খবর প্রকাশিত: ২৪ আগস্ট, ২০২৬, ১০:০৮ পিএম

নিউইয়র্ক প্রতিনিধি: যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে বসবাসরত মতলববাসীদের সামাজিক সংগঠন প্রবাসী মতলব সমিতি ইনক.-এর বার্ষিক বনভোজন ও মিলনমেলা ২০২৬ উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে। রোববার (২৩ আগস্ট) লং আইল্যান্ডের বেলমন্ট লেক স্টেট পার্কের পাইন প্যাভিলিয়নে দিনব্যাপী এ আয়োজন অনুষ্ঠিত হয়।
মনোরম প্রাকৃতিক পরিবেশে আয়োজিত এ বনভোজনে প্রবাসী মতলববাসীরা পরিবার-পরিজন নিয়ে অংশ নেন। দীর্ঘদিন পর বন্ধু, স্বজন ও পরিচিতজনদের সঙ্গে মিলিত হওয়ার সুযোগ পেয়ে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে ছিল ব্যাপক আনন্দ-উচ্ছ্বাস। খেলাধুলা, আড্ডা, গান ও সাংস্কৃতিক আয়োজনের মধ্য দিয়ে দিনটি পরিণত হয় এক আনন্দঘন মিলনমেলায়।

বেলমন্ট লেক স্টেট পার্কটি লং আইল্যান্ডের ওয়েস্ট বাবিলনে অবস্থিত। পার্কটিতে পিকনিকের জন্য প্যাভিলিয়ন, খেলাধুলার মাঠ, শিশুদের খেলার জায়গা, হাঁটার পথসহ নানা সুবিধা রয়েছে। পাইন প্যাভিলিয়নও পার্কটির নির্ধারিত প্যাভিলিয়নগুলোর একটি।
নানা আয়োজনে মুখর বনভোজন
সকাল থেকেই বনভোজনস্থলে আসতে শুরু করেন প্রবাসী মতলববাসীরা। শিশু-কিশোর থেকে শুরু করে বিভিন্ন বয়সী নারী-পুরুষের উপস্থিতিতে পাইন প্যাভিলিয়ন এলাকায় তৈরি হয় উৎসবের আবহ।

দিনব্যাপী আয়োজনের মধ্যে ছিল বিভিন্ন ধরনের খেলাধুলা ও বিনোদনমূলক কর্মসূচি। শিশু-কিশোরদের পাশাপাশি বড়দের অংশগ্রহণেও খেলাধুলা ছিল বেশ প্রাণবন্ত। বনভোজনে আগত শিশুদের মাঝে শতশত খেলনা সামগ্রী বিতরণ করা হয়। প্রবাসজীবনের ব্যস্ততা ভুলে একদিন পরিবার ও স্বজনদের সঙ্গে আনন্দ ভাগ করে নেওয়ার সুযোগ পেয়ে অংশগ্রহণকারীরা উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন। অনুষ্ঠানের সাংস্কৃতিক পর্বে সংগীত পরিবেশন করেন জনপ্রিয় শিল্পী কামরুজ্জামান বকুল, শাহ মাহবুব, নীলিমা শশী ও আফতাব জনি। শিল্পীদের পরিবেশনায় বনভোজনের আনন্দে যোগ হয় বাড়তি মাত্রা।
র্যাফেল ড্রতে আকর্ষণীয় পুরস্কার
এবারের বনভোজনের অন্যতম আকর্ষণ ছিল র্যাফেল ড্র। এতে মোট ১০টি আকর্ষণীয় পুরস্কার রাখা হয়। প্রথম পুরস্কার হিসেবে ছিল স্বর্ণের চেইন। দ্বিতীয় ও তৃতীয় পুরস্কার ছিল নগদ অর্থ। অন্যান্য পুরস্কারও ছিল আকর্ষণীয়। র্যাফেল ড্র ঘিরে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে তৈরি হয় বাড়তি উৎসাহ ও কৌতূহল। দিনব্যাপী নানা আয়োজনের পাশাপাশি পুরস্কার জয়ের প্রত্যাশায় র্যাফেল ড্রতে অংশ নেন অনেকে।

