রাশিয়ার তেল শোধনাগারে ইউক্রেনের নতুন করে ড্রোন হামলা চালানোকে ‘লজ্জাজনক’ বলে মন্তব্য করেছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মার্কিন প্রেসিডেন্টের এমন সমালোচনার জবাবে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, তিনি শুধুই তার দেশের জাতীয় স্বার্থ রক্ষা করছেন।

একই সঙ্গে মস্কোর কাছ থেকে ডিজেল আমদানিতে ওয়াশিংটনের বিতর্কিত চুক্তির তীব্র বিরোধিতা করে তিনি অভিযোগ করেন, এটি পুতিনের পকেটে যুদ্ধের তহবিল জোগাতে সহায়তা করবে।

 

সম্প্রতি রাশিয়ার জ্বালানি খাতের ওপর ডোনাল্ড ট্রাম্প হুট করেই একপক্ষীয় যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করেন। তবে মস্কো সেই চুক্তি মানতে অস্বীকার করে ইউক্রেনের জ্বালানি অবকাঠামোতে হামলা অব্যাহত রাখায় কিয়েভও গত মঙ্গলবার থেকে আবার পাল্টাহামলা শুরু করে। এ ঘটনার পর এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘পুতিনের চেয়ে জেলেনস্কির সঙ্গে চুক্তি করা বেশি কঠিন।

তিনি বিশ্ববাজারে তেলের দাম বাড়িয়ে দিচ্ছেন।’ ট্রাম্পের মতে, ইউক্রেনের এই হামলার ফলে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য ডিজেল সরবরাহের চুক্তি ব্যাহত হচ্ছে। আগামী মাসের মিড-টার্ম নির্বাচনের আগে দেশে জ্বালানির দাম কমাতে রাশিয়া থেকে তিন লাখ টন ডিজেল আমদানির চুক্তি করেছিলেন ট্রাম্প।

 

শুক্রবার ব্রাসেলসে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সম্মেলনে যোগ দিয়ে জেলেনস্কি ইইউ নেতাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে ট্রাম্পকে পরোক্ষ নিশানা করে বলেন, ‘প্রকৃত নেতাদের মাঝে ফিরতে পেরে বেশ ভালো লাগছে।

’ 

 

ডিজেল চুক্তির তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আজ ডিজেল চুক্তি হলো, কাল হয়তো গ্যাস চুক্তি হবে। আমি যদি এর প্রতিবাদ না করি, তবে আর কে করবে?’

সম্মেলনে জেলেনস্কি ইইউ নেতাদের কাছে সতর্ক করে জানান, আগামী বছর যুদ্ধ চালিয়ে যেতে ইউক্রেনের ১৫৫ বিলিয়ন ইউরো প্রয়োজন হবে, যার মধ্যে শুধু প্রতিরক্ষা ও অস্ত্রের জন্যই ইইউ থেকে অন্তত ৭০ বিলিয়ন ইউরো দরকার। একই সঙ্গে আমেরিকার তৈরি ‘প্যাট্রিয়ট’ ক্ষেপণাস্ত্রের তীব্র সংকটের কথা উল্লেখ করে শীতের দিনে আকাশ সুরক্ষায় ইউরোপকে দ্রুত সহায়তা করার আহ্বান জানান তিনি।

এদিকে সম্প্রতি ওয়াশিংটন ও কিয়েভের সম্পর্কে বেশ টানাপোড়েন দেখা দিয়েছে। রয়টার্স ও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের তথ্য মতে, ইউক্রেনকে রুশ তেল শোধনাগারে হামলা বন্ধ করতে চাপ দিতে তাদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ স্যাটেলাইট ইন্টারনেট সেবা ‘স্টারলিংক’-এর গতি কমিয়ে দেওয়া হয়েছে।

 

 

গত মঙ্গলবার রাতে স্টারলিংক ধীরগতির হয়ে পড়ার সুযোগে ইউক্রেনের বেশ কয়েকটি স্থানে রাশিয়া প্রাণঘাতী বিমান হামলা চালায়, যার কোনো আগাম সতর্কতা জারি করা সম্ভব হয়নি। জেলেনস্কি এটিকে ‘অত্যন্ত বিপজ্জনক ও অপ্রীতিকর বিস্ময়’ বলে অভিহিত করেছেন। এমনকি তেল শোধনাগারে হামলা না থামালে গোয়েন্দা তথ্য শেয়ার করা বন্ধ করে দেওয়ার হুমকিও দিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। 

ব্রাসেলসে সংবাদ সম্মেলনে এক সাংবাদিক প্রশ্ন করেন—‘ট্রাম্প কি নিজের রাজনৈতিক চাপ সামলাতে জেলেনস্কিকেই বলির পাঁঠা বানাচ্ছেন?’ জবাবে জেলেনস্কি কিছুক্ষণ চুপ থেকে মৃদু হাসেন, যা উপস্থিত সাংবাদিকদের হাসিয়ে তোলে। জেলেনস্কি বলেন, ‘আমার এই হাসিটুকুই প্রশ্নটির উত্তর।’

এদিকে যুদ্ধক্ষেত্রে হামলা-পাল্টা হামলা অব্যাহত রয়েছে। বৃহস্পতিবার রাতে ইউক্রেনের খারকিভে রুশ ড্রোন হামলায় বেশ কয়েকজন নিহত হয়েছেন। অন্যদিকে মস্কোর আকাশসীমা লক্ষ্য করে ইউক্রেনের চালানো বড় ধরনের ড্রোন হামলার পর ২৬টি অঞ্চলে অন্তত ৬৪৪টি ড্রোন ভূপাতিত করার দাবি করেছে রাশিয়া।