NYC Sightseeing Pass
ঢাকা, শনিবার, আগস্ট ২৯, ২০২৬ | ১৪ ভাদ্র ১৪৩৩
ব্রেকিং নিউজ
জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব নিলেন আইরিন খান ট্রাম্পের 'নজিরবিহীন ঘোষণা'য় ভেনেজুয়েলার তেলক্ষেত্র যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে বায়ার্নের সঙ্গে চুক্তি নবায়ন নিয়ে মুখ খুললেন কেইন নেপালের সেই ভয়াবহ অভিজ্ঞতা, দেশে ফিরে যা জানালেন অপু বিশ্বাস জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব নিলেন আইরিন খান ট্রাম্পের নির্বাহী আদেশে যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ একাডেমি প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ ইরানের আর্থিক নেটওয়ার্কে নতুন মার্কিন নিষেধাজ্ঞা নেপালে ভয়াবহ বন্যা-ভূমিধসে নিহত ৫৩৮, নিখোঁজ প্রায় ১,০০০ ট্রাম্পের নির্বাহী আদেশে লেক অন্টারিওর নতুন নাম ‘লেক আমেরিকা’ হাসিনাকে ঘিরে টানাপোড়েন, তবুও কেন তারেক রহমানকে দিল্লিতে নিতে আগ্রহী ভারত
Logo
logo

উত্তর আমেরিকা'র আয়োজনে হয়ে গেল এক অভিনব ও চমকপ্রদ আড্ডা


খবর   প্রকাশিত:  ০৮ আগস্ট, ২০২৬, ১১:০৮ এএম

উত্তর আমেরিকা'র আয়োজনে হয়ে গেল এক অভিনব ও চমকপ্রদ আড্ডা

গত ৩০ জুলাই,  'প্রথম আলো উত্তর আমেরিকা'র আয়োজনে হয়ে গেল এক অভিনব ও চমকপ্রদ আড্ডা। আড্ডার নাম— 'কাঁঠালিয়া আড্ডা'। শিশুকাল থেকে বর্তমান পর্যন্ত অনেক কাঁঠাল খেয়েছি, কিন্তু কাঁঠাল নিয়েও আড্ডা হয়— তা এই প্রথম শুনলাম!  সম্পাদক ইব্রাহিম চৌধুরী আগেই বলেছিলেন, সবাই যেন কাঁঠাল রঙের শাড়ি এবং পাঞ্জাবি পরে আসে। সে মোতাবেক সবাই হলুদ শাড়ি আর পাঞ্জাবি, কেউবা আবার লাল-সবুজ মিলিয়ে পরে এসেছেন। 

 

আমিও কাজ থেকে তিন ঘণ্টা আগেই ছুটি নিয়ে অনুষ্ঠানে পৌঁছে গেলাম হলুদ শাড়ি পরে। গিয়ে দেখি, ইলহাম একাডেমি রঙিন হয়ে উঠেছে কাঁঠালপ্রেমীদের কাঁঠালিয়া রঙে। চারপাশের এত হলুদ রঙের বাহার দেখে মনে হলো— হলুদে হলুদে এ যেন আমার ফেলে আসা সেই শর্ষে ক্ষেতের স্মৃতি!  এ যেন শীতের শেষ আর বসন্তের আগে গ্রামবাংলা সেজেছে অপরূপ সাজে। যদিও আমাদের এই কৃত্রিম হলুদ সরিষা ক্ষেতে মৌমাছির আনাগোনা ছিল না, তবু মনে পড়ে গেল কবি নবকৃষ্ণ ভট্টাচার্যের কবিতা, 

'মৌমাছি মৌমাছি

কোথা যাও নাচি নাচি

দাঁড়াও না একবার ভাই,

ওই ফুল ফোটে বনে, 

যাই মধু আহরণে,

দাঁড়াবার সময় তো নাই...।'

 

সত্যিই তো, প্রবাসের ব্যস্ত জীবনে আমাদের কারোই তো একটু দাঁড়াবার সময় নেই! তবু সব কাজ সামলে এই হলুদ উৎসবে মধু আহরণ করতেই যেন আমরা সবাই ছুটে এসেছি।

কাঁঠাল নিয়ে চমৎকার সব আলোচনা হলো, গল্প হলো, হাসাহাসি হলো। আমরা সবাই প্রাণভরে উপভোগ করলাম মজার সব কাঁঠালি গল্প। 

 

পশ্চিমবঙ্গের কবি সুবোধ সরকার এসেছিলেন আমাদের এই কাঁঠালিয়া আড্ডায়। উনি আবেগে আপ্লুত হয়ে বললেন, "অনেক আড্ডায় গিয়েছি, অনেক আড্ডার নাম শুনেছি, কিন্তু এই প্রথম শুনলাম কাঁঠালিয়া আড্ডার কথা!"

 

মজার সব আলোচনার শেষে এলো সেই মাহেন্দ্রক্ষণ। সবাই থালা হাতে দাঁড়িয়ে গেলেন কাঁঠাল খাওয়ার জন্য। বোন রাশিদা সবার প্লেটে তুলে দিলেন কাঁঠাল আর বিন্নি চালের ভাত; সাথে কাঁঠালের এঁচোড়, কাঁঠালের পায়েস আর দই!

 

অনুষ্ঠান শেষে বেরিয়ে আসছি আমি আর বন্ধু স্নোফ্লেক্স। রাস্তার কোণায় দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করছি আমাদের গাড়ির জন্য। হঠাৎ এক মহিলা হন্তদন্ত হয়ে রাস্তা পার হয়ে আমাদের কাছে আসলেন।

উত্তেজিত হয়ে বললেন, "অনুষ্ঠান কি শেষ হয়ে গেছে?" আমরা বললাম, "হ্যাঁ!" মহিলা খুবই হতাশ হয়ে বললেন, "পত্রিকায় দেখে আসছিলাম কাঁঠাল খাওয়ার জন্য!" 

আমাদেরও খারাপ লাগলো। বললাম, "পরের বার যখন হবে, তখন আবার আসবেন।"

 

ধন্যবাদ ইব্রাহিম চৌধুরী ভাইজানকে, এমন চমৎকার একটা আয়োজন করার জন্য!