NYC Sightseeing Pass
ঢাকা, সোমবার, মে ৪, ২০২৬ | ২১ বৈশাখ ১৪৩৩
ব্রেকিং নিউজ
প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে মন্ত্রিসভার গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক হামে শিশুমৃত্যুর জন্য ইউনূস-নূরজাহানকে দায়ী করে মানববন্ধন সম্পর্কের তিক্ততা কমাতে ভ্যাটিকান-রোম সফরে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী পশ্চিমবঙ্গ নির্বাচন, যুক্তরাষ্ট্রে তৃণমূল-বিজেপির পক্ষে-বিপক্ষে চলছে কোটি কোটি টাকার ‘বাজি’ যুক্তরাষ্ট্রে চলচ্চিত্র নির্মাণে অনুদান পেলেন বাংলাদেশি নির্মাতা পিএসএলে চ্যাম্পিয়ন নাহিদ রানার পেশোয়ার জালমি ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতা দেশের মানুষকে আবার স্বাধীন করেছে : প্রধানমন্ত্রী তরমুজ খেয়ে একই পরিবারের ৪ জনের মৃত্যু! দুই গণমাধ্যমের ওপর চরম খেপলেন ট্রাম্প নিজের কণ্ঠে অজানা সত্য বলবেন প্রয়াত প্রিন্সেস ডায়ানা!
Logo
logo

হামে শিশুমৃত্যুর জন্য ইউনূস-নূরজাহানকে দায়ী করে মানববন্ধন


খবর   প্রকাশিত:  ০৪ মে, ২০২৬, ০৯:০৫ এএম

হামে শিশুমৃত্যুর জন্য ইউনূস-নূরজাহানকে দায়ী করে মানববন্ধন

দেশজুড়ে হামে শিশুদের মৃত্যুর জন্য বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস ও স্বাস্থ্য উপদেষ্টা নূরজাহান বেগমকে দায়ী করে তাদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানানো হয়েছে। সেই সঙ্গে ইউনূস ও নূরজাহান বেগমের কাছ থেকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

এসব দাবি নিয়ে রবিবার (৩ মে) বিকেলে ঢাকার মিরপুরে গ্রামীণ ব্যাংকের সামনে মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়। মানববন্ধনের আয়োজন করে হিউম্যানিটারিয়ান ইউনিটি উইথ মোরালিটি (এইচইউএম)।

সভাপতিত্ব করেন এইচইউএমের যুগ্ম আহ্বায়ক শাকিল আহমেদ।

 

মানববন্ধনে এইচইউএমের আহ্বায়ক হাসান আহমেদ বলেন, ‘আপনারা জানেন বিগত দুই মাস ধরে আমাদের শিশুরা হামে ঝরে যাচ্ছে। সারা দেশে শিশুরা মারা যাচ্ছে হামের উপসর্গে। অথচ এই হাম রোগ দেশে ছিল বিলুপ্তপ্রায়।

 

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য মতে, গত ১৫ মার্চ থেকে ১ মে পর্যন্ত সময়ে হামে নিশ্চিতভাবে ৪৯ শিশু মারা গেছে। একই সময়ে হামের উপসর্গ নিয়ে আরো ২৩১ থেকে ২৩৫ জন শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

হাসান আহমেদ বলেন, ‘বাংলাদেশ দীর্ঘদিন উচ্চ টিকাদান হার নিয়ে গর্ব করত। কিন্তু ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর টিকা সংগ্রহ ব্যবস্থায় বিপর্যয় নেমে আসে।

ফলে দেশজুড়ে টিকার সংকট তৈরি হয় এবং টিকাদানের হার দ্রুত কমে যায়। একই সঙ্গে শিশুর অপুষ্টি ও দুর্বল স্বাস্থ্যব্যবস্থা মৃত্যুর হার বাড়িয়ে দিয়েছে। দায়টা কার? অবশ্যই তৎকালীন প্রধান উপদেষ্টা ও তার স্বাস্থ্য উপদেষ্টার।’

 

বাংলাদেশে সাধারণত শিশুদের ৯ ও ১৫ মাস বয়সে হাম-রুবেলা (এমআর) টিকার দুটি ডোজ দেওয়া হয়। এ ছাড়া প্রতি চার বছর অন্তর জাতীয় ক্যাম্পেইনের মাধ্যমে বাদ পড়া শিশুদের টিকা দেওয়া হয়, যাতে ৯৫ শতাংশ কভারেজ নিশ্চিত হয়, যা প্রাদুর্ভাব ঠেকাতে প্রয়োজনীয় বলে ধরা হয়।

