NYC Sightseeing Pass
ঢাকা, শুক্রবার, মে ১, ২০২৬ | ১৮ বৈশাখ ১৪৩৩
ব্রেকিং নিউজ
শ্রমিকের খাতায় নিজের নাম লেখাতে চান তারেক রহমান মহান মে দিবস আজ এই চেয়ারে বসলে প্রতি মুহূর্তে অনুভব করি ‘তপ্ত হিট’ আসছে : প্রধানমন্ত্রী দেশবাসীর দাবি, ইউনূস সরকারের ১৮ মাসের দুর্নীতি তদন্তে স্বাধীন কমিশন গঠন করা হোক বোয়িংয়ের ১৪ উড়োজাহাজ কিনতে চুক্তি সই ট্রাম্পকে হত্যাচেষ্টা, মাত্র ৪ সেকেন্ডে নিরাপত্তা বলয় ভাঙার ভিডিও প্রকাশ গ্লোবাল অ্যানিমে অ্যাওয়ার্ডস সঞ্চালনা করবেন রাশমিকা সংসদ সচিবালয় কমিশনের বৈঠকে ২৯০ কোটি টাকার বাজেট অনুমোদন আরএমটিপি প্রকল্পে ৭ লাখের বেশি পরিবারের জীবিকায় দৃশ্যমান উন্নয়ন ইরান যেন পারমাণবিক শক্তিধর না হয়, রাজা চার্লসও তাতে একমত : ট্রাম্প
Logo
logo

সোমালিয়ার উপকূলে বাড়ছে জলদস্যুতা—দায়ী ইরান যুদ্ধ?


খবর   প্রকাশিত:  ০১ মে, ২০২৬, ০৬:০৫ পিএম

সোমালিয়ার উপকূলে বাড়ছে জলদস্যুতা—দায়ী ইরান যুদ্ধ?

সোমালিয়ার উপকূলে চলতি সপ্তাহে অন্তত তিনটি জাহাজ ছিনতাইয়ের শিকার হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে হরমুজ প্রণালি এলাকায় উত্তেজনা মোকাবিলায় বিভিন্ন দেশের নৌবাহিনী ব্যস্ত থাকায় সোমালিয়া উপকূলে নজরদারি কমে যাওয়ায় জলদস্যু হামলা বেড়ে যাচ্ছে -- এমন তথ্য উঠে এসেছে কাতারভিত্তিক গণমাধ্যম আলজাজিরার বিশ্লেষণে। 

যদিও ২০০০-এর দশকের শুরু থেকে মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত এই অঞ্চলটি ছিল বিশ্বের সবচেয়ে কুখ্যাত জলদস্যুতা-প্রবণ এলাকা। পরে আন্তর্জাতিক নৌ জোট গঠন করে বৈশ্বিক বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের ওপর এ হুমকি অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে আনে।

 

বিশ্বব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, সোমালিয়ার উপকূলে জলদস্যুতার কারণে বৈশ্বিক অর্থনীতিতে বছরে প্রায় ১৮ বিলিয়ন ডলার পর্যন্ত ক্ষতি হয়েছিল সংকটের চূড়ান্ত সময়ে।

5136

এরপরও মাঝেমধ্যে ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছে, চলতি বছরেও কয়েকটি ঘটনা সামনে এসেছে। তবে সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে দ্রুত ধারাবাহিকভাবে তেলবাহী জাহাজ ছিনতাইয়ের ঘটনায় উদ্বেগ আরও বেড়েছে।

বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা তথ্য সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান ইউকে মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস জানায়, এই সপ্তাহে সোমালিয়া উপকূলে হুমকির মাত্রা “উল্লেখযোগ্য” বলে জানিয়েছে এবং জাহাজগুলোকে “সতর্কতার সঙ্গে চলাচল” করতে বলেছে।

 

সম্প্রতি যা ঘটেছে

সোমালিয়ার উপকূলের কাছে ২০ এপ্রিলের পর থেকে তিন থেকে চারটি বাণিজ্যিক জাহাজ ছিনতাইয়ের শিকার হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন নেভাল ফোর্স জানায়, ২০ এপ্রিল পন্টল্যান্ড মেরিটাইম পুলিশ ফোর্স  তাদের একটি মাছ ধরার জাহাজ ‘আখারি -২’ ছিনতাইয়ের তথ্য দেয়।

তবে সোমালিয়ার পতাকাবাহী একটি মাছ ধরার জাহাজ উত্তর উপকূল থেকে ছিনতাই করা হলেও পরে তা ছেড়ে দেওয়া হয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

পরদিন ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন নেভাল ফোর্স জানায়, একই এলাকায় ‘অনার ২৫’ নামের আরেকটি জাহাজ ছিনতাই হয়েছে।

