কলম্বিয়ার সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী লরা সারাবিয়ার বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ এনেছেন দেশটির প্রসিকিউটাররা। অভিযোগ, তিনি নিজের ছেলের দেখাশোনার দায়িত্বে থাকা এক গৃহকর্মীকে মিথ্যা শনাক্ত করার পরীক্ষায় বসতে বাধ্য করেছিলেন।
খবর প্রকাশিত: ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১১:০৯ এএম

কলম্বিয়ার সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী লরা সারাবিয়ার বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ এনেছেন দেশটির প্রসিকিউটাররা। অভিযোগ, তিনি নিজের ছেলের দেখাশোনার দায়িত্বে থাকা এক গৃহকর্মীকে মিথ্যা শনাক্ত করার পরীক্ষায় বসতে বাধ্য করেছিলেন।
বিবিসি জানায়, গৃহকর্মীর বিরুদ্ধে সারাবিয়ার বাসা থেকে নগদ টাকাভর্তি একটি ব্যাগ চুরির অভিযোগ উঠেছিল। তবে তিনি শুরু থেকেই চুরির অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন। ঘটনাটি নিয়ে ২০২৩ সালে কলম্বিয়ার সাপ্তাহিক সংবাদপত্র সেমানায় প্রতিবেদন প্রকাশের পর ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়, সারাবিয়ার ছেলের দেখাশোনার জন্য নিয়োগ দেওয়া গৃহকর্মী মারেলবিস মেসাকে মিথ্যা শনাক্ত করার যন্ত্রের সঙ্গে যুক্ত করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছিল।
প্রসিকিউটারদের অভিযোগ, নিজের বাসা থেকে টাকা নিখোঁজ হওয়ার বিষয়টি তদন্ত করতে গিয়ে সারাবিয়া তার সরকারি ক্ষমতা ব্যবহার করেন। তিনি পুলিশকে মেসাকে জিজ্ঞাসাবাদ করার নির্দেশ দেন। প্রসিকিউটারদের মতে, এই নির্দেশ দেওয়া ছিল ক্ষমতার অপব্যবহার।
লরা সারাবিয়া ছিলেন প্রেসিডেন্ট গুস্তাভো পেত্রোর ঘনিষ্ঠ রাজনৈতিক সহযোগীদের একজন। পেত্রো ২০২২ সালে কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন এবং ২০২৬ সালের আগস্ট পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন। সারাবিয়ার বয়স তখন ছিল ৩২ বছর। পেত্রোর সরকারের গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তাদের একজন হিসেবে তিনি দ্রুতই আলোচনায় আসেন। ২০২৩ সালের জুনে প্রেসিডেন্টের দপ্তরের প্রধান কর্মকর্তার পদ থেকে সারাবিয়া পদত্যাগ করেন। পরে তাকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী করা হয়। পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব থেকেও পদত্যাগ করার পর তাকে যুক্তরাজ্যে কলম্বিয়ার রাষ্ট্রদূত হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়।
সারাবিয়া তার বিরুদ্ধে আনা সব ধরনের অন্যায় ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। এর আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি জানিয়েছিলেন, বিষয়টি তার আইনজীবীরা দেখছেন। তিনি বিচারিক কর্তৃপক্ষের প্রতি সম্মান রয়েছে বলেও জানান। সারাবিয়া বলেন, তিনি বিচারিক প্রক্রিয়ার ওপর আস্থা রাখেন এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তকে সম্মান করবেন।