মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার কাজিপুর ডিগ্রি কলেজে উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে ডিগ্রি প্রথম বর্ষের ইংরেজি প্রথম পত্রের পরীক্ষায় বই দেখে লেখার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় সংবাদ সংগ্রহ করতে যাওয়া বাংলাদেশ বেতার ও নাগরিক টেলিভিশনের মেহেরপুর জেলা প্রতিনিধি রাব্বি আহমেদ এবং দৈনিক খবরের কাগজের জেলা প্রতিনিধি তারেক হোসেন আহত হয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন সংশ্লিষ্ট সাংবাদিকরা।
সাংবাদিকদের দাবি, সংবাদ সংগ্রহের জন্য কাজিপুর ডিগ্রি কলেজে গিয়ে তারা গেটে দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের অনুমতি নিয়ে পরীক্ষার হলে প্রবেশ করেন। ক্যামেরা চালু করার পর তারা দেখতে পান, পরীক্ষায় অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের অনেকের কাছেই বই রয়েছে এবং তারা বই দেখে উত্তর লিখছেন।
এ সময় পরীক্ষার দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের কাছে বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন করেন সাংবাদিকরা। তাদের ভিডিওতে একজন সাংবাদিককে বলতে শোনা যায়, ‘বই দেখে লিখছেন কেন? এটা তো পরীক্ষা।
একপর্যায়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তির পরিচয় জানতে চান ওই সাংবাদিক। এ নিয়ে তাদের মধ্যে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় হয়। সাংবাদিক নিজেকে সাংবাদিক হিসেবে পরিচয় দিয়ে বলেন, তিনি শুধু ঘটনার বিষয়ে প্রশ্ন করছেন এবং উত্তেজিত হওয়ার কোনো কারণ নেই।
এরপর কয়েকজন পরীক্ষার্থীর কাছেও বই দেখে পরীক্ষা দেওয়ার কারণ জানতে চান সাংবাদিকরা। তাদের কাছে বই দেখে লেখার জন্য টাকা নেওয়া হয়েছে কি না, এমন প্রশ্নও করা হয়। তবে সংশ্লিষ্ট পরীক্ষার্থীদের একজন টাকা নেওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করেন।
সাংবাদিকদের অভিযোগ, বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তোলার একপর্যায়ে বিপ্লব ও বাবর আলী নামে দুই শিক্ষক তাদের ওপর ক্ষিপ্ত হন। পরে কয়েকজন শিক্ষার্থীসহ ১০ থেকে ১৫ জন ব্যক্তি তাদের ওপর হামলা চালান।
সাংবাদিকরা আরো দাবি করে বলেন, পরীক্ষার্থীদের মধ্যে কয়েকজন শিক্ষার্থী নিজেদের সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে পরিচয়পত্রও প্রদর্শন করেন।
ঘটনার পর সাংবাদিকদের একটি কক্ষে অবরুদ্ধ করে রাখা হয় বলেও অভিযোগ করা হয়েছে। এ সময় কাজিপুর কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মাহবুবুর রহমান সেখানে এসে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন বলে দাবি তাদের।
সাংবাদিকদের ভাষ্য অনুযায়ী, বিষয়টি মীমাংসার জন্য তাদের নানাভাবে প্রস্তাব দেওয়া হয়। এমনকি টাকা দিয়ে বিষয়টি সমাধানের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল বলেও অভিযোগ করেন তারা। এসংক্রান্ত কিছু কথোপকথন তাদের কাছে থাকা ভিডিওতে রয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।
পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে পরে তারা সেখান থেকে বের হয়ে আসেন। তবে তাদের দাবি, তাদের সঙ্গে থাকা সহকর্মী রাব্বি আহমেদের দুটি মোবাইল ফোন, টেলিভিশনের লোগোসহ আরো কিছু গুরুত্বপূর্ণ জিনিসপত্র ঘটনাস্থলে পড়ে রয়েছে। এসব মালামাল উদ্ধারের জন্য পুলিশকে জানানো হয়েছে বলে তারা জানান।
এ ঘটনায় সাংবাদিকরা বিপ্লব, বাবর আলীসহ হামলায় জড়িত ১০ থেকে ১৫ জন অজ্ঞাত ব্যক্তিকে গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন।
এদিকে পরীক্ষার হলে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে দায়িত্বপ্রাপ্ত ট্যাগ অফিসার বা প্রতিনিধি থাকার কথা থাকলেও সেখানে কাউকে পাওয়া যায়নি বলেও অভিযোগ করেছেন সাংবাদিকরা। পরে সেখানে উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা ছিলেন বলে তারা জানতে পারেন। ওই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে প্রত্যেক শিক্ষার্থীর কাছ থেকে ৩০০ টাকা করে নেওয়ার অভিযোগ পাওয়ার কথাও জানিয়েছেন ওই সাংবাদিকরা।
শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে বই দেখে পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ করে দেওয়ার বিনিময়ে টাকা নেওয়া হয়েছে—এমন অভিযোগও সাংবাদিকদের কাছে এসেছে বলে দাবি করা হয়েছে।


