রাজ্যে স্বচ্ছ ভোটার তালিকা প্রণয়নে বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়া চালু করেছিল ভারতীয় নির্বাচন কমিশন। মৃত ও অযোগ্য ভোটারদের নাম বাদ দেওয়া ছিল মূল উদ্দেশ্য। একাধিক বিধানসভায় ভোটার তালিকায় নামে গরমিল থাকায় পশ্চিমবঙ্গের প্রতি আসন থেকে হাজার হাজার ভোটার বাদ পড়েছে। তবে সর্বোচ্চ নাম বাদ যাওয়া ২০ আসনে মধ্যে তেরোটিতে জয়ী হয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস, ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) জয়ী হয়েছে ছয়টি, একটিতে জয় পেয়েছে কংগ্রস।

 

কলকাতাভিত্তিক সংবাদমাধ্যম সংবাদ প্রতিদিনের প্রতিবেদনে বলা হয়,  বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়া নিয়ে নিয়ে পক্ষপাত্বিতের অভিযোগ উঠেছিল। এসআইআর পরিসংখ্যান প্রকাশ হওয়ায় যেন সব বিতর্কে জল ঢেলে দিয়েছে।

এসআইআর পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, সামশেরগঞ্জ বিধানসভা আসনে ভোটার তালিকা থেকে ৭৪ হাজার ৭৭৫ জনের নাম বাদ গেছে। এই আসনে তৃণমূল জিতেছে সাড়ে সাত হাজারেরও বেশি ভোটে।

 

সামশেরগঞ্জ ছাড়াও এসআইআরে সবচেয়ে বেশি নাম বাদ পড়েছে তার মধ্যে রয়েছে লালগোলা (বাদ ৫৫ হাজার ৪২০), ভগবানগোলা (বাদ ৪৭ হাজার ৪৯৩), রঘুনাথগঞ্জ (বাদ ৪৬ হাজার ১০০), মেটিয়াবুরুজ (বাদ ৩৯ হাজার ৫৭৯), সুতি (বাদ ৩৭ হাজার ৯৬৫)। এর সবকটিতেই জিতেছে জোড়া ফুল।

অন্যদিকে এসআইআরে সর্বোচ্চ নাম বাদ পড়ার তালিকায় রয়েছে ফরাক্কা বিধানসভা কেন্দ্রও। সেখানে এসআইআরে ৩৮ হাজার ২২২ নাম বাদ পড়েছে।

ওই আসন জিতেছে কংগ্রেস।

 

তবে শুধু তৃণমূল কিংবা কংগ্রেস নয়। বিজেপির দখলেও রয়েছে এমন কিছু আসন। যেখানে এসআইআরে অনেক নাম বাদ পড়েছে। মানিকচক আসনে এসআইআরে ২৩ হাজারেরও বেশি নাম বাদ পড়ে।

আসনটিতে অল্প কিছু ব্যবধানে জয়ী হয়েছে বিজেপি। অন্যদিকে কেতুগ্রামে সাম্প্রতিক এসআইআরে ২৬ হাজার ৭৮০ নাম বাদ পড়েছে, বিজেপি প্রার্থী অনাদি ঘোষ সেই আসনে জিতেছেন ২৭ হাজার ৬১০ ভোটে।

 

পরিসংখ্যানে উঠে এসেছে আরো চমকপ্রদ তথ্য। ১৮৭টি আসনে যেখানে ৫ হাজারের বেশি ভোটারের নাম বাদ গিয়েছে। তারমধ্যে ১১৯টিতে জয় পেয়েছে গেরুয়া শিবিরি। আর তৃণমূল জিতেছে ৬৫টিতে।

উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, এই ১৮৭টি আসনের মধ্যে ৪৭টিতে বাদ যাওয়া ভোটারের সংখ্যা জয়ী প্রার্থীর জয়ের ব্যবধানের চেয়েও দ্বিগুণ। 

রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাদ পড়া ভোটাররা থাকলে ফলাফল অন্যরকমও হতে পারত। দেখা গিয়েছে, ১১৯টি আসনে বিজেপি জিতেছে যার মধ্যে ২৮টিতে বাদ যাওয়া ভোটারের সংখ্যা জয়ের ব্যবধানের থেকেও বেশি। এর মধ্যে আবার ২৬টি আসন ২০২১ সালে তৃণমূল জিতেছিল। 

স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্বের দাবি, এসআইআর-এ এত বেশি ভোটার বাদ না পড়লে ফলাফল অন্যরকমও হতে পারত।