NYC Sightseeing Pass
ঢাকা, শুক্রবার, অক্টোবর ৩০, ২০২৬ | ১৪ কার্তিক ১৪৩৩
ব্রেকিং নিউজ
বাংলাদেশ-জাপান চারটি সমঝোতা স্মারক ও দুটি অনুদান চুক্তি সই উন্নত দেশ গড়তে প্রবাসী-দেশবাসীকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে : প্রধানমন্ত্রী স্পেনে দুই ট্রেনের সংঘর্ষে বেড়েই চলছে প্রাণহানি নির্বাচনে আরব দলগুলোর বিরুদ্ধে নেতানিয়াহুর ‘কারচুপির’ অভিযোগ অর্থ আত্মসাতের মামলায় গায়ক ইন্দ্রনীল সেন গ্রেপ্তার ‘ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করে যাব’, তারেক রহমানকে নিয়ে এক্স পোস্টে যা বললেন তাকাইচি নির্বাচনি প্রচারে ট্রাম্পের নতুন কৌশল ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে রাশিয়ার ওপর ভারতকে চাপ দিতে বলল পোল্যান্ড ইসরায়েলের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী কে, চলছে নানা জল্পনা ‘কিং’-এর পোস্টারে প্রেমিক রূপে শাহরুখ
Logo
logo

এজলাস থেকে লোহার খাঁচা অপসারণে আইনি নোটিশ


খবর   প্রকাশিত:  ১৫ ফেব্রুয়ারী, ২০২৫, ০১:৫৭ এএম

এজলাস থেকে লোহার খাঁচা অপসারণে আইনি নোটিশ

ঢাকা: আদালত কক্ষে (এজলাস) অভিযুক্তকে লোহার খাঁচায় বন্দি রাখা সংবিধান, আইন ও আন্তর্জাতিক নীতি-ঘোষণা পরিপন্থী আখ্যা দিয়ে তা অপসারণ করতে সরকারকে আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের ১০ আইনজীবীর পক্ষে রবিবার আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির রেজিস্ট্রি ডাকে এ নোটিশ পাঠান। আইনসচিব, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের জ্যেষ্ঠ সচিব ও পুলিশের মহাপরিদর্শকের দপ্তরে এ নোটিশ পাঠানো হয়।

আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘নোটিশ পাওয়ার চার সপ্তাহের মধ্যে আদালত কক্ষ (এজলাস) থেকে লোহার খাঁচা অপসারণ করতে অনুরোধ করা হয়েছে।

না করলে সংবিধানের ১০২ অনুচ্ছেদ অনুসারে হাইকোর্টে রিট আবেদন করে আইনি প্রতিকার চাওয়া হবে।’

 

আদালত কক্ষে লোহার খাঁচা ব্যবহারের ইতিহাসের পাশাপাশি সংবিধান, আইন ও আন্তর্জাতিক নীতি-ঘোষণা, শর্ত ও চুক্তি তুলে ধরা হয়েছে নোটিশে। 

মানবাধিকারের সর্বজনীন ঘোষণাপত্র (ইউডিএইচআর), ১৯৪৮-এর ৫ অনুচ্ছেদ তুলে ধরে বলা হয়েছে, প্রকাশ্য আদালতে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে লোহার খাঁচায় বন্দি রাখার কারণে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে নিরপেক্ষ বিচার, প্রকাশ্য আদালতে শুনানি লাভের অধিকার এবং মানবাধিকার থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে।

নাগরিক ও রাজনৈতিক অধিকার সংক্রান্ত আন্তর্জাতিক চুক্তি (আইসিসিপিআর), ১৯৬৬-এর কয়েকটি অনুচ্ছেদ তুলে ধরে বলা হয়েছে, অভিযুক্ত ব্যক্তিকে প্রকাশ্য আদালতে লোহার খাঁচায় বন্দি করে তার প্রতি অমানবিক ও অবমাননাকর আচরণ করা হচ্ছে, যা স্পষ্টভাবে এই চুক্তির ৭ অনুচ্ছেদের লঙ্ঘন।

আর চুক্তির ১০(২) অনুচ্ছেদ তুলে ধরে বলা হয়েছে, ব্যতিক্রম ছাড়া অভিযুক্ত ব্যক্তিদের দোষী ব্যক্তিদের থেকে আলাদা রাখতে হবে এবং তাদের মর্যাদা অনুযায়ী আলাদা ব্যবহার করতে হবে। কিন্তু আদালত চলার সময় অভিযুক্ত ও দোষী ব্যক্তিকে একই সঙ্গে লোহার খাঁচায় বন্দি করে রাখা এই অনুচ্ছেদের পরিপন্থী।

 

আদালতে লোহার খাঁচা ব্যবহারের ইতিহাস টেনে নোটিশে বলা হয়েছে, আসামি হাজিরার জন্য আদালতে কাঠগড়ার প্রচলন ব্রিটিশ আমলেই শুরু হয়। তবে দুর্ধর্ষ আসামি, ব্রিটিশবিরোধী স্বাধীনতাসংগ্রামীদেরও ডাণ্ডাবেড়ি পরিয়ে আদালতে হাজির করানো হতো।

বিচার শেষে দোষীকে লোহার খাঁচায় বন্দি রাখার ইতিহাস থাকলেও বিচার চলার সময় আদালতে লোহার খাঁচায় বন্দি রাখার কোনো ইতিহাস পাওয়া যায় না।

 

ভারতে সাধারণ আদালত কক্ষে লোহার খাঁচার ব্যবহার নেই উল্লেখ করে নোটিশে বলা হয়েছে, দেশের কোনো আইনে কাঠগড়ায় লোহার খাঁচার ব্যবহার সংক্রান্ত কোনো বিধান নেই। তবে কারা আইন, ১৮৯৪-এর ৫৬ ধারায় জেলে বন্দি কয়েদিকে সরকারের অনুমোদনক্রমে লৌহ-শৃঙ্খলে আটক করে রাখার বিধান আছে।

নোটিশে বলা হয়েছে, বিচারে দোষী প্রমাণিত হওয়ার আগেই অভিযুক্তকে প্রকাশ্য আদালতে লোহার খাঁচায় বন্দি করে অভিযুক্ত ব্যক্তি যে নির্দোষ হতে পারেন, সে ধারণা বা নীতিকে লঙ্ঘন করা হচ্ছে। যা দেশের সংবিধান, প্রচলিত আইন ও আন্তর্জাতিক বিধি-বিধান, চুক্তি, ঘোষণা এবং অভিযুক্তের নির্দোষ অনুমান নীতির পরিপন্থী।

তাই মানুষের স্বাভাবিক মর্যাদা সমুন্নত রাখতে ও মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করতে আদালতে লোহার খাঁচার অপসারণ একান্ত প্রয়োজন।