Shibbir Ahmed প্রকাশিত: ০৯ আগস্ট, ২০২৬, ০৫:০৮ এএম

শিব্বীর আহমেদ, জাতিসংঘ, নিউ ইয়র্ক: তথাকথিত যুদ্ধবিরতি চুক্তি কার্যকরের পর গত ৩০০ দিনে অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় অন্তত ৩০০ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। জাতিসংঘ শিশু তহবিল (ইউনিসেফ) জানিয়েছে, এর মধ্য দিয়ে গাজার শিশুদের জন্য যুদ্ধবিরতি সম্পূর্ণ ব্যর্থ প্রমাণিত হয়েছে। গত বছরের অক্টোবর মাসে হামাস ও ইসরায়েলি বাহিনীর মধ্যে সামরিক অভিযান স্থগিতের লক্ষ্যে এই যুদ্ধবিরতি চুক্তি সই হয়েছিল। কিন্তু চুক্তি সত্ত্বেও সহিংসতা থামেনি।
ইউনিসেফের মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকা অঞ্চলের পরিচালক এদুয়ার্দ বেইগবেদার ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছেন, যে যুদ্ধবিরতিতে প্রতিদিন গড়ে একটি করে শিশুর মৃত্যু হয়, সে যুদ্ধবিরতি শিশুদের রক্ষা করতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ। তিনি আরও বলেন, শত শত শিশু গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালের বিছানায় দিন কাটাচ্ছে এবং গাজার শিশুরা তাদের ওয়াদাকৃত শান্তির জন্য এখনও অপেক্ষা করে আছে।
চুক্তি সত্ত্বেও গাজায় শিশুদের মৃত্যুর মিছিল থামেনি। ক্ষুধায় জর্জরিত মায়েদের কোল জুড়ে জন্ম নিচ্ছে অপরিপক্ব ও অসুস্থ শিশুরা। পর্যাপ্ত চিকিৎসাসামগ্রী ও ত্রাণের অভাবে চরম মানবিক বিপর্যয় তৈরি হয়েছে এবং মৌলিক সুযোগ-সুবিধা ও শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে গাজার একটি পুরো প্রজন্ম। নতুন করে ইসরায়েলি বিমান হামলা ও সামরিক অভিযান বাড়ায় গাজার পরিবারগুলো উপত্যকার মাত্র এক-তৃতীয়াংশ এলাকায় আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছে। তারা ধ্বংসস্তূপ ও ময়লার স্তূপের মাঝেই মানবেতর জীবনযাপন করছে।
ইউনিসেফের মুখপাত্র লুইস ওয়াটারিজ জানিয়েছেন, পর্যাপ্ত ইনকিউবেটরের অভাবে অনেক সময় একটিমাত্র মেশনেই দুই বা তিনটি নবজাতককে রাখা হচ্ছে। অপর্যাপ্ত ওষুধ ও সরঞ্জামের আংশিক সচল হাসপাতালেই জন্ম নেওয়া কয়েক দিন বয়সি শিশুরা বেঁচে থাকার জন্য তীব্র লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে। তিনি বলেন, বিশ্ববাসী এই পরিস্থিতি মেনে নিয়েছে। এই হত্যাযজ্ঞ অবশ্যই বন্ধ হতে হবে, পর্যাপ্ত পরিমাণে ত্রাণ প্রবেশের সুযোগ দিতে হবে এবং শিশুদের রক্ষা করতে হবে। বিশ্ব যেটিকে যুদ্ধবিরতি বলছে, গাজার পরিবারগুলো এখনও তাদের শিশুদের কবর দিয়ে চলেছে। যুদ্ধবিরতি মানে এই নয় যে শিশুরা প্রতিদিন মারা যাবে।
জাতিসংঘের মানবিক সহায়তা সমন্বয় দফতরের তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের ১০ অক্টোবর যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পর থেকে এ পর্যন্ত গাজায় মোট ১,২০৯ জন নিহত এবং ৩,৯৪৩ জন আহত হয়েছেন। এছাড়া দের আল-বালাহতে আল-আকসা হাসপাতালের পাশের একটি মেডিকেল গুদামে সম্প্রতি হামলার ফলে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সরবরাহকৃত জরুরি চিকিৎসাসামগ্রীও ধ্বংস হয়ে গেছে।