নিউইয়র্ক: সাহিত্য একাডেমি নিউইয়র্কের মাসিক সাহিত্য আসর ২৪ ফেব্রুয়ারি শুক্রবার সন্ধ্যায় জ্যাকসন হাইটসের একটি মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয়। এবারের আসরটি দুটি পর্বে সাজানো ছিল। প্রথম পর্বের শুরুতেই একুশে ফেব্রুয়ারির সকল শহীদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে লেখক ও প্রাবন্ধিক এ বি এম সালেহ উদ্দিন এর সঞ্চালনায় বাঙালির চিরায়ত বিষয় অমর একুশের ওপর আলোকপাত করেন, লেখক ও সাংবাদিক মঞ্জুর আহমেদ, সাপ্তাহিক ঠিকানা’র প্রধান সম্পাদক ফজলুর রহমান এবং কবি তমিজ উদদীন লোদী।
লেখক ও সাংবাদিক মঞ্জুর আহমেদ তার প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতার বর্ণনায় ১৯৫২ সম্পর্কে বলেন, আমি তখন চতুর্থ শ্রেণীর ছাত্র।আন্দোলন বুঝি না। রাজনীতি বুঝি না। কিন্তু দেখতাম, মিছিল বের হচ্ছে। না বুঝেই মিছিলে শরীক হয়ে যাই। সেই থেকেই শেখার শুরু- ভাষা আন্দোলন কী, রাজনীতি কী, জনগণের অধিকার কী? বুঝতে পারি, ভাষা আন্দোলন এমন একটি আন্দোলন, যা বাঙালি সমাজকে একটি ধাক্কায় অনেক দূর এগিয়ে নিয়ে গিয়েছিল। সাহিত্য, সংস্কৃতি, সামাজিক মূল্যবোধ সর্বক্ষেত্রে এই আন্দোলনের একটা বিরাট অবদান রয়ে গেছে। তিনি বলেন, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের কারণে পৃথিবীজুড়ে যে প্রভাবপড়েছিল, তাকে কেন্দ্র করে মানবজাতির চিন্তা-চেতনায় শিল্প-সংস্কৃতি ও চলচ্চিত্রে যে অগ্রগতি; তা অস্বীকার করা যাবে না।আমাদের ভাষা আন্দোলনেরও এমন একটি অবদান আমাদের সমাজে বিদ্যমান।পরিশেষে তিনি তার লেখা কবিতা পড়ে শোনান।
সাপ্তাহিক ঠিকানার প্রধান সম্পাদক ফজলুর রহমান বলেন, পাঞ্জাব প্রভাবিত পাকিস্তানী শাসকবর্গের সেই রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে ধারাবাহিক আন্দোলনের মধ্যদিয়ে ১৯৫২ সালে ছাত্রসমাজ এবং সাধারণ মানুষ বুক পেতে দিয়েছিল পাকিস্তানী শাসক গোষ্ঠীর পুলিশ ও মিলিটারির সামনে। কোনো দাবীই আমরা বিনা রক্তপাতে বিনা আন্দোলনে অর্জন করতে পারিনি। একুশের শিক্ষা আমাদের সঙ্গে আছে। কোনো দুর্বৃত্তরাই আমাদের দমন করতে পারবে না।
কবি তমিজ উদদীন লোদী বলেন, ৫২তে বিস্ফোরণ ঘটার সূত্রপাতটি হয়েছিল ৪৭-এর দেশ বিভাগের সাথে সাথে। আমাদের ভুলে গেলে চলবে না, আলীগড় বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন উপাচার্য ড. জিয়াউদ্দিন আহমেদ, উর্দুকে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা করার জন্য প্রথম প্রস্তাব রেখেছিলেন। পরর্বতীতে জিন্নাহ এটিকে গ্রহণ করেন।পাকিস্তান হবার সাথে সাথে মুদ্রায়, পোস্ট কার্ডে এবং রেলওয়ের টিকিটগুলোতে ইংরেজী ও উর্দু সন্নিবেশিত করা হয়েছিল। তৎকালীন পাবলিক সার্ভিস কমিশন ঘোষণা দিয়েছিল, এখন থেকে এটিই বহাল থাকবে। সুত্রপাতটা মূলত সেখান থেকেই। একুশে ফেব্রুয়ারি এখন আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস। এদেশে আমরা আছি, বুক ভরে যায়, যখন শুনি এখানকার অনেক কিছুতেই বাংলা ভাষাটি প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। প্রতিটি ভাষাই সময়ের বিবর্তনে সমৃদ্ধ হচ্ছে। ইংরেজি ভাষার এত বেশি গ্রহণযোগ্যতা থাকার পরও ইংরেজিসহ বিভিন্ন ভাষার কিছু কিছু শব্দ তারা অকেজো করে দিচ্ছে এবং নতুন শব্দকে সেখানে প্রতিস্থাপিত করছে। বাংলা ভাষাও তার বাইরে নয়। বুকের রক্ত ঢেলে পাওয়া এই ভাষাটিকে আমাদের লালন করে যেতে হবে।
আলোচনা, আবৃত্তি এবং স্বরচিত পাঠের জন্য দ্বিতীয় পর্বের পরিচালনায় ছিলেন একাডেমির পরিচালক মোশাররফ হোসেন।
