দীর্ঘদিন ধরে চলা রাজনৈতিক উত্তেজনা ও বিবাদের অবসান ঘটিয়ে অবশেষে পূর্ণ কূটনৈতিক সম্পর্ক পুনঃস্থাপনে সম্মত হয়েছে মেক্সিকো ও পেরু। ২০২২ সালের ব্যর্থ অভ্যুত্থান চেষ্টায় অভিযুক্ত পেরুর সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেটসি শাভেজকে মেক্সিকো রাজনৈতিক আশ্রয় দেওয়ার পর তৈরি হওয়া কূটনৈতিক জটিলতা কাটিয়ে উঠতে এই পদক্ষেপ নিয়েছে দেশ দুইটি।
৭ আগস্ট (শুক্রবার) দুই দেশের পক্ষ থেকে প্রকাশিত এক যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়, ‘ভ্রাতৃত্ব, বন্ধুত্ব ও সহযোগিতার ঐতিহাসিক বন্ধন’-কে সম্মান জানিয়েই এই সম্পর্ক পুনঃস্থাপনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সেই সঙ্গে উভয় দেশই আন্তর্জাতিক আইন ও জাতিসংঘ সনদের প্রতি তাদের পূর্ণ শ্রদ্ধাশীল থাকার বিষয়টি পুনর্ব্যক্ত করেছে।
গত বছরের নভেম্বরে পেরুর সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেটসি শাভেজ মেক্সিকান দূতাবাসে রাজনৈতিক আশ্রয় প্রার্থনা করার পর থেকেই দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক সংকট তৈরি হয়। পেরুর পররাষ্ট্রমন্ত্রী কার্লোস এসপা স্থানীয় সংবাদমাধ্যম আরপিপি-কে জানান, শাভেজকে নিরাপদে পেরু ত্যাগের অনুমতি দেওয়া হয়েছে এবং তিনি ইতিমধ্যে দেশ ছেড়েছেন।
এদিকে সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখার সময় মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট ক্লদিয়া শেইনবাম সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেটসি শাভেজকে মেক্সিকোতে স্বাগত জানান। একইসঙ্গে তিনি ২০২২ সালে ক্ষমতাচ্যুত হওয়া পেরুর সাবেক প্রেসিডেন্ট পেদ্রো কাস্তিলোর প্রতি তার সরকারের আগের সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেন।
উল্লেখ্য, ২০২২ সালের ডিসেম্বরে পেরুর কংগ্রেস ভেঙে দিয়ে জরুরি সরকার গঠনের চেষ্টার পর দেশদ্রোহ ও বিদ্রোহের অভিযোগে গ্রেপ্তার হন তৎকালীন প্রেসিডেন্ট পেদ্রো কাস্তিলো।
সম্প্রতি পেরুর রাজনীতিতে পরিবর্তনের হাওয়া বইতে শুরু করে। গত সপ্তাহে পেরুর নতুন প্রেসিডেন্ট হিসেবে কেইকো ফুজিমোরি দায়িত্ব গ্রহণের পরই মেক্সিকো ও পেরুর মধ্যে জমে থাকা দ্বিপাক্ষিক বরফ গলতে শুরু করে এবং শেষ পর্যন্ত দুই দেশ কূটনৈতিক সম্পর্ক জোড়া লাগানোর ঘোষণা দেয়।


