NYC Sightseeing Pass
ঢাকা, শুক্রবার, সেপ্টেম্বর ২৫, ২০২৬ | ১০ আশ্বিন ১৪৩৩
ব্রেকিং নিউজ
জাতিসংঘে দূরদর্শী ভাষণের জন্য প্রধানমন্ত্রীকে রাষ্ট্রপতির অভিনন্দন বাংলাদেশকে নিয়ে ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্পের পোস্ট ইতালির স্কুলে নিষিদ্ধ হচ্ছে বোরকা-নিকাব, বিদেশি শিক্ষার্থীর সংখ্যাতেও সীমা গাজায় নিজেদের ড্রোন বিস্ফোরণে দুই ইসরায়েলি সেনা নিহত বানসালির ‘লাভ অ্যান্ড ওয়ার’-এর পোস্টারে নতুন লুকে রণবীর বাংলাদেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থার আধুনিকায়ন নিয়ে আলোচনা কেন জাতিসংঘে ভাষণের মাঝে মেলানিয়াকে খুঁজলেন ট্রাম্প নিউইয়র্কে বোয়িংয়ের সঙ্গে ১১ উড়োজাহাজের চুক্তি বিমানের ভিসা জালিয়াতির তথ্য জানাতে অনলাইন পোর্টাল চালু করল যুক্তরাষ্ট্র বোয়িংয়ের আরও ১১ উড়োজাহাজ কেনার চুক্তি
Logo
logo

ইতালির স্কুলে নিষিদ্ধ হচ্ছে বোরকা-নিকাব, বিদেশি শিক্ষার্থীর সংখ্যাতেও সীমা


খবর   প্রকাশিত:  ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ০২:০৯ পিএম

ইতালির স্কুলে নিষিদ্ধ হচ্ছে বোরকা-নিকাব, বিদেশি শিক্ষার্থীর সংখ্যাতেও সীমা

ইতালির স্কুলগুলোতে নিষিদ্ধ হচ্ছে মুখঢাকা পোশাক। একই সঙ্গে যেসব শিক্ষার্থী ইতালীয় ভাষায় কথা বলতে পারেন না, তাদের সংখ্যা একটি শ্রেণিকক্ষে মোট শিক্ষার্থীর ৩০ শতাংশের মধ্যে রাখার পরিকল্পনাও নিয়েছে দেশটির সরকার।

নতুন এই নিয়ম ভাঙলে সর্বোচ্চ ১ হাজার ইউরো বা প্রায় ১ হাজার ১৪০ ডলার জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে বলে আলজাজিরার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

 

রবিবার জাতীয়তাবাদী রক্ষণশীল দল ব্রাদার্স অব ইতালির যুব শাখার এক সমাবেশে এসব পরিবর্তনের কথা জানান প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি। এর আগে বৃহস্পতিবার মেলোনির মন্ত্রিসভা এ বিষয়ে একটি অধ্যাদেশ অনুমোদন দেওয়া হয়। এটি কার্যকর হলে ইতালির স্কুলে বোরকা ও নিকাব পরা নিষিদ্ধ হবে।

সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী বছর থেকে যেসব শিক্ষার্থী ইতালীয় ভাষায় কথা বলতে পারেন না, তাদের সংখ্যা কোনো শ্রেণিকক্ষে মোট শিক্ষার্থীর ৩০ শতাংশের বেশি হতে পারবে না। এর উদ্দেশ্য হিসেবে সরকার বলছে, শিক্ষার্থীদের ইতালীয় ভাষা শেখার সুযোগ বাড়ানো এবং স্কুলে তাদের একীভূত হওয়ার প্রক্রিয়া সহজ করা।

 

শিক্ষামন্ত্রী জুসেপ্পে ভালদিতারা বলেন, কোনো একটি শ্রেণিকক্ষে ইতালীয় ভাষায় কথা বলতে পারে না—এমন শিক্ষার্থীর সংখ্যা বেশি হলে স্থানীয় স্কুল কর্তৃপক্ষ শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন শ্রেণিতে ভাগ করে দেবে।


 

তবে কোনো স্কুলের পক্ষে এই নিয়ম মানা সম্ভব না হলে বিশেষ ছাড় দেওয়ার সুযোগ থাকবে।

এ ছাড়া এসব স্কুলকে অতিরিক্ত ভাষা সহায়তার জন্য অর্থও দেওয়া হবে।

 

শিক্ষামন্ত্রীর হিসাব অনুযায়ী, নতুন নিয়মের আওতায় পড়বে প্রায় ১ হাজার শ্রেণিকক্ষ। দেশজুড়ে মোট শ্রেণিকক্ষের তুলনায় এটি প্রায় ০.৩ শতাংশ। নতুন নিয়মগুলো অধ্যাদেশভিত্তিক আইনের মাধ্যমে কার্যকর করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ফলে আইনটি দ্রুত কার্যকর হতে পারে।

