প্লেন চলাচলে ব্যবহৃত জেট ফুয়েলের দাম কমায় যাত্রীদের ভাড়া কমানোর লক্ষ্যে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইনগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মো. মঞ্জুর কবীর ভূঁইয়া।

বৃহস্পতিবার (১৫ মে) বিকেলে বেবিচক সদরদপ্তরে আয়োজিত এক বৈঠকে তিনি এ আহ্বান জানান।

 

তিনি বলেন, জেট ফুয়েলের দাম কমার ফলে যাত্রীরা যেন ভাড়ার ক্ষেত্রে এর সুফল পায়, সে বিষয়টি নিশ্চিত করতে এয়ারলাইনগুলোর দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ প্রয়োজন।

বৈঠকে উপস্থিত এয়ারলাইনগুলোর প্রতিনিধিরাও প্লেনের ভাড়া কমানোর বিষয়ে ঐকমত্য পোষণ করেন। দ্রুতই সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করে এ বিষয়ে পদক্ষেপ নেবেন বলে জানান তারা।

 

সাময়িকভাবে ফ্লাইট বন্ধ হওয়া বেসরকারি এয়ারলাইন নভোএয়ার আগামী ২১ মে থেকে ফের তাদের ফ্লাইট অপারেশন চালু করছে। এজন্য বেবিচক চেয়ারম্যান এবং উপস্থিত অন্য এয়ারলাইন্স প্রতিনিধিরা নভোএয়ারকে অভিনন্দন জানান।

বেবিচক চেয়ারম্যান জানান, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের বহুল প্রতীক্ষিত তৃতীয় টার্মিনালের কার্যক্রম আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হবে।

 

ভাড়া কমানোর আহ্বান বেবিচকের, সায় দিলো এয়ারলাইনগুলো

তিনি বলেন, টার্মিনালের সব নির্মাণকাজ ও সেবামূলক কার্যক্রম আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণ করে পরিচালিত হবে, যেন দেশি-বিদেশি যাত্রীরা সর্বোচ্চ মানসম্পন্ন ও আধুনিক সেবা পেতে পারেন।

কক্সবাজার বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে রূপান্তরের প্রসঙ্গে তিনি জানান, এর কার্যক্রম চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। প্রয়োজনীয় অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও আন্তর্জাতিক মান অনুসারে নিরাপত্তা, কাস্টমস, ইমিগ্রেশনসহ অন্য সুবিধাগুলো নিশ্চিত করার কাজ দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে। চলতি বছরের জুনের শেষ ভাগ বা জুলাইয়ের শুরুর দিক থেকেই কক্সবাজার বিমানবন্দরে আন্তর্জাতিক ফ্লাইট চলাচল শুরু হবে।

 

বেবিচক চেয়ারম্যান সিলেটের ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এবং চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে কার্গো ফ্লাইটের সংখ্যা বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

তিনি বলেন, দেশের রপ্তানি বাণিজ্যকে আরও গতিশীল ও কার্যকর করতে এ দুটি গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে অধিক সংখ্যক কার্গো অপারেশন চালু করা জরুরি। এ লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইন্স ও কার্গো অপারেটরদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।

বেবিচক চেয়ারম্যান সিলেট, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার বিমানবন্দর থেকে আন্তর্জাতিক ফ্লাইটের সংখ্যা বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি এয়ারলাইন্স প্রতিনিধিদের প্রতি আহ্বান জানান, যেন তারা এসব বিমানবন্দরকে কেন্দ্র করে নতুন আন্তর্জাতিক রুট চালু করতে আগ্রহী হন এবং নিয়মিত ফ্লাইট পরিচালনায় উদ্যোগ গ্রহণ করেন।

 

এ প্রসঙ্গে তিনি আশ্বস্ত করেন যে, এ উদ্দেশে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো, লজিস্টিক সহায়তা এবং প্রশাসনিক সুবিধা নিশ্চিত করতে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ সর্বাত্মক সহায়তা দেবে।

বৈঠকে অংশ নেওয়া এয়ারলাইন্স প্রতিনিধিরা গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিংসহ বিভিন্ন চ্যালেঞ্জের কথা তুলে ধরেন। তিনি এসময় আশ্বস্ত করেন, এসব সমস্যা নিরসনে দ্রুততম সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বিজ্ঞাপন

বেবিচক চেয়ারম্যান বলেন, বিমান চলাচলকে আরও সহজ, সাশ্রয়ী ও কার্যকর করতে এয়ারলাইন্সগুলোর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সমন্বয়ের মাধ্যমে সব ধরনের প্রতিবন্ধকতা দূর করার জন্য আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

জাগোনিউজের খবর পেতে ফলো করুনJagonews24 Google News Channel

 

 

বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন বেবিচক-এর সদস্য (ফ্লাইট স্ট্যান্ডার্ড অ্যান্ড রেগুলেশনস), পরিচালকসহ (ফ্লাইট স্ট্যান্ডার্ড অ্যান্ড রেগুলেশনস) দেশি ও বিদেশি এয়ারলাইন্স কোম্পানিগুলোর উচ্চপদস্থ প্রতিনিধি ও কর্মকর্তারা। তারাও আলোচনায় অংশ নিয়ে বিভিন্ন বিষয়ের ওপর মতামত দেন।