ফুটবলে থ্রো-ইন খুবই সাধারণ একটি বিষয়। কিন্তু কেউ যদি সেই থ্রো-ইন করেন ডিগবাজি খেয়ে, আর তা থেকেই যদি গোল হয়, তাহলে সেটি যে আলাদাভাবে নজর কাড়বে, সেটাই স্বাভাবিক।
গতকাল রাশিয়ার ক্লাব ফুটবলের দ্বিতীয় স্তরের ম্যাচে স্পার্তাক কোস্ত্রোমার হয়ে খেলছিলেন ২৯ বছর বয়সী নাদের মোহাম্মাদি। এসকেএ-খাবারোভস্কের বিপক্ষে ম্যাচের শেষ দিকে তার দল ২-১ গোলে এগিয়ে ছিল। তখন ডান প্রান্ত দিয়ে থ্রো-ইনের সুযোগ পায় স্পার্তাক।
বল হাতে নিয়ে এরপর যা করলেন মোহাম্মাদি, সেটিই হয়ে ওঠে ম্যাচের সবচেয়ে আলোচিত দৃশ্য। দৌড়ে এসে তিনি সামনে ডিগবাজি খান। এরপর শরীরের গতি ও শক্তি কাজে লাগিয়ে দুই হাত দিয়ে বলটি ছুড়ে দেন প্রতিপক্ষের পেনাল্টি বক্সের ভেতর।
মোহাম্মাদির ছোড়া বলটি পৌঁছে যায় গোলমুখের খুব কাছাকাছি।
মোহাম্মাদির এই অভিনব থ্রো-ইন অবশ্য নতুন নয়। লম্বা থ্রো-ইনের জন্য ইরানি এই ডিফেন্ডার আগে থেকেই পরিচিত। ২০২০ সালে ইরানের ঘরোয়া ফুটবলেও ডিগবাজি খেয়ে দেওয়া তার একটি থ্রো-ইন থেকে সরাসরি গোল হয়েছিল।
২০২১ সালেও নিজেদের অর্ধ থেকে একই ধরনের থ্রো-ইন করে আলোচনায় এসেছিলেন মোহাম্মাদি। তার ছোড়া বল থেকে দল কর্নার পেয়েছিল। অর্থাৎ, থ্রো-ইনকে আক্রমণের অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করার এই অদ্ভুত কৌশল তার বেশ পুরোনো।
এবার রাশিয়ার মাঠে আবারো সেই কৌশল কাজে লাগিয়ে আলোচনায় উঠে এসেছেন নাদের মোহাম্মাদি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, বল হাতে নিয়ে দৌড় শুরু করেন মোহাম্মাদি। এরপর বলের ওপর ভর দিয়ে শরীরকে সামনের দিকে ঘুরিয়ে ডিগবাজি খান এবং একই সঙ্গে প্রচণ্ড শক্তিতে বল ছুড়ে দেন প্রতিপক্ষের বক্সের দিকে।
ঘটনাটি দেখে ফুটবলপ্রেমীদের অনেকেই বিস্মিত হয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কেউ কেউ মজা করে লিখেছেন, ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের চ্যাম্পিয়ন আর্সেনালের কোচ মিকেল আর্তেতা এই কৌশল দেখে ফেললে মোহাম্মাদিকে দলে ভেড়াতে চাইবেন। সেট-পিস বা থ্রো-ইন থেকে গোলের সুযোগ তৈরিতে আর্তেতার আগ্রহের কারণেই এমন মন্তব্য করেছেন ফুটবলপ্রেমীরা।
অবশ্য ফুটবলে ডিগবাজি খেয়ে থ্রো-ইনের কৌশলটি ১৯৯০-এর দশকের শুরুর দিকেই পরিচিতি পেয়েছিল। এস্তোনিয়ার রিস্তো কাল্লাস্তে ও ইংলিশ ক্লাব নিউক্যাসলের স্টিভ ওয়াটসন সেই সময় এই কৌশল ব্যবহার করে বেশ পরিচিতি পেয়েছিলেন। এখন তা বারবার মনে করিয়ে দিচ্ছেন মোহাম্মাদি।
ইরানের রাজধানী তেহরানে জন্ম নেওয়া নাদের মোহাম্মাদি সম্প্রতি স্পার্তাক কোস্ত্রোমায় যোগ দিয়েছেন। এর আগে তিনি ইরানের পাইকান, ত্রাকতোর, গোল গোহর ও জোব আহানের হয়ে খেলেছেন। মূলত রক্ষণভাগের খেলোয়াড় হলেও লম্বা ও কৌশলী থ্রো-ইনের জন্যই তিনি বেশি পরিচিত।
ইরান অনূর্ধ্ব-২৩ দলের হয়ে একটি ম্যাচ খেলেছেন নাদের মোহাম্মাদি। জাতীয় দলের জার্সিতে এখনো তার অভিষেক হয়নি।