এ পর্বে আবৃত্তি করেন 0ভাষার মাসে আমন্ত্রিত নতুন প্রজন্মের কচিপ্রাণ আহনাফ ও আশফিয়া। এছাড়া আবৃত্তি করেন পারভীন সুলতানা, নাসিমা আক্তার এবং নাসরিন শাহানা।
স্বরচিত কবিতাপাঠে অংশগ্রহণ করেন তাহমিনা খান, সুমন শামসুদ্দিন, মৃদুল আহমেদ, সুলতানা ফেরদৌসী, সৈয়দ মামুনুর রশীদ, মিয়া আছকির, সৈয়দ আহমেদ জুয়েদ এবং বেনজির শিকদার।
লেখক ও প্রাবন্ধিক আবেদীন কাদের বলেন, নিউইয়র্ক শহরে যেখানে বেঁচে থাকাটাই কঠিন, সেখানে জীবন চালিয়ে সাহিত্য করা সহজ নয়; ভীষণ ভীষণ কঠিন।সাহিত্য একাডেমিতে আসি কবিতা শুনি ভালো লাগে। লেখালেখির উন্নতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বাংলাদেশে বেশকিছু নারী লেখক খুব ভালো গল্প লিখছেন। আশা করি ঢাকা এবং নিউইর্য়ক থেকে সামনের দিনগুলোতে বেশ ভালো কিছু হবে।
অধ্যাপক হুসনে আরা বলেন, আজ আমরা বিশ্ববাঙালি। প্রতি ১৪ দিনে একটি করে ভাষা হারিয়ে যাচ্ছে। কাজেই আমাদেরএখন করনীয় কী সেটাও মাথায় রাখতে হবে। ছোটো ছোটো ভাষা হারিয়ে যাক সেটা হতে দিতে পারি না। ভাষাই জীবন, ভাষাইগতি।
এছাড়া আসরে বক্তব্য রাখেন নীরা কাদরী, মনিজা রহমান ও সাইদা উদিতা।
সার্বিক সমাপনী বক্তব্যে লেখক ফেরদৌস সাজেদীন বলেন, চলছে অমর একুশে বইমেলা। আমাদের মাথায়, শিরে আমরা ভাষার মুকুট পরে আছি। সেই মুকুটকে কেন্দ্র করে অনেক কবি লেখকই বাংলাদেশে চলে গেছেন। আজ তাদের এখানে দেখছি না। দেশে তারা পুরোনো লেখকদের সাথে আলাপচারিতায় মত্ত হচ্ছেন এবং আরও নতুন কিছু দেবার সম্ভাবনা তৈরি করছেন।একুশ প্রসঙ্গে বলেন, যে ভাষার শ্বাস আমাদের বাঁচার আশ তা নিয়ে সারাজীবন কথা বললেও শেষ হবার নয়। একুশের কারণেই আজ আমরা এখানে আসতে পেরেছি। আমরা বাঁচি বাংলা ভাষায়। যখন দেশান্তরী হই তখনও ভাষাকে বহন করি। পৃথিবীতে আর কোনো জাতি আছে কি যারা এত অল্প সময়ে এত লালিত্যে, এত বৈচ্যিত্রতায় জীবনের সঙ্গে ভাষাকে এত ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে রেখেছে? কাজেই ভাষাকে আমরা যেন কখনো শাসন করতে না যাই। ভাষাকে যত্নে রাখতে হবে।
আসরে উপস্থিত ছিলেন কাজী আতীক, মিশুক সেলিম, রাহাত কাজী শিউলি, স্বপ্ন কুমার, লুৎফা শাহানা, নীলিমা বেগম, আমজাদ হোসেন, জাহেদ শরীফ, ভায়লা সেলিনা।
সকলকে পরবর্তী আসরে আমন্ত্রণ জানিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি টানেন মোশাররফ হোসেন।
সাহিত্য একাডেমি নিউইয়র্কের সভায় একুশে স্মরণ
প্রকাশিত: ০২ জানুয়ারী, ২০২৪, ০২:০৪ পিএম


প্রবাস রিলেটেড নিউজ
নিউইয়র্কে অনুষ্ঠিত হলো ১৬তম ব্রুকলিন স্ট্রিট ফেয়ার
নিউইয়র্কে চিটাগাং অ্যাসোসিয়েশন অফ আমেরিকা’র সংবাদ সম্মেলন
যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী বাংলাদেশীদের মূলধারার ব্যবসা-বাণিজ্য রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত হওয়ার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ড. তিতুমীরের
নিউইয়র্কে বাংলাদেশী ডক্টর ফোরাম অব নর্থ আমেরিকা’র উদ্যোগে ডা. ডোনার ও ডা. হারুন সংবর্ধিত
নিউইয়র্ক স্টেট ডেমোক্র্যাটিক প্রাইমারী নির্বাচনে এসেম্বলিম্যান প্রার্থী জাকির চৌধুরীর ‘কমিউনিটি র্যালি’
বিজয়ের মাসেই দেশে ফিরছেন শেখ হাসিনা: দাবি যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগ নেতা মঈনু জামান চৌধুরীর
সেন্ট্রাল পার্কে বিশ্বকাপ উন্মাদনা, বিনামূল্যে ফাইনাল দেখাবে নিউইয়র্কবাসী
লালন সাঁইজির গান নিয়ে নিউ ইয়র্কে ‘মাটির গান’-এর ‘সাধুমেলা’

