রিপোর্ট: এডমন্টন, আলবার্টা | ২২ ফেব্রুয়ারি
গতকাল (২১ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় এডমন্টনের রাউন্ডল পার্ক এসিটি অডিটোরিয়ামে বিনম্র শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় বাংলাদেশ হেরিটেজ অ্যান্ড এথনিক সোসাইটি অব আলবার্টা (BHESA) একুশে ফেব্রুয়ারি ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উদযাপন করেছে।
সংগঠনের সভাপতি সুলতান রাসেল এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন প্রবাসে সাংস্কৃতিক কূটনীতির পথিকৃৎ, আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের বৈশ্বিক প্রসারের অগ্রদূত এবং বীর মুক্তিযোদ্ধা দেলোয়ার জাহিদ।
মাতৃভাষার বৈশ্বিক প্রতীকে একুশের চেতনা
মুক্তিযোদ্ধা দেলোয়ার জাহিদ তাঁর বক্তব্যে বলেন—
“আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস আজ কেবল একটি স্মরণদিবস নয়; এটি ভাষাগত বৈচিত্র্য, সাংস্কৃতিক বহুত্ববাদ ও মানবাধিকারের এক বৈশ্বিক প্রতীক। এই দিবসের লক্ষ্য ও তাৎপর্য টেকসই ভাবে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে হলে আন্তর্জাতিক পরিসরে আরও উদ্যোগ ও সমর্থন জরুরি।”
তিনি আরও বলেন, একুশের চেতনা আজ মানবতার সর্বজনীন আদর্শে পরিণত হয়েছে। মাতৃভাষার প্রতি শ্রদ্ধা শুধুমাত্র বাংলাদেশে নয়—সারাবিশ্বের সাংস্কৃতিক ঐক্যের প্রতীক।
প্রবাসে একুশের ধারা জিইয়ে রাখার উদ্দেশ্য
ভিপি মোহাম্মদ জামাল উদ্দিন তার বক্তব্যে বলেন—
“১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের চেতনাকে ধারণ করে ১৯৯৯ সালে UNESCO আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসকে স্বীকৃতি দেয়। কিন্তু প্রবাসে এই দিবসকে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে ধারণ করা সহজ নয়। এখানেই আমাদের অভিভাবক দেলোয়ার জাহিদ সাহেব সাংস্কৃতিক কূটনীতি ও জনশিক্ষা কে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে এ শূন্যস্থান পূরণ করেছেন।”
সাংস্কৃতিক পরিচালক তামিম হোসেন অনুষ্ঠানে ভাষা আন্দোলনের তাৎপর্য ও প্রবাসে তরুণ প্রজন্মের ভূমিকা নিয়ে বক্তব্য রাখেন।
উপস্থিতি ও অংশগ্রহণ
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের সাবেক সভাপতি সাইফুর হাসান, সাধারণ সম্পাদক রাহিস উদ্দিন, আব্দুর রউফ, আনোয়ার হোসাইন, মোহাম্মদ হক, এনামুল হক, তানভীর হাসান, হায়দার জান চৌধুরী সহ আরো অনেকে।
নারী অংশগ্রহণ ছিল বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। উপস্থিত ছিলেন আয়েশা পারভীন, সাবিন ইয়াসমিন, সেলিনা ইসলাম, লুৎফুন্নেসা জাহিদ, আকিয়া আক্তার, এলমা জাহিদ, রায়হানা রাসমিন, রিমা আক্তার, সোনিয়া আক্তার, শিউলি বেগম, জুমে বেগম, ও কামরুন নাহার। শিশু-কিশোরদের প্রাণবন্ত উপস্থিতি পুরো হলরুমটি যেন ছোট্ট এক বাংলাদেশে পরিণত হয়েছিল।
শ্রদ্ধা ও প্রার্থনা
অনুষ্ঠানে ভাষা শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা জানানো হয়। তাদের আত্মার চিরশান্তি কামনা মোনাজাত করা হয়।
অনুষ্ঠানের আগে ছিল ইফতার ও নামাজের আয়োজন। এরপর শুরু হয় মূল সাংস্কৃতিক পর্ব, যেখানে স্থানীয় শিশু-কিশোরদের অংশগ্রহণে মাতৃভাষার গান, কবিতা ও আবৃত্তি পরিবেশিত হয়।
একুশের আলোচনায়, আবেগে আর সংস্কৃতির মেলায় এডমন্টনের প্রাঙ্গণেও প্রতিধ্বনিত হয় একটাই সুর—
“আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি, আমি কি ভুলিতে পারি।”
এডমন্টনে একুশে ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উদযাপন
প্রকাশিত: ২৩ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬, ১০:০২ এএম


প্রবাস রিলেটেড নিউজ
নিউইয়র্কে ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার শহীদদের স্মরণে দোয়া ও আলোচনা
মৃত্যুদণ্ডের রায় মাথায় নিয়ে ৩৫ বছর, তবু মুক্তি নেই বাংলাদেশি সৈয়দ রব্বানীর
নিউইয়র্ক এলিট ক্লাবের বনভোজনে আনন্দ-উচ্ছ্বাসে জমজমাট মিলনমেলা
নিউইয়র্ক সিটি ডিপার্টমেন্ট অব বিল্ডিংস এর কমিশনারের সঙ্গে এএবিইএ নিউইয়র্ক চ্যাপ্টারের সৌজন্য সাক্ষাৎ
নিউইয়র্কের বাংলাদেশ সোসাইটির আসন্ন নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী ‘সেলিম-আলী’ পরিষদকে সমর্থন জানালো গ্রেটার নোয়াখালী সোসাইটি ইউএসএ
নিউইয়র্কের পিওর ফার্মার্স মার্কেটে মাসব্যাপী মাছ মেলা
আটলান্টিক সিটিতে ঐতিহ্যবাহী উৎসব 'ওয়েডিং অব দ্য সী'
নিউইয়র্কে বালাগঞ্জ ও ওসমানীনগর প্রবাসী কল্যাণ সোসাইটির আনন্দঘন বনভোজন

