ক্লাব ও জাতীয় দলের হয়ে গত মৌসুমে কোনো দলীয় শিরোপা জিততে না পারলেও, ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সের আলোয় ২০২৬ সালের ব্যালন ডি’অর জয়ের জোরালো দাবিদার হিসেবে নিজের অবস্থান তৈরি করেছেন রিয়াল মাদ্রিদ ও ফ্রান্সের তারকা কিলিয়ান এমবাপ্পে। আগামী সোমবার লন্ডনে বসতে যাওয়া মর্যাদাপূর্ণ এই পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে ফুটবল বিশ্বে চলছে নানা সমীকরণ।
আল জাজিরার বিশ্লেষণে উঠে এসেছে, বাজির দর বা ফেভারিটের বিচারে কিছুটা পিছিয়ে থাকলেও ব্যালন ডি’অর জিততে নিজের অর্জনগুলো জোরালোভাবে তুলে ধরছেন ফরাসি এই ফরোয়ার্ড। ২০২৫-২৬ মৌসুমে রিয়ালের জার্সিতে দারুণ ফর্মে থেকে লা লিগায় ২৫টি এবং চ্যাম্পিয়নস লিগে ১৫টি গোল করে উভয় প্রতিযোগিতাতেই সর্বোচ্চ গোলদাতা (পিচিচি) হন তিনি। ব্যক্তিগতভাবে দুর্দান্ত এক মৌসুম কাটালেও দলীয় সাফল্য হিসেবে রিয়াল মাদ্রিদ লা লিগায় রানার্সআপ এবং চ্যাম্পিয়নস লিগের কোয়ার্টার ফাইনাল থেকে বিদায় নেয়।
জাতীয় দলের জার্সিতেও রেকর্ড ভাঙা পারফরম্যান্স উপহার দিয়েছেন ফ্রান্সের অধিনায়ক।
২০২৬ বিশ্বকাপে অবিশ্বাস্যভাবে ১০ গোল করে টানা দ্বিতীয়বারের মতো জিতে নিয়েছেন গোল্ডেন বুট। এই টুর্নামেন্টের সুবাদেই ফিফা বিশ্বকাপের ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোলদাতার সিংহাসনে এখন এককভাবে বসেছেন এমবাপ্পে। টুর্নামেন্টের ২২ ম্যাচে তার মোট গোল এখন ২২টি, যা তাকে ছাড়িয়ে গেছে রেকর্ডধারী লিওনেল মেসির ২১ গোলকে। তবে দলীয় সাফল্য এখানেও অধরা ছিল; বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে স্পেনের কাছে এবং তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে ইংল্যান্ডের কাছে হেরে টুর্নামেন্টে চতুর্থ স্থান নিয়ে সন্তুষ্ট থাকতে হয় ফ্রান্সকে।
এমবাপ্পের ব্যক্তিগত অর্জনের পাহাড় থাকলেও ব্যালন ডি’অর জয়ের দৌড়ে তার প্রতিদ্বন্দ্বীদের অবস্থান বেশ শক্ত। স্পেনের হয়ে লা লিগা ও বিশ্বকাপ জয়ের মুকুট মাথায় পরেছেন উদীয়মান তারকা লামিনে ইয়ামাল। অন্যদিকে, জার্মান ক্লাব বায়ার্ন মিউনিখের হয়ে দুর্দান্ত এক মৌসুম কাটিয়ে গত মৌসুমে তিনটি শিরোপা জিতেছেন ইংলিশ স্ট্রাইকার হ্যারি কেইন।
তবে দলীয় শিরোপার খরা সত্ত্বেও আশাবাদী এমবাপ্পে। ফরাসি রেডিও আরএফআইকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নিজের বিশ্বাসের কথা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘খামের মধ্যে কোনো দলের নাম ঘোষণা করা হবে না, একজন খেলোয়াড়ের নাম ঘোষণা করা হবে।
’
ইতিহাস ঘাঁটলে দেখা যায়, গত এক দশকে ব্যালন ডি’অরজয়ী প্রত্যেকেই সেই বছরে অন্তত একটি বড় শিরোপা জিতেছেন। যেমন—২০২৫ সালে পিএসজিকে প্রথমবারের মতো চ্যাম্পিয়নস লিগ জেতানোর সুবাদে এই পুরস্কার জিতেছিলেন উসমান দেম্বেলে, আর ২০২৪ সালে স্পেনের হয়ে ইউরো ও ম্যানচেস্টার সিটির হয়ে প্রিমিয়ার লিগ জিতে ব্যালন ডি’অর ঘরে তুলেছিলেন রদ্রি।
তবে এর ব্যতিক্রমও রয়েছে। সর্বশেষ ২০১৩ সালে কোনো দলীয় বড় ট্রফি ছাড়াই ব্যালন ডি’অর জিতে ইতিহাস গড়েছিলেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো, সে বছর ক্লাব ও দেশের হয়ে তার গোলের সংখ্যা ছিল ৬৬। সিআরসেভেনের সেই পুরনো রেকর্ডটিই এবার এমবাপ্পের সামনে অনুপ্রেরণা ও আশার আলো হয়ে দেখা দিয়েছে।
এর আগে ক্যারিয়ারে নয়বার ব্যালন ডি’অরের সংক্ষিপ্ত তালিকায় জায়গা করে নিয়েছেন এমবাপ্পে, যার মধ্যে ২০২৩ সালে তিনি হয়েছিলেন তৃতীয়। এখন দেখার বিষয়, ২০১৩ সালের রোনালদোর মতো দলীয় শিরোপাহীন থেকেও ব্যক্তিগত নৈপুণ্যের জোরে প্রথমবারের মতো ফুটবলের সবচেয়ে সম্মানের ব্যক্তিগত পুরস্কারটি নিজের করে নিতে পারেন কি না ফরাসি এই সেনসেশন।