শিব্বীর আহমেদ, নিউ ইয়র্ক: বাংলাদেশে বিরোধী রাজনৈতিক কর্মীদের গণহারে আটকের ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডব্লিউ)। সংস্থাটির ৫ অক্টোবর প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ২৬ সেপ্টেম্বর ঢাকায় জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) একটি সভা থেকে প্রায় ২৯০ জনকে আটক করে পুলিশ। এইচআরডব্লিউর এশিয়া অঞ্চলের পরিচালক এলেইন পিয়ারসনের লেখা প্রতিবেদনে বলা হয়, ক্ষমতাসীন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) যুবসংগঠন যুবদলের সদস্যরা অভিযোগ করেন, সভাটি ছিল নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের একটি গোপন বৈঠক। প্রতিবেদন অনুযায়ী, আটক ব্যক্তিদের মধ্যে ২৭ জনকে আদালতের নির্দেশে হেফাজতে পাঠানো হয়। তাঁদের বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়।

জাসদ ২০০৯ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন ১৪-দলীয় জোটের অংশ ছিল। ২০২৪ সালে শিক্ষার্থীদের নেতৃত্বে আন্দোলনের মুখে শেখ হাসিনা সরকারের পতন ঘটে। ওই আন্দোলন দমনে নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানে শত শত মানুষ নিহত হন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

এইচআরডব্লিউর প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ২৬ সেপ্টেম্বর বরিশালে আওয়ামী লীগের ১২ জন কর্মীকে গোপন বৈঠকের মাধ্যমে নাশকতার পরিকল্পনার অভিযোগে আটক করা হয়। এর দুই দিন পর ঢাকায় আরও ১৫ জনকে ২০০৯ সালের সন্ত্রাসবিরোধী আইনে গ্রেপ্তার করা হয়।প্রতিবেদন অনুযায়ী, আটক ব্যক্তিরা দাবি করেন, তাঁরা শেখ হাসিনার জন্মদিন উপলক্ষে একত্রিত হয়েছিলেন।

এইচআরডব্লিউর প্রতিবেদনে বলা হয়, শেখ হাসিনার শাসনামলে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড, গুম, নির্যাতন এবং রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে নির্বিচারে আটকের মতো গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটেছে। ওই সময়ে বিএনপিও দমন-পীড়নের শিকার হয়েছিল।

তবে অতীতের মানবাধিকার লঙ্ঘন বর্তমান সরকারের একই ধরনের পদক্ষেপকে বৈধতা দিতে পারে না বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। সংস্থাটির মতে, আওয়ামী লীগের সদস্যদের নির্বিচারে আটক এবং মানবাধিকারের সুরক্ষা দুর্বল করার পদক্ষেপ বাংলাদেশের আইনের শাসন ও রাজনৈতিক স্বাধীনতা নিয়ে উদ্বেগ সৃষ্টি করছে।

আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইন অনুযায়ী, প্রত্যেক ব্যক্তির মতপ্রকাশ ও সমিতি গঠনের স্বাধীনতা রয়েছে। অতীতের সরকারের অধীনে সংঘটিত অধিকার লঙ্ঘনের জবাবে বর্তমান সরকারেরও একই ধরনের লঙ্ঘন গ্রহণযোগ্য নয় বলে মন্তব্য করেছে সংস্থাটি।