NYC Sightseeing Pass
ঢাকা, শনিবার, আগস্ট ৮, ২০২৬ | ২৪ শ্রাবণ ১৪৩৩
ব্রেকিং নিউজ
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতে খুদে শিল্পী অনুশ্রী রায়ের স্বপ্নপূরণ পাকিস্তান-তুরস্কের সঙ্গে প্রতিরক্ষা চুক্তি সৌদি আরবকে কতটা নিরাপত্তা দেবে? বিরোধ কাটিয়ে কূটনৈতিক সম্পর্ক পুনঃস্থাপন করছে মেক্সিকো ও পেরু এবার ওটিটিতে মুক্তি পেল ‘মালিক’ ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে হত্যাকাণ্ডের বিচার হবে স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ ও বিশ্বাসযোগ্য : প্রধানমন্ত্রী ভারত সরকারের কাছে ক্ষমা চাইলেন জাকারবার্গ আকাশে ট্রাম্পের হেলিকপ্টার ও যাত্রীবাহী বিমান মুখোমুখি, তদন্তে মার্কিন সংস্থা টি-টোয়েন্টি ইতিহাসের সর্বোচ্চ রানের মালিক এখন জস বাটলার বস্তিতে কেটেছে শৈশব, আজ মুম্বাইয়ে দুই বাড়ির মালিক মিশিগান সিনেট প্রাইমারিতে প্রগতিশীল আবদুল এল-সায়েদের জয়, ডেমোক্র্যাট শিবিরে নতুন বার্তা
Logo
logo

আদিবাসীদের সাংবিধানিক স্বীকৃতি ও ভূমি অধিকার নিশ্চিতের দাবি


খবর   প্রকাশিত:  ০৮ আগস্ট, ২০২৬, ১১:০৮ এএম

আদিবাসীদের সাংবিধানিক স্বীকৃতি ও ভূমি অধিকার নিশ্চিতের দাবি

আদিবাসী জনগোষ্ঠীর সাংবিধানিক স্বীকৃতি, ভূমির অধিকার নিশ্চিত, পার্বত্য চট্টগ্রাম ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তি কমিশনকে কার্যকর করা এবং সমতলের আদিবাসীদের জন্য পৃথক ভূমি কমিশন গঠনের দাবি জানিয়েছেন নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা। তারা আদিবাসীদের সংস্কৃতি, মাতৃভাষা, স্বাস্থ্যসেবা ও ঐতিহ্যগত জ্ঞান সংরক্ষণে কার্যকর সরকারি উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বানও জানিয়েছেন।

 

বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে অ্যাসোসিয়েশন ফর ল্যান্ড রিফর্ম অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (এএলআরডি) ও বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরামসহ জাতীয় পর্যায়ের ১৭টি অধিকারভিত্তিক সংগঠনের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত সেমিনারে এ আহ্বান জানান তারা। ‘আদিবাসী জনগণ : জীবন, ভূমি অধিকার ও সংস্কৃতির সম্মান’ শীর্ষক সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন এএলআরডির নির্বাহী পরিচালক শামসুল হুদা।


 

সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন মানবাধিকারকর্মী ইলিরা দেওয়ান। মূল প্রবন্ধে তিনি সংবিধানের ২৩(ক) অনুচ্ছেদে ব্যবহৃত ‘উপজাতি’ ও ‘নৃ-গোষ্ঠী’ শব্দের পরিবর্তে আদিবাসীদের কাছে গ্রহণযোগ্য পরিভাষা সংযোজন, পার্বত্য চট্টগ্রাম ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তি কমিশনকে সক্রিয় করা, সমতলের আদিবাসীদের জন্য পৃথক ভূমি কমিশন গঠন এবং আদিবাসী এলাকায় পর্যটন উন্নয়নের আগে তাদের জীবনধারা ও সংস্কৃতি সুরক্ষায় নীতিমালা প্রণয়নের সুপারিশ করেন।

 

আলোচনায় অংশ নিয়ে সংসদ সদস্য আন্না মিনজ বলেন, অতীতের বঞ্চনার পাশাপাশি আদিবাসীদের উন্নয়নে সরকারের ইতিবাচক উদ্যোগগুলোকে মূল্যায়ন করতে হবে। বর্তমান সরকারের বিভিন্ন নীতিপত্র ও কর্মসূচিতে আদিবাসীদের উন্নয়নের বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত হওয়াকে তিনি গুরুত্বপূর্ণ স্বীকৃতি হিসেবে উল্লেখ করেন।

সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মাধবী মারমা বলেন, জুম চাষকে পরিবেশবিনাশী হিসেবে উপস্থাপন করা ঠিক নয়। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এটি পরিবেশবান্ধব কৃষিপদ্ধতি হিসেবে স্বীকৃত।

তিনি আদিবাসীদের মাতৃভাষায় শিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণ এবং আদিবাসী সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে আরো শক্তিশালী করার বিষয়ে সরকারের সঙ্গে কাজ করার আশ্বাস দেন।

 

ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, কোনো বিতর্ক ছাড়াই আদিবাসীদের সাংবিধানিক স্বীকৃতি দেওয়া উচিত। পাশাপাশি তাদের প্রথাগত ভূমির মালিকানার আইনগত স্বীকৃতি এবং সংসদীয় আদিবাসীবিষয়ক ককাস গঠনের আহ্বান জানান তিনি।

গবেষক ও নৃবিজ্ঞানী ড. ঈশিতা দস্তিদার বলেন, বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রাম ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তি কমিশনে ২৭ হাজারের বেশি আবেদন জমা থাকলেও কমিশনের কার্যক্রম কার্যত স্থবির। দ্রুত কমিশনকে সক্রিয় করা, আদিবাসীদের ভূমি অধিকার নিশ্চিত করা এবং তাদের এলাকায় উন্নয়ন প্রকল্প ও ইকো-ট্যুরিজম বাস্তবায়নে স্থানীয় জনগোষ্ঠীর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে।

 

মহিলা পরিষদের সভানেত্রী ডা. ফওজিয়া মোসলেম বলেন, আদিবাসীদের সংস্কৃতি, সমাজ সবকিছু ভূমির সঙ্গে গভীরভাবে সম্পর্কিত। বর্তমানের আদিবাসীদের যে ভূমিহীনতার সংস্কৃতি দৃশ্যমান তা বন্ধ করে আদিবাসীদের ন্যায্য ভূমি অধিকার নিশ্চিতে তিনি সরকারকে উদ্যোগ নেয়ার আহ্বান জানান।

আদিবাসী ফোরামের সাধারণ সম্পাদক সঞ্জীব দ্রং বলেন, বৈষম্য দূর করে অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ গঠনের কথা বলা হলেও আদিবাসীদের বাদ দিয়ে সেই লক্ষ্য অর্জন সম্ভব নয়। সরকারের ইতিবাচক ঘোষণাগুলো বাস্তবায়নের ওপরও তিনি গুরুত্বারোপ করেন।

সমাপনী বক্তব্যে এএলআরডির নির্বাহী পরিচালক শামসুল হুদা বলেন, আদিবাসীদের উন্নয়নে সরকারের ইতিবাচক বক্তব্য আশাব্যঞ্জক হলেও সেই প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়নই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। তিনি সরকারিভাবে আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস পালনেরও আহ্বান জানান।