পরিবার নিয়ে অংশগ্রহণের সুযোগ
আয়োজকদের পক্ষ থেকে বনভোজনের চাঁদা নির্ধারণ করা হয়েছিল জনপ্রতি ৫০ ডলার। চার সদস্যের পরিবারের জন্য চাঁদা ছিল ১৬০ ডলার। পাঁচ বছর পর্যন্ত শিশুদের জন্য কোনো চাঁদা রাখা হয়নি। বনভোজনের টিকিট সংগ্রহের শেষ তারিখ ছিল ১৬ আগস্ট ২০২৬। তবে, বনভোজনে কমুনিটির নেতৃবৃন্দ সহ বিপুল সংখ্যক আমন্ত্রিত অতিথি উপস্থিত ছিলেন।
নেতৃত্বে নাজির উদ্দিন পাটোয়ারী ও মিয়া ফয়েজ আহমেদ
এবারের বনভোজন ও মিলনমেলার সার্বিক নেতৃত্বে ছিলেন প্রবাসী মতলব সমিতি ইনক.-এর সভাপতি মো. নাজির উদ্দিন পাটোয়ারী এবং সাধারণ সম্পাদক মিয়া ফয়েজ আহমেদ। আয়োজনের আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন মো. সফিকুল ইসলাম। সদস্য সচিব ছিলেন সরোয়ার ফারুক হোসেন এবং প্রধান সমন্বয়কারী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন সাকিল মিয়া। বনভোজনের সার্বিক আয়োজন ও তত্ত্বাবধানে ছিলেন রতন কবীর। তাদের সমন্বয়ে আয়োজকরা বনভোজনের বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করেন।
প্রবাসে মতলববাসীর ঐক্যের বন্ধন
প্রবাসী মতলব সমিতির বার্ষিক বনভোজন ও মিলনমেলার মূল উদ্দেশ্য শুধু বিনোদন নয়; প্রবাসে বসবাসরত মতলববাসীদের মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগ, সৌহার্দ্য ও ভ্রাতৃত্বের বন্ধন আরও দৃঢ় করাও এ আয়োজনের অন্যতম লক্ষ্য। প্রবাসজীবনের ব্যস্ততার কারণে অনেকের সঙ্গে নিয়মিত দেখা-সাক্ষাৎ সম্ভব হয় না। ফলে প্রতিবছরের এ মিলনমেলা হয়ে ওঠে মতলববাসীদের একে অপরের কাছে ফিরে আসার বিশেষ উপলক্ষ। পরিবার নিয়ে একত্র হওয়ার পাশাপাশি নতুন প্রজন্মের সন্তানদের নিজেদের শিকড়, সংস্কৃতি ও এলাকার মানুষের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার সুযোগও তৈরি হয়।

আয়োজনে অংশ নেওয়া প্রবাসী মতলববাসীরা বলেন, এ ধরনের আয়োজন প্রবাসে বসবাসরত একই এলাকার মানুষের মধ্যে সম্পর্ক আরও দৃঢ় করে। পাশাপাশি শিশু-কিশোরদের মধ্যেও নিজেদের এলাকার মানুষ ও সংস্কৃতির সঙ্গে পরিচিত হওয়ার সুযোগ তৈরি হয়।
খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, গান, আড্ডা ও র্যাফেল ড্রতে অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে আনন্দ-উচ্ছ্বাসে কেটে যায় পুরো দিন। প্রবাসের মাটিতে মতলববাসীর ঐক্য, সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতির প্রতীক হিসেবে এবারের বনভোজন ও মিলনমেলাও অংশগ্রহণকারীদের কাছে স্মরণীয় হয়ে থাকল।