বছরের পর বছর ইউনিসেফ এই টিকা সরবরাহ করত এবং অধিকাংশ অর্থায়ন দিত গ্যাভি, দ্য ভ্যাকসিন অ্যালায়েন্স। বাংলাদেশ সরকারও এতে অর্থ দিত। কিন্তু ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর সেই ব্যবস্থায় ছেদ পড়ে। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে ইউনূস সরকার ইউনিসেফের মাধ্যমে টিকা সংগ্রহ বন্ধ করে উন্মুক্ত দরপত্র পদ্ধতি চালু করে। এই ব্যবস্থায় সরকার বিভিন্ন সরবরাহকারীর কাছ থেকে প্রস্তাব নিয়ে যাচাই-বাছাই শেষে ক্রয়াদেশ দেয়।

 

এইচইউএমের আহ্বায়ক আরো বলেন, ইউনিসেফ শুরু থেকেই এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেছে। সংস্থাটির বাংলাদেশ প্রতিনিধি রানা ফ্লাওয়ার্স বলেছেন, তিনি ঈশ্বরের দোহাই দিয়ে বলেছিলেন এমনটি না করতে। এতে টিকাদান কর্মসূচি ব্যাহত হয়ে প্রাদুর্ভাব দেখা দিতে পারে। অন্তর্বর্তী সরকারের স্বাস্থ্য উপদেষ্টা নূরজাহান বেগমকে তিনি ব্যক্তিগতভাবে সিদ্ধান্তটি না নিতে অনুরোধ করেছিলেন। কিন্তু সে সময়ের উপদেষ্টা কথা শোনেননি। দরপত্রের প্রক্রিয়া আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় আটকে যায়। ফলে টিকা সরবরাহ বন্ধ হয়ে দেশজুড়ে মজুত ফুরিয়ে যায় এবং নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচি ব্যাহত হয়। ২০২৪ সালে হওয়ার কথা থাকলেও রাজনৈতিক অস্থিরতায় পিছিয়ে যাওয়া সম্পূরক এমআর টিকাদান অভিযান ২০২৫ সালে পুরোপুরি বাতিল করা হয়।

তিনি উল্লেখ করেন, চলতি বছরের মার্চের শেষ দিকে পাওয়া সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে যোগ্য শিশুদের মাত্র ৫৯ শতাংশ হামের টিকা পেয়েছে। পরে এই তথ্য সরকারি ওয়েবসাইট থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। এই সরকারকে ধন্যবাদ, তারা ড. ইউনূস নেতৃত্বাধীন উপদেষ্টা পরিষদের অথর্বতা ও অব্যবস্থাপনাকে সামাল দেওয়ার প্রাণপণ চেষ্টা করছে। ইউনিসেফের মাধ্যমে টিকা সংগ্রহ শুরু হয়েছে এবং ডব্লিউএইচও ও গ্যাভির সহায়তায় নতুন সরবরাহ নিশ্চিত করা হয়েছে।

গত ১২ এপ্রিল সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী বিপ্লব কুমার দাস অন্তর্বর্তী সরকারের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও টিকা সংগ্রহে ব্যর্থতার অভিযোগ এনে দুর্নীতি দমন কমিশনে অভিযোগ দায়ের করেছেন উল্লেখ করে হাসান আহমেদ বলেন, ইউনিসেফ প্রতিনিধি রানা ফ্লাওয়ার্স বলেছেন, এত বড় বিপর্যয়ের পর টিকা সংগ্রহ পদ্ধতি পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত তদন্ত হওয়া উচিত। আমরা তার সঙ্গে একমত জানিয়ে তিন দফা দাবি করছি।

দাবিগুলো হলো : হামে মৃতদের পরিবারকে দায়ী ড. ইউনূস ও নূরজাহান বেগমের কাছ থেকে ক্ষতিপূরণ আদায় করে দিতে হবে, টিকা সংগ্রহে ব্যর্থতার দায়ে দুদকে করা অভিযোগের দ্রুত তদন্ত করতে হবে এবং দায়ী ড. ইউনূস ও স্বাস্থ্য উপদেষ্টাকে আইনের শাস্তির আওতায় আনতে হবে।