আমেরিকায় নাইন-ইলেভেন (৯/১১) ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলার ২৫ বছরপূর্তিতে ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টার, পেন্টাগন ও পেনসিলভানিয়ার স্মৃতিস্থলে হামলায় নিহতদের গভীর শ্রদ্ধায় স্মরণ করা হয়েছে। ২০০১ সালের এই মর্মান্তিক দিনে চারটি বিমান নিয়ে চালানো হামলায় প্রাণ হারিয়েছিল প্রায় তিন হাজার মানুষ।
নিউইয়র্কের ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টার প্রাঙ্গণে (গ্রাউন্ড জিরো) আয়োজিত মূল স্মরণসভায় মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের পাশাপাশি চার সাবেক প্রেসিডেন্ট—জর্জ ডব্লিউ বুশ, বারাক ওবামা, বিল ক্লিনটন ও জো বাইডেন উপস্থিত ছিলেন। প্রতিটি বিমান আঘাত হানা এবং টাওয়ার দুটি ধসে পড়ার সুনির্দিষ্ট মুহূর্তগুলোকে স্মরণ করে ছয়টি ঘণ্টা বাজানো হয় এবং নীরবতা পালন করা হয়। একই সঙ্গে প্রায় চার ঘণ্টা ধরে হামলায় নিহতদের নাম পাঠ করা হয়।
রাজধানী ওয়াশিংটনের পেন্টাগনে আয়োজিত স্মরণসভার নেতৃত্ব দেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি সেদিনের পবিত্র শপথ স্মরণ করে বলেন, ‘আমরা কখনো এই মর্মান্তিক ঘটনা ভুলব না’। বক্তব্যের এক পর্যায়ে তিনি তৎকালীন ঘটনাকে বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতির সাথে যুক্ত করে ইরান কোনো দিন পারমাণবিক অস্ত্র হাতে পাবে না বলে সতর্ক বার্তা দেন।
এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের পেনসিলভেনিয়ার শ্যাঙ্কসভিলেও পৃথক অনুষ্ঠান হয়, যেখানে বিমান ছিনতাইকারীদের সাথে যাত্রীদের প্রতিরোধের পর ফ্লাইট ৯৩ আছড়ে পড়েছিল। অনুষ্ঠানে নিহত টম স্ট্রাডার বিধবা স্ত্রী টেরি স্ট্রাডা লাইভ সম্প্রচারে সৌদি আরবের তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি প্রশ্ন তোলেন, হামলার ২৫ বছর পেরিয়ে গেলেও সৌদি সরকারের ভূমিকার সঠিক বিচার স্বজনেরা কেন পাননি। উল্লেখ্য, ৯/১১ কমিশনের প্রতিবেদনে সৌদি সরকারের সরাসরি সম্পৃক্ততার প্রমাণ না মিললেও হামলাকারীদের বড় একটি অংশই ছিল সৌদির নাগরিক।
আমেরিকার গণ্ডি পেরিয়ে বিশ্বজুড়ে গভীর শ্রদ্ধায় পালিত হয়েছে ৯/১১-এর পঁচিশতম বার্ষিকী।