তবে এ ক্ষেত্রে ৬০ দিনের মধ্যে সংসদের অনুমোদন নিতে হবে। এ ছাড়া ইতালির প্রেসিডেন্ট সার্জিও মাতারেল্লাকেও এতে স্বাক্ষর করতে হবে। 

 

প্রধানমন্ত্রী মেলোনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লিখেছেন, ইতালীয় ভাষা শেখার সুযোগ তৈরি করা এবং স্কুলে বোরকা ও নিকাব বন্ধের উদ্যোগ এমন বিষয়, যা সাধারণ মানুষের কাছে স্বাভাবিক ও গ্রহণযোগ্য।

তিনি বলেন, সরকার এমন একটি স্কুলব্যবস্থা চায়, যেখানে নিয়ম মেনে সবাইকে একীভূত করা হবে। একই সঙ্গে যেসব শিক্ষার্থী বেশি সমস্যায় আছে, তাদের সহায়তা দেওয়া হবে এবং সবাইকে সমান সুযোগ দেওয়ার চেষ্টা করা হবে। তবে সরকারের এই উদ্যোগ নিয়ে বিরোধীদের সমালোচনা রয়েছে।

বিরোধী রাজনীতিকদের অভিযোগ, আগামী বছরের নির্বাচনের আগে মেলোনির সরকার সংস্কৃতি ও অভিবাসন নিয়ে বিভাজন তৈরি করে রাজনৈতিক সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা করছে। তাদের দাবি, সাবেক সেনা কর্মকর্তা রবার্তো ভান্নাচ্চির নেতৃত্বাধীন উগ্র ডানপন্থী ন্যাশনাল ফিউচার দলের জনপ্রিয়তা ঠেকাতেও সরকার এসব বিষয়কে সামনে আনছে।


 

অভিবাসীদের নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর প্রচারকে কেন্দ্র করে নির্বাচনী প্রচারে স্কুলকে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে তুলে ধরেছে ন্যাশনাল ফিউচার। গত জুলাইয়ে দলটি স্কুলে বোরকা নিষিদ্ধ করার দাবি জানিয়েছিল। বিরোধী নেতারা আরো অভিযোগ করেছেন, শিক্ষার্থী ও স্কুলগুলোর বাস্তব সমস্যার সমাধানের বদলে সরকার সংস্কৃতি ও পরিচয় নিয়ে বিতর্ককে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। মধ্য-বামপন্থী ডেমোক্রেটিক পার্টির নেতা এলি শ্লেইন সরকারের অধ্যাদেশের সমালোচনা করেছেন। তার অভিযোগ, নতুন একটি আদর্শিক বিতর্কের আড়ালে সরকারি স্কুলব্যবস্থার প্রকৃত সমস্যাগুলো সমাধানে সরকারের ব্যর্থতা ঢাকার চেষ্টা করা হচ্ছে। শিক্ষক ইউনিয়নগুলোও সরকারের উদ্যোগের সমালোচনা করেছে। তাদের অভিযোগ, নতুন নিয়ম করার আগে শিক্ষকদের সঙ্গে যথেষ্ট আলোচনা করা হয়নি। পাশাপাশি এই নিয়ম বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ ও সহায়তার ব্যবস্থাও করা হয়নি।

বিশেষ করে যেসব এলাকায় অভিবাসী পরিবারের সংখ্যা বেশি, সেসব এলাকায় নতুন নিয়ম কীভাবে বাস্তবায়ন করা হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্কুল প্রধানরা।

জাতীয় প্রধান শিক্ষক সমিতির সভাপতি আন্তোনেল্লো জিয়ানেল্লি বলেন, শিক্ষার দিক থেকে এই উদ্যোগের উদ্দেশ্য গুরুত্বপূর্ণ। তবে এটিকে বাস্তবে কার্যকর করার মতো সমাধানে পরিণত করা কঠিন।

ইতালির শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষে দেশটির স্কুলগুলোর মোট শিক্ষার্থীর ১১.২ শতাংশ ছিল অন্য দেশের নাগরিক। তবে সব শ্রেণিকক্ষে বিদেশি শিক্ষার্থীর সংখ্যা সমান নয়। ওই শিক্ষাবর্ষে দেশটির মোট শ্রেণিকক্ষের ৭.৬ শতাংশে বিদেশি শিক্ষার্থীর সংখ্যা ছিল ৩০ শতাংশের বেশি।


 

সরকারের নতুন নিয়ম মূলত এসব শ্রেণিকক্ষের শিক্ষার্থীদের সংখ্যা ও বিন্যাসে পরিবর্তন আনবে। এদিকে বোরকা ও নিকাব নিষিদ্ধ করার পাশাপাশি ভাষাগত সহায়তার ব্যবস্থা করার পরিকল্পনা করেছে সরকার। ফলে নতুন নিয়ম কার্যকর হলে ইতালির স্কুলগুলোতে পোশাক, ভাষা শিক্ষা এবং বিদেশি শিক্ষার্থীদের শ্রেণিবিন্যাস- তিন ক্ষেত্রেই পরিবর্তন আসতে পারে।