পাকিস্তানে সন্ত্রাসী হামলা, বিস্ফোরণ, গুলিবর্ষণসহ বিভিন্ন ‘অপ্রীতিকর’ ঘটনার সরাসরি সম্প্রচারে নতুন বিধিনিষেধ জারি করেছে দেশটির গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রক সংস্থা। এ নির্দেশনা প্রত্যাহারের আহ্বান জানিয়েছে সাংবাদিকদের অধিকার রক্ষায় কাজ করা আন্তর্জাতিক সংগঠন কমিটি টু প্রটেক্ট জার্নালিস্টস (সিপিজে)।
শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) নিউইয়র্ক থেকে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে সিপিজে বলেছে, এসব বিধিনিষেধের কারণে সাংবাদিকদের স্বাধীনভাবে সংবাদ সংগ্রহ ও পরিবেশনের সুযোগ সীমিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
সিপিজের পর্যালোচনা করা নির্দেশনার অনুলিপি অনুযায়ী, গত ১৩ অক্টোবর পাকিস্তান ইলেকট্রনিক মিডিয়া রেগুলেটরি অথরিটি (পেমরা) দেশের সব স্যাটেলাইট টেলিভিশন চ্যানেলকে কোনো ‘দুর্ভাগ্যজনক’ বা ‘অপ্রীতিকর’ ঘটনার সরাসরি সম্প্রচার, পুনঃসম্প্রচার কিংবা সম্প্রচার থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দেয়। এ ধরনের ঘটনার মধ্যে বিস্ফোরণ, বোমা হামলা, গুলিবর্ষণ ও সন্ত্রাসী হামলা অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
নির্দেশনা অমান্য করলে সম্প্রচারমাধ্যমের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে পেমরা।
এতে বলা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তর বা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মাধ্যমে যাচাই করা তথ্যই কেবল সম্প্রচার করা যাবে। পাশাপাশি সংবাদ প্রচারে নির্দিষ্ট সময়ের বিলম্ব রাখতে হবে এবং স্বাধীন সম্পাদকীয় বোর্ড বজায় রাখতে হবে।
সিপিজের আফগানিস্তান ও পাকিস্তানবিষয়ক প্রতিনিধি ওয়ালিউল্লাহ রহমানি বলেন, বড় ধরনের নিরাপত্তা-সংক্রান্ত ঘটনার স্বাধীন সংবাদ সংগ্রহে বাধা দেওয়া এবং রাষ্ট্রীয় ও নিরাপত্তা সংস্থার অনুমোদিত তথ্যের ওপর নির্ভর করতে বাধ্য করা হলে নিরাপত্তার নামে সরকারি তথ্য নিয়ন্ত্রণ ও সংবাদে সেন্সরশিপের ঝুঁকি তৈরি হয়।
তিনি বলেন, পাকিস্তান সরকারের উচিত এ ধরনের বিস্তৃত বিধিনিষেধ প্রত্যাহার করা এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থার শাস্তিমূলক ব্যবস্থার ভয় ছাড়াই সংবাদমাধ্যমকে দায়িত্বশীল সম্পাদকীয় সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ দেওয়া।
এর আগে ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারিতেও একই ধরনের বিধিনিষেধ জারি করেছিল পেমরা। সে সময় জঙ্গি হামলার ঘটনায় টেলিভিশন চ্যানেলগুলো যাচাই না করা ও অনুমাননির্ভর তথ্য প্রচার করছে বলে অভিযোগ করেছিল সংস্থাটি।
এদিকে, গত আগস্টে পাকিস্তানের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় বিদেশি সাংবাদিক, তাঁদের সহযোগী এবং আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের সঙ্গে কাজ করা ব্যক্তিদের জন্য নতুন নির্দেশনা জারি করে। এতে ইসলামাবাদ, লাহোর ও করাচির বাইরে সংবাদ সংগ্রহের কাজে যাওয়ার আগে মন্ত্রণালয়ে নিবন্ধন এবং সনদ নেওয়ার শর্ত দেওয়া হয়।
পাকিস্তানে রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতির মধ্যে সর্বশেষ এ নির্দেশনা জারি করা হলো।
এর আগে গত ১১ অক্টোবর খাইবার পাখতুনখাওয়া প্রদেশে জরুরি অবস্থা জারি করা হয়।
সর্বশেষ নির্দেশনা নিয়ে মন্তব্য জানতে পাকিস্তানের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ে ই-মেইল পাঠিয়েছিল সিপিজে। তবে মন্ত্রণালয়টির পক্ষ থেকে কোনো জবাব পাওয়া যায়নি।