নিজেদের সুরক্ষার জন্য সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের তেলসমৃদ্ধ দেশগুলো এত দিন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ওপরই নির্ভর করতো। কিন্তু ৫ মাসেরও বেশি সময় ধরে চলা ইরান যুদ্ধ সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোকে বুঝিয়ে দিয়েছে এ নির্ভরতা আসলে ফাঁকা বুলি।
খবর প্রকাশিত: ১০ আগস্ট, ২০২৬, ১০:০৮ এএম

নিজেদের সুরক্ষার জন্য সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের তেলসমৃদ্ধ দেশগুলো এত দিন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ওপরই নির্ভর করতো। কিন্তু ৫ মাসেরও বেশি সময় ধরে চলা ইরান যুদ্ধ সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোকে বুঝিয়ে দিয়েছে এ নির্ভরতা আসলে ফাঁকা বুলি।
অর্থ এবং যুক্তরাষ্ট্র কোনোটাই নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারবে না, এটা বুঝে যাওয়ার পর সৌদি আরব নিজেদের সুরক্ষায় বিকল্প ভাবনা শুরু করে। সে ভাবনারই ফল নতুন ইসলামী প্রতিরক্ষা জোট। গত শুক্রবার পবিত্রভূমি মক্কায় সৌদি আরব, পাকিস্তান এবং তুরস্কের মধ্যে স্বাক্ষরিত ত্রিপক্ষীয় প্রতিরক্ষা চুক্তির মাধ্যমে গঠিত হয়েছে নতুন এই প্রতিরক্ষা জোট।
মক্কা চুক্তির প্রধান অঙ্গীকার হলো তাদের যেকোনো একটি দেশের ওপর আক্রমণ সবার ওপর আক্রমণ হিসেবে গণ্য করা হবে। এই অঙ্গীকার পাকিস্তান ও তুরস্ককে এমন একটি যুদ্ধের মধ্যে টেনে আনতে পারে, যা তারা এত দিন বেশ সতর্কতার সাথেই এড়িয়ে চলছিল। তিন দেশের পক্ষ থেকে দেওয়া এক যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এই চুক্তির আনুষ্ঠানিক যৌক্তিকতা হলো যেকোনো আগ্রাসনের বিরুদ্ধে যৌথ প্রতিরোধকে শক্তিশালী করা এবং তিনটি রাষ্ট্রের মধ্যে প্রতিরক্ষা সহযোগিতার সব দিকের আরো উন্নতি করা। জোটের তিনটি দেশই সুন্নি নেতৃত্বাধীন। তাদের প্রাথমিক মূল লক্ষ্য যে শিয়া নেতৃত্বাধীন ইরান, তা নিয়ে কারোই সন্দেহ নেই। তবে এ জোটের মানেই যে পাকিস্তান ও তুরস্ক ইরানের সঙ্গে যুদ্ধে জড়িয়ে পড়বে বিষয়টি এমনও নয়। বরং পাকিস্তান আর তুরস্ক ইরান যুদ্ধ বন্ধে দীর্ঘদিন ধরেই মধ্যস্থতার ভূমিকা পালন করছে। সৌদি আরবের যুবরাজ সালমান নিজেও হামলা থেকে বিরত থাকতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে অনুরোধ করেছেন। পাকিস্তান ও তুরস্ক উভয়ের সাথেই ইরানের সীমান্ত রয়েছে এবং এই সংঘাত যাতে আরো ছড়িয়ে না পড়ে তা ঠেকানোর জন্য উভয় দেশেরই জোরালো কারণ রয়েছে। পাকিস্তানকে তার দেশের বড় আকারের শিয়া জনগোষ্ঠী এবং তেহরানের সাথে তার সংবেদনশীল সম্পর্ক সামাল দিতে হবে। অন্যদিকে, তুরস্ক ও ইরান অঞ্চলের অন্যান্য জায়গায় প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও কুর্দি বিচ্ছিন্নতাবাদ নিয়ে উভয়েরই সাধারণ উদ্বেগ রয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, তাৎক্ষণিক যুদ্ধে জড়িয়ে পড়া হয়তো এই জোটের আশু লক্ষ্য নয়। নিজেদের সক্ষমতাকে বাড়িয়ে ইরানের দিক থেকে আক্রমণের হুমকি কমিয়ে রাখতেই নতুন এই জোটের যাত্রা।
তুরস্কের একজন কর্মকর্তা সিএনএন-কে জানিয়েছেন, এই জোট কোনো নির্দিষ্ট পক্ষকে লক্ষ্য করে করা হয়নি। পাশাপাশি সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও জোর দিয়ে বলেছে যে, এটি কোনো সামরিক অক্ষ বা কোনো উপদলীয় ব্লক তৈরির প্রচেষ্টা নয়।’ তুরস্কের ওই কর্মকর্তা আরও যোগ করেন, অন্যান্য আঞ্চলিক দেশগুলোও এতে যোগ দিতে পারে, যা ন্যাটো-র মতোই এই জোটে নতুন সদস্য যুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা বাড়িয়ে তুলেছে।
এই জোট নিয়ে ইরানের সন্তুষ্ট হওয়ার কোনো কারণ নেই। নিজেদের অসন্তুষ্টি গোপনও করেনি ইরান। ইরানি পার্লামেন্টের জাতীয় নিরাপত্তা ও পররাষ্ট্রনীতি কমিটির সদস্য ইব্রাহিম রেজায়ি এক্স (সাবেক টুইটার)-এ লিখেছেন, ’সৌদিদের বোঝা উচিত, তুরস্ক ও পাকিস্তানের সাথে একটি কাগজের চুক্তি তাদের
নিরাপত্তা এনে দেবে না। ঠিক যেভাবে আমেরিকানদের ওপর দশকের পর দশক ধরে একতরফা নির্ভরতাও ব্যর্থ হয়েছে।’
মুখে যাই বলুক, নতুন এই জোটের ফলে ইরানের নেতৃত্বের কপালে দুশ্চিন্তার ভাজের সংখ্যা আরো বাড়বে, তাতে কোনো সন্দেহ নেই। এখন সৌদি আরবের ওপর হামলার আগে ইরান নিশ্চয়ই নতুন করে ভাববে।