প্রায় ১৮ হাজার ব্যারেল তেল বহনকারী এই জাহাজে জলদস্যুরা হামলা চালায়। 

 

543

জাহাজটি প্রথমে সংযুক্ত আরব আমিরাতে যাচ্ছিল। কিন্তু  ২ এপ্রিল দিক পরিবর্তন করে মোগাদিশুর দিকে ফেরে। পরে হরমুজ প্রণালিতে প্রবেশ করতে পারেনি। এতে পাকিস্তান, ইন্দোনেশিয়া, ভারত, শ্রীলঙ্কা ও মিয়ানমারের ১৭ জন নাবিক ছিলেন বলে বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

 

ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন নেভাল ফোর্স জানায়, সোমালিয়ার গারাকাদ শহরের উত্তর-পূর্বে ৬ নটিক্যাল মাইল দূরে জাহাজটি ছিনতাই করা হয়। এতে ১৫ জন নাবিক ছিলেন—দুইজন ভারতীয় এবং ১৩ জন সিরীয়।

512

পরদিন পন্টল্যান্ড কর্তৃপক্ষ জানায়, সেন্ট কিটস অ্যান্ড নেভিসের পতাকাবাহী একটি সিমেন্টবাহী জাহাজ গারাকাদ উপকূলে ছিনতাই হয়েছে। জাহাজটি মিশর থেকে কেনিয়ার মোম্বাসায় যাচ্ছিল এবং এতে নয়জন সশস্ত্র জলদস্যু ছিল।

কেন বাড়ছে?

প্রতিবেদনে বলা হয়, এই হামলাগুলোর পেছনে কারা রয়েছে তা এখনও স্পষ্ট নয়। অতীতে স্থানীয় জেলে ও বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠী—যাদের মধ্যে আইএসআইএল (আইএস) ও আল-কায়েদা-সম্পৃক্ত দলও রয়েছে—এ ধরনের ঘটনায় জড়িত ছিল

বিশ্লেষকদের মতে, ২০২৩ সালের পর থেকে ইয়েমেনের হুথি গোষ্ঠীর হামলা ঠেকাতে বাব আল-মান্দেব প্রণালি এলাকায় নৌ টহল বাড়ানো হয়, ফলে সোমালিয়া উপকূলে নজরদারি কমে যায়—যা জলদস্যুদের সুযোগ করে দিয়েছে।

সাম্প্রতিক সময়ে কিছু দেশের নৌবাহিনী, যারা আগে জলদস্যুতা দমনে সক্রিয় ছিল, তারা এখন হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল নিশ্চিত করতে ব্যস্ত।

21

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ও ইরানের যুদ্ধের কারণে জ্বালানির দাম বাড়ায় তেলবাহী জাহাজগুলো জলদস্যুদের কাছে আরও মূল্যবান লক্ষ্য হয়ে উঠেছে।

ব্রেন্ট ক্রুডের দাম যুদ্ধ শুরুর পর ৫০ শতাংশের বেশি বেড়ে বর্তমানে ব্যারেলপ্রতি ১১০ ডলারের বেশি হয়েছে।

সোমালিয়ায় জলদস্যুতার ইতিহাস

সোমালিয়ার উপকূল, এডেন উপসাগর ও ভারত মহাসাগরের কিছু অংশ দীর্ঘদিন ধরেই জলদস্যুতার জন্য কুখ্যাত। ২০০০-এর দশকের শুরুতে সোমালিয়া-ইথিওপিয়া যুদ্ধের সময় সরকারের পতনের পর ছিনতাই বেড়ে যায়।

41

হাজারো নাবিককে জিম্মি করা হয় এবং মুক্তিপণের জন্য কোটি কোটি ডলার দাবি করা হয়। 

বিশ্বব্যাংক জানায়, ২০০৫ থেকে ২০১২ সালের মধ্যে মুক্তিপণ বাবদ ৩৩৯ থেকে ৪১৩ মিলিয়ন ডলার আদায় করা হয়। ২০১১ সালে এক বছরেই প্রায় ২১২টি হামলার ঘটনা ঘটে—যা ছিল সর্বোচ্চগুলোর একটি।

এরপর ন্যাটোর ‘অপারেশন ওশান শিল্ড’, ইউনাভফার অপারেশন আটলান্টা, কম্বাইন্ড মেরিটাইম টাস্ক ফোর্স এবং সোমালি কর্তৃপক্ষ মিলে টহল শুরু করে। ৪৭টি দেশের এই যৌথ উদ্যোগ জলদস্যুতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনে।

বর্তমানেও ইউনাভফার এবং সোমালি কর্তৃপক্ষ যৌথভাবে এ অঞ্চলে জলদস্যুতা দমন কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।