শিব্বীর আহমেদ, ওয়াশিংটন ডিসি — কৃষি গবেষণার অগ্রগতি, খাদ্য উৎপাদনের বৈশ্বিক হুমকি মোকাবিলা এবং যুক্তরাষ্ট্রের কৃষক, ব্যবসায়ী ও ভোক্তাদের জন্য সরবরাহব্যবস্থা শক্তিশালী করতে দেশটির বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে অংশীদারত্বে আটটি ‘ফিড দ্য ফিউচার’ উদ্ভাবনী গবেষণাগার চালুর ঘোষণা দিয়েছে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর।

বৃহস্পতিবার প্রকাশিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে পররাষ্ট্র দপ্তর জানায়, এ উদ্যোগের আওতায় আন্তর্জাতিক সীমানা অতিক্রম করে ছড়িয়ে পড়তে পারে—এমন কৃষিসংক্রান্ত চ্যালেঞ্জ নিয়ে গবেষণা করা হবে। এসব চ্যালেঞ্জের মধ্যে রয়েছে ফসলের ক্ষতিকর পোকামাকড়, গবাদিপশুর রোগ এবং মাটির উর্বরতা হ্রাস। এসব হুমকি যুক্তরাষ্ট্রের কৃষিজমি ও খাদ্য সরবরাহব্যবস্থায় পৌঁছানোর আগেই মোকাবিলায় গবেষণাগারগুলো কাজ করবে। একই সঙ্গে এ উদ্যোগ মার্কিন করদাতাদের জন্য সরাসরি সুফল বয়ে আনবে বলে জানিয়েছে দপ্তরটি।

প্রাণিস্বাস্থ্য, শস্য এবং মাটির উর্বরতা নিয়ে গবেষণার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের কৃষকদের নতুন ও উদীয়মান হুমকি থেকে সুরক্ষা দেওয়ার লক্ষ্য রয়েছে। পাশাপাশি কফি, কোকো এবং চিনাবাদাম নিয়ে গবেষণা এসব পণ্যের সরবরাহব্যবস্থা শক্তিশালী করতে সহায়তা করবে। এসব পণ্য যুক্তরাষ্ট্রের ভোক্তাদের দৈনন্দিন চাহিদার অংশ।

উন্নয়নশীল দেশগুলোর কৃষি উৎপাদনশীলতা বাড়ানোও এ উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য। এর ফলে ভবিষ্যতে মার্কিন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, কৃষক, বাণিজ্য সংগঠন এবং গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য নতুন বাজার ও অর্থনৈতিক সুযোগ তৈরি হতে পারে।

মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের দাবি, দেশটির বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর নেতৃত্বে পরিচালিত আন্তর্জাতিক কৃষি গবেষণায় প্রতি এক ডলার বিনিয়োগের বিপরীতে আনুমানিক আট ডলারের সুফল পাওয়া যায়। এ ধরনের বিনিয়োগ যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে কৃষিবিজ্ঞানে নেতৃত্বের অবস্থান ধরে রাখতে সহায়তা করে। একই সঙ্গে দেশজুড়ে নতুন প্রজন্মের গবেষকদের প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা উন্নয়নের সুযোগ তৈরি করে।

ঘোষিত আটটি গবেষণাগার যুক্তরাষ্ট্রের সাতটি বিশ্ববিদ্যালয়ের মাধ্যমে পরিচালিত হবে। অবার্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে সার ও মাটির স্বাস্থ্যবিষয়ক গবেষণাগার স্থাপন করা হবে। ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয় উচ্চমূল্যের ফসল নিয়ে গবেষণাগার পরিচালনা করবে। এর পূর্ণ নাম ‘সেফগার্ডিং অ্যাগ্রিকালচার, ফুড অ্যান্ড ইকোনমি’ (SAFE), যার লক্ষ্য কৃষি, খাদ্য ও অর্থনীতির সুরক্ষা নিশ্চিত করা।

জর্জিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে চিনাবাদামবিষয়ক খাদ্য উদ্ভাবন গবেষণাগার এবং হাওয়াই বিশ্ববিদ্যালয়ে কফি ও কোকো নিয়ে গবেষণাগার পরিচালিত হবে। কানসাস স্টেট বিশ্ববিদ্যালয়ে দুটি গবেষণাগার থাকবে। এর একটি শস্যবিষয়ক গবেষণাগার, অন্যটি লক্ষ্যভিত্তিক কৃষিব্যবস্থার টেকসই নিবিড়ায়ন নিয়ে কাজ করবে। দ্বিতীয়টির নাম ‘সাসটেইনেবল ইনটেনসিফিকেশন অব টার্গেটেড অ্যাগ্রিকালচারাল সিস্টেমস’ (SITAS)। মিসিসিপি স্টেট বিশ্ববিদ্যালয়ে মাছবিষয়ক উদ্ভাবনী গবেষণাগার এবং ওয়াশিংটন স্টেট বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রাণিস্বাস্থ্যবিষয়ক গবেষণাগার পরিচালিত হবে।

মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, এ উদ্যোগের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর গবেষণাগত দক্ষতাকে আন্তর্জাতিক কৃষি গবেষণার সঙ্গে যুক্ত করা হবে। এর ফলে খাদ্য উৎপাদনের হুমকি মোকাবিলা, বৈশ্বিক কৃষিপণ্যের সরবরাহব্যবস্থা শক্তিশালী করা এবং মার্কিন কৃষক ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য নতুন অর্থনৈতিক সুযোগ তৈরিতে সহায়তা পাওয়া যাবে।