হোয়াইট হাউসে ইউএফসি কেজ-ফাইটিং অনুষ্ঠানে ড্রোন ও স্নাইপার হামলার পরিকল্পনার অভিযোগে আটজনের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। গত জুনে অনুষ্ঠিত ওই ইভেন্টে ব্যর্থ হামলার ছক আঁকার দায়ে বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) ওহাইওতে তাদের বিরুদ্ধে হত্যা ও সন্ত্রাসবাদের ষড়যন্তের এই অভিযোগ আনা হয়।
তদন্তকারীরা জানান, হোয়াইট হাউসে ‘ফ্রিডম ২৫০’ নামের একটি ইউএফসি ইভেন্টের আয়োজন করা হয়েছিল, যেখানে উপস্থিত ছিলেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। চরমপন্থী ও প্রান্তিক ষড়যন্ত্র তত্ত্বে বিশ্বাসী এই চক্রটির লক্ষ্য ছিল ড্রোন ও স্নাইপার ব্যবহার করে সেখানে ভয়াবহ হামলা চালানো। তাদের পরিকল্পনা ছিল অনুষ্ঠান চলাকালীন বিস্ফোরক বোঝাই ড্রোন উড়িয়ে নিয়ে বিস্ফোরণ ঘটানো। এরপর আতঙ্কিত হয়ে সাধারণ মানুষ যখন প্রাণভয়ে দৌড়াদৌড়ি শুরু করবে, তখন স্নাইপার বা দূরপাল্লার বন্দুক দিয়ে ভিড়ের ওপর নির্বিচারে গুলি চালানো।
অভিযোগপত্র অনুসারে, এই চক্রান্তের সূত্রপাত হয়েছিল গত মে মাসে। তখন থেকেই দলটি টাকা, স্বয়ংক্রিয় আগ্নেয়াস্ত্র, গোলাবারুদ, বডি আর্মার, বিস্ফোরক, ড্রোন ও যোগাযোগের উন্নত সরঞ্জাম সংগ্রহ করতে শুরু করে। তবে অনুষ্ঠানটি শুরু হওয়ার চার দিন আগে, ১০ জুন মার্কিন আইন প্রয়োগকারী সংস্থা ও গোয়েন্দারা এই সম্ভাব্য হুমকির বিষয়টি টের পেয়ে যান।
গত মাসে ওহাইও, মিসৌরি, ওয়াশিংটন, নেব্রাস্কা ও ক্যালিফোর্নিয়া থেকে এই চক্রের সাত সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়। এদের মধ্যে ওহাইওর ১৯ বছর বয়সী তরুণ টাইসেন সি. প্রোপার অন্যতম। বিচার বিভাগ জানিয়েছে, চলতি সপ্তাহে এই মামলায় অষ্টম ব্যক্তিকে অভিযুক্ত করার মাধ্যমে ঘটনার সাথে জড়িত মূল ৮ জনকেই আইনের আওতায় আনা সম্ভব হলো। সর্বশেষ গ্রেপ্তার হওয়া ২১ বছর বয়সী এই আসামির নাম চ্যান্ডলার ডি. স্ক্যাগস, যিনি ওয়েস্ট ভার্জিনিয়ার বাসিন্দা।
তদন্তের নথিপত্র অনুযায়ী, এই হামলার পরিকল্পনায় স্ক্যাগসকে একজন ‘স্নাইপার’ বা লক্ষ্যভেদীর ভূমিকা দেওয়া হয়েছিল।
আটককৃত সবার বিরুদ্ধে সন্ত্রাসীদের বস্তুগত সহায়তা প্রদান, সরকারি সম্পত্তিতে হত্যাকাণ্ড ঘটানো ও সরকারি কর্মকর্তাকে হত্যার ষড়যন্ত্রের মতো গুরুতর দুইটি পৃথক ফেডারেল অপরাধের চার্জ গঠন করা হয়েছে।


