম খান এবং মো. মাসুদ পারভেজ।
আলোচ্যসূচি অনুযায়ী, বৈঠকের শুরুতে কমিটির সভাপতি, সদস্যবৃন্দ এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা পরিচিতি পর্বে অংশগ্রহণ করেন। অনুমিত হিসাব সম্পর্কিত কমিটিতে বাংলাদেশের চুরি হওয়া সম্পদ পুনরুদ্ধার সম্পর্কে আলোচনা এবং পরবর্তী পরিকল্পনা সম্পর্কে অবহিত করা হয